আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৫৫]
উপরের আয়াত থেকে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে নানা রকম পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে আর তা হতে পারে শারীরিক অসুস্থতা, আপনজন হারানো, আর্থিক ক্ষতি ইত্যাদি। একজন মুমিন বান্দা যে কোন অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবেন, আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবেন আর বিপদে পড়লে ছবর করবেন। এটাই ঈমানের দাবী। কুরআনে আল্লাহ বলেন,
তোমার প্রতিপালক বলেন- তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। [সূরা গাফির/৪০, আয়াতঃ ৬০]
তোমরা বিনীতভাবে ও সংগোপনে তোমাদের রাব্বকে ডাকবে, তিনি সীমা লংঘনকারীদেরকে ভালবাসেন না। [সূরা আল-আ'রাফ/৭, আয়াতঃ ৫৫]
যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে তোমার নিকট জিজ্ঞেস করে, আমি তো (তাদের) নিকটেই, আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে আমি তার আহবানে সাড়া দেই; সুতরাং তাদের উচিত আমার নির্দেশ মান্য করা এবং আমার প্রতি ঈমান আনা, যাতে তারা সরলপথ প্রাপ্ত হয়। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৬]
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট দু‘আ অপেক্ষা অন্য কোন জিনিস অধিক মর্যাদাপূর্ণ নয়। [পাবলিশারঃ ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী, গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার, অধ্যায়ঃ ২৯/দু‘আ ও যিকর, হাদিস নম্বরঃ ৩৬৪১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আমরা সবাই কমবেশি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই। আল্লাহ তাঁর বান্দার অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা এসবের বিনিময়ে গুনাহ মাফ করে দেন বা মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। মানুষকে অসুস্থতার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা যেমন ঈমানের পরীক্ষা করেন ঠিক তেমনি নিরাময়ের উপকরনও তিনি দিয়েছেন। মানুষ অসুস্থ হলে বা কোন বিপদে পড়লে সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় বা চিকিৎসা সম্পর্কে অসংখ্য হাদিসের আমল রয়েছে। কাজেই কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আমলগুলো হচ্ছে বৈধ আমল। আর এর বাইরে যা কিছু করা হয় তার মধ্যে কিছু কাজ হল সরাসরি কুফুরি ও শিরক। তাই এই ব্যাপারে সবার জানা উচিৎ যেন নিজের অজান্তেই ঝাড়ফুঁকের নামে বড় গুনাহে লিপ্ত হবার সম্ভাবনা না থাকে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন। এবার আসুন, আরো বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি ইনশাআল্লাহ।
আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ঈমানদার ব্যক্তির শরীরে একটি মাত্র কাটার আঘাত কিংবা তার চাইতেও কোন নগণ্য আঘাত লাগলে আল্লাহ তা’আলা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন কিংবা তার একটি গুনাহ মোচন করে দেন। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৬। সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৫৬]
আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কোন মুসলিমের উপর কোন বিপদ নিপতিত হলে তার বিনিময়ে তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়, এমনকি ক্ষুদ্রতর কোন কাটা বিদ্ধ হলেও। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৬। সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৫৯]
আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, কোন ঈমানদার ব্যক্তির এমন কোন ব্যথা-বেদনা, রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট পৌছে না, এমনকি দুর্ভাবনা পর্যন্ত, যার প্রতিদানে তার কোন গুনাহ ক্ষমা করা হয় না। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৬। সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬২]
রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কেঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নি যার নিরাময়ের উপকরন তিনি সৃষ্টি করেন নি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৭৬]
উসামা ইবন শারীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন সময় আসি, যখন তাঁর সাহাবীগণ তাঁর চারপাশে এমন ভাবে বসে ছিল, যেন তাঁদের মাথার উপর পাখী বসে আছে (অর্থাৎ শান্তভাবে)। এরপর আমি সালাম করি এবং বসে পড়ি। এ সময় আরবের লোকেরা এদিক-সেদিক থেকে সেখানে সমবেত হয় এবং তারা বলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি চিকিৎসা করাব? তিনি বলেন : হ্যাঁ, তোমরা রোগের চিকিৎসা করাবে। কেননা, আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নি, যার চিকিৎসার জন্য ঔষধের ব্যবস্থা রাখেন নি; তবে বার্ধক্য এমন একটি রোগ যার কোন চিকিৎসা নেই। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮১৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উসামা ইবনে শরীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় বেদুইনরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলো, এতে কি আমাদের গুনাহ হবে, এতে কি আমাদের গুনাহ হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহর বান্দাগণ! কোন কিছুতেই আল্লাহ গুনাহ রাখেননি, তবে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ইজ্জতহানি করে তাতেই গুনাহ হবে। তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যদি (রোগীর) চিকিৎসা না করি তবে কি আমাদের গুনাহ হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা করো। কেননা মহান আল্লাহ বার্ধক্য ছাড়া এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার সাথে প্রতিষেধকেরও ব্যবস্থা করেননি (রোগও রেখেছেন, নিরাময়ের ব্যবস্থাও রেখেছেন)। তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বান্দাকে যা কিছু দেয়া হয় তার মধ্যে উত্তম জিনিস কী? তিনি বলেনঃ সচ্চরিত্র। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৩৬, হাদিসের মানঃ সহীহ]
হারাম জিনিস দিয়ে তৈরি ওষুধঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) হারাম জিনিষ দিয়ে তৈরী ঔষধ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৩২, হাদিসের মানঃ সহীহ]
কালো জিরাঃ
খালিদ ইবনু সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের উদ্দেশ্যে) বের হলাম। আমাদের সংগে ছিলেন গালিব ইবনু আবযার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এরপর আমরা মদিনায় আসলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখাশোনা করতে আসেন ইবনু আবূ আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এই কালো জিরা সংগে রেখো। এ থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে খাবে, তারপর তন্মধ্যে যায়তুনের কয়েক ফোটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এদিক-ওদিকের ছিদ্র পথে ফোটা ফোটা করে ঢুকিয়ে দেবে। কেননা আয়িশা (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ এই কালো জিরা 'সাম' ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ সাম- কি? তিনি বললেনঃ সাম- অর্থ মৃত্যু। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৮৫]
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এই কালজিরা ব্যবহার করবে। কেননা, এতে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের প্রতিষেধক রয়েছে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩১/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ২০৪৮, হাদিসের মানঃ সহীহ]
শিঙ্গা লাগানো (হিজামা), মধু পান করা, ঝাড়ফুঁক (রুকিয়া) গ্রহণ করা ও আগুন দিয়ে দাগ দেয়াঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রোগমুক্তি তিনটি জিনিসের মধ্যে নিহিত। শিঙ্গা লাগানোতে, মধু পানে এবং আগুন দিয়ে গরম দাগ দেওয়ার মধ্যে। তবে আমি আমার উম্মতকে আগুন দিয়ে গরম দাগ দিতে নিষেধ করি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৭৯]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টিজাত দ্রব্য ও মধু বেশী পছন্দ করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৮০]
জাবির ইবনু আবদুল্রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের ঔষধসমূহের কোনটির মধ্যে যদি কল্যান বিদ্যমান থেকে থাকে তাহলে তা রয়েছে শিঙ্গাদানের মধ্যে কিংবা মধু পানের মধ্যে কিংবা আগুনের দ্বারা ঝলসিয়ে দেয়ার মধ্যে। তবে তা রোগ অনুযায়ী হতে হবে। আর আমি আগুন দ্বারা দাগ দেওয়াকে পছন্দ করি না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৮১]
আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ আমার ভাইয়ের পেটে অসুখ হয়েছে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি দ্বিতীয়বার আসলে তিনি বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। সে তৃতীয়বার আসলে তিনি বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। এরপর লোকটি পুনরায় এসে বললঃ আমি অনুরূপই করেছি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ সত্য বলেছেন, কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেট অসত্য বলছে। তাকে মধু পান করাও। সে তাকে মধু পান করাল। এবার সে আরোগ্য লাভ করল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৮২]
আসিম ইবনু উমর ইবনু কাতাদা থেকে বর্ণিত যে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) অসুস্থ মুকান্নাকে দেখতে যান। এরপর তিনি বললেনঃ আমি সরবো না, যতক্ষ না তাকে শিঙ্গা লাগানো হয়। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি নিশ্চয় এর (শিঙ্গার) মধ্যে রয়েছে নিরাময়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৯৪]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে-বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং শিঙ্গা প্রয়োগকারী বক্তিকে পারিশ্রমিক দিয়েছেন আর তিনি (শ্বাস দ্বারা) নাকে ঔষধ টেনে নিয়েছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৮৯]
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের জনৈক পরিবারের লোকদের বিষাক্ত দংশন ও কান ব্যথা জনিত কারণে ঝাঁড়ফুক গ্রহণ করার জন্য অনূমতি দেন। আনাস (রাঃ) বলেন আমাকে পাঁজর ব্যথা রোগের কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবিত থাকাকালে আগুন দিয়ে দাগ দেয়া হয়েছিল। তখন আমার নিকট উপস্থিত ছিলেন আবূ তালহা আনাস ইবনু নাযর এবং যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)। আর আবূ তালহা (রাঃ) আমাকে দাগ দিয়েছিলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩১০]
ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তপ্ত লোহা দ্বারা দাগ দিতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, আমি উত্তপ্ত লোহার দাগ লাগালে ব্যর্থতা ও বিফলতা ছাড়া আর কিছু পাইনি। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৯০, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রোগীকে এবং কারো মৃত্যুর কারণে শোকাতুর ব্যাক্তিকে তরল জাতীয় খাদ্য গ্রহনের আদেশ দিতেন। তিনি বলতেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, 'তালবীনা' রোগাক্রান্ত ব্যাক্তির কলিজা দৃঢ় করে এবং অনেক দুশ্চিন্তা দূর করে দেয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৮৭]
চন্দন কাঠ ব্যবহারঃ
উম্মে কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি তোমরা ভারতীয় এই চন্দন কাঠ ব্যবহার করবে। কেননা তার মধ্যে সাত ধরনের চিকিৎসা (নিরাময়) রয়েছে। শ্বাসনালীর ব্যথার জন্য এর (ধোয়া) নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়। নিউমোনিয়া দূর করার জন্যও তা সেবন করা যায়। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমার এক শিশু পুত্রকে নিয়ে এলাম, সে খাবার খেতে চাইত না। এ সময় সে তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনার জন্য ডেকে পাঠালেন। এরপর তিনি কাপড়ে পানি ঢেলে দিলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৯০]
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে শিঙ্গা প্রয়োগের পারিশ্রমিক প্রদানের ব্যপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়েছেন। আবূ তায়বা তাকে শিঙ্গা লাগায়। এরপর তিনি তাকে দুই সা' খাদ্যবস্তু প্রদান করেন। সে তার মালিকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করলে তারা তার থেকে পারিশ্রমিকের পরিমান লাঘব করে দেয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ তোমরা যে সকল জিনিসের দ্বারা চিকিৎসা কর সেগুলোর মখ্যে সবচেয়ে উত্তম হল শিঙ্গা লাগানো এবং সামুদ্রিক চন্দন কাঠ ব্যাবহার করা। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের শিশুদের জিহবা তালু টিপে কষ্ট দিও না। বরং তোমরা চন্দন কাঠ (ধোয়া) ব্যবহার কর। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৯৩]
ঝাড়-ফুঁক অপছন্দনীয়ঃ
আফফান ইবন মুগীরা ইবন শু’বা তার পিতা মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দাগ নেয় বা ঝাড়-ফুঁক গ্রহণ করে সে তাওয়াককুল থেকে মুক্ত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩১/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ২০৬১, হাদিসের মানঃ সহীহ]
মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি তপ্ত লোহা দ্বারা (দেহে) দাগ নেয় বা ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করায় সে তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা) থেকে বিচ্যুত হলো। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৮৯, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বর, বদ নজর এবং কারবংকলের ক্ষেত্রে ঝাড়-ফুঁকের অনুমতি দিয়েছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩১/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ২০৬২, হাদিসের মানঃ সহীহ]
যে ব্যক্তি ঝাড়-ফুঁক করে নাঃ
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদ-নযর কিংবা বিষাক্ত দংশন ব্যতিরেকে অন্য কোন ব্যাপারে ঝাড়ফুঁক নেই। বর্ননাকারী বলেন, এরপর এ হাদীস আমি সা'ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সামনে সকল উম্মাতকে পেশ করা হয়েছিল। (তখন আমি দেখেছি) দু'একজন নবী পথ অতিক্রম করতে লাগলেন এমতাবস্থায় যে, তাদের সংগে রয়েছে লোকজনের ছোট ছোট দল। কোন কোন নবী এমনও রয়েছেন যার সঙ্গে একজনও নেই। অবশেষে আমার সামনে তুলে ধরা হল বিশাল সমাবেশ। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ এটা কি? এ কি-আমার উম্মত?
উত্তর দেয়া হলঃ না, ইনি মূসা (আলাইহিস সালাম) এর সঙ্গে তার কাওম। আমাকে বলা হলঃ আপনি ঊর্ধাকাশের দিকে তাকান। তখন দেখলামঃ বিশাল একটি দল যা দিগন্তকে ঢেকে রখেছে। তারপর আমাকে বলা হলঃ আকাশের দিগন্তের এদিক ওদিক দৃষ্টিপাত করুন। তখন দেখলাম বিশাল একটি দল, যা আকাশের দিগন্তসমূহ ঢেকে দিয়েছে। তখন বলা হল এরা হলঃ আপনার উম্মত। আর তাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যাক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে চলে গেলেন। উপস্থিতদের কাছে কথাটির কোন ব্যাখ্যা প্রদান করলেন না। (যে বিনা হিসাবের লোক কারা হবে?) ফলে উপস্থিত লোকদের মধ্যে তারা বিতর্ক শুরু হল। তারা বললঃ আমরা আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি এবং তার রাসুলের অনুসরণ করে থাকি, সুতরাং আমরাই তাদের অন্তর্ভুক্ত। কিংবা তারা হল আমাদের সে সকল সন্তান-সন্ততি যারা ইসলামের যুগে জন্মগ্রহন করেছে। আর আমাদের জন্ম হয়েছে জাহেলী যুগে।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সংবাদ পৌছলে তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তারা হল সে সব লোক যারা মন্ত্র পাঠ করে না, বদফালী (শুভ অশুভ) গ্রহন করে না এবং আগুনের সাহায্যে দাগ লাগায় না। বরং তারা তো তাদের রবের উপরই ভরসা করে থাকে। তখন উক্কাসা ইবনু মিহসান (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাদের মধ্যে কি আমি আছি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আরেকজন দাঁড়িয়ে বললঃ তাদের মধ্যে কি আমিও আছি? তিনি বললেনঃ উক্কাসা এ সুযোগ তোমার আগেই নিয়ে গেছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩০০]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করেন এবং বলেনঃ আমার সামনে (পূর্ববর্তী নাবীগণের) উম্মাতদের পেশ করা হল। (আমি দেখলাম) একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাচ্ছেন তার সাথে রয়েছে মাত্র একজন লোক এবং আর একদল নাবী যার সঙ্গে রয়েছে দু' জন লোক। অন্য এক নাবীকে দেখলাম, তার সঙ্গে আছে একটি দল, আর একজন নাবী তার সাথে কেউ নেই। আবার দেখলাম, একটি বিরাট দল যা দিগন্ত জুড়ে আছে। আমি আকাঙ্খা করলাম যে এ বিরাট দলটি যদি আমার উম্মাত হতো। বলা হল এটা মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তার কাওম। এরপর আমাকে বলা হলঃ এইদিকে দেখুন। দেখলাম, একটি বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। আবার বলা হলোঃ এ দিকে দেখুন। ওদিকে দেখুন। দেখলাম বিরাট বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। বলা হলঃ ঐ সবই আপনার উম্মত এবং ওদের সাথে সত্তর হাজার লোক এমন আছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে।
এরপর লোকজন এদিক ওদিক চলে গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর তাদের (সত্তর হাজারের) ব্যাখ্যা করেন নি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগগ এ নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু করে দিলেন। তারা বলাবলি করলেন আমরা তো শিরকের মধ্যে জন্মলাভ করেছি, পরে আল্লাহ ও তার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ঈমান এনেছি। বরং এরা আমাদের সন্তানরাই হবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ কথা পৌছলে তিনি বলেনঃ তারা (হবে) ঐ সব লোক যারা অবৈধভাবে মঙ্গল অমঙ্গল নির্ণয় করে না, ঝাড় ফুঁক করে না এবং আগুনে পোড়ানো লোহার দাগ লাগায় না, আর তারা তাদের রবের উপর একমাত্র ভরসা রাখে। তখন উক্কাশা ইবনু মিহসান (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললো ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি তাদের মধ্যে আছি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আর একজন দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি তাদের মধো আছি? তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে উক্কাশা তোমাকে অতিক্রম করে গেছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৪১]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ববতী উম্মাতদের আমার সমীপে পেশ করা হয়। কোন নাবী তাঁর অনেক উম্মাতকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন উম্মাতকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন নাবীর সঙ্গে রয়েছে দশজন উম্মাত। কোন নাবীর সঙ্গে পাঁচজন আবার কোন নাবী একা একা যাচ্ছেন। নজর করলাম হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। আমি বললামঃ হে জিবরীল! ওরা কি আমার উম্মাত? তিনি বললেনঃ না। তবে আপনি ঊধর্বলোকে নজর করুন! আমি নজর করলাম, হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। ওরা আপনার উম্মাত। আর তাদের সামনে রয়েছে সত্তর হাজার লোক তাদের কোন হিসাব হবে না হবে না তাদের কোন আযাব।
আমি বললাম, তা কেন? তিনি বললেনঃ তারা কোন দাগ লাগাত না, ঝাড়ফুঁকের শরণাপন্ন হত না এবং কুযাত্রা মানত না। আর তারা কেবল তাদের প্রভূর ওপরই ভরসা করত। তখন উক্কাশা ইবনু মিহসান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আপনি আমার জন্য দোয়া করুন আল্লাহ তা'আলা যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি একে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর। এরপর আরেক ব্যাক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমার জন্য দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উক্কাশাতো দোয়ার ব্যাপারে তোমার চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৮/কোমল হওয়া, হাদিস নম্বরঃ ৬০৯৮]
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আগের উম্মাতদের আমার সামনে পেশ করা হয়। কোন নাবী তাঁর বহু উম্মাতকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন নাবীর সঙ্গে অপেক্ষাকৃত ছোট দল। কোন নবীর সঙ্গে আছে দশজন উম্মাত। কোন নবীর সাথে আছে পাঁচজন আবার কোন নাবী একা একা যাচ্ছেন। দৃষ্টি দিতেই, হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। জিজ্ঞেস করলামঃ হে জিব্রীল! ওরা কি আমার উম্মাত? তিনি বললেন, না। তবে আপনি শেষ প্রান্তের দিকে তাকিয়ে দেখুন! আমি দৃষ্টি দিলামঃ হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। তিনি বললেন, ওরা আপনার উম্মাত। আর তাদের অগ্রবর্তী সত্তর হাজার লোকের কোন হিসাব হবে না, তাদের কোন আযাব হবে না।
আমি বললাম, কারণ কী! তিনি বললেন, তারা শরীরে দাগ লাগাত না, ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিত না এবং শুভ অশুভ লক্ষণ মানত না। আর তারা কেবল তাদের প্রতিপালকের ওপরই নির্ভর করত। তখন উক্কাশা ইবনু মিহসান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে দাঁড়িয়ে বললেন, আপনি আমার জন্য দু‘আ করুন আল্লাহ্ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্ তুমি তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর।’’ এরপর আরেক জন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমার জন্য দু‘আ করুন আল্লাহ্ যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যাপারে উক্কাশা তোমার আগে চলে গেছে। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৮১/সদয় হওয়া, হাদিস নম্বরঃ ৬৫৪১]
জ্বরঃ
আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়। কাজেই তোমরা পানির দ্বারা তা ঠান্ডা করো। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩১৪]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ হুরায়রা (রাঃ) -কে সাথে নিয়ে জ্বরাক্রান্ত এক রোগীকে দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগীকে বললেনঃ সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, এটা আমার আগুন যা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার উপর চাপিয়ে দেই, যাতে আখেরাতে তার প্রাপ্য আগুনের বিকল্প হয়ে যায়। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৭০, হাদিসের মানঃ সহীহ]
রাফে ইবনে খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ জ্বর হলো জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। তোমরা পানি ঢেলে তা ঠান্ডা করো। তিনি আম্মার (রাঃ)-র এক পুত্রকে দেখতে গেলেন এবং বললেনঃ ‘‘ইকশিফিল বাসা রববান নাস ইলাহান নাস ’’ ( হে মানুষের রব, হে মানবের ইলাহ! আপনি ক্ষতি বিদূরিত করুন)। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৭৩, হাদিসের মানঃ সহীহ]
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উম্মু সায়িব কিংবা উম্মুল মুসাইয়্যাব (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে বললেন, তোমার কি হয়েছে হে উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব! কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, ভীষণ জ্বর, একে আল্লাহ বর্ধিত না করুন। তখন তিনি বললেন, তুমি জ্বরকে গালমন্দ করো না। কেননা জ্বর আদাম সন্তানের পাপরাশ মোচন করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচিকা দূরীভূত করে। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৬/সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬৪]
প্লেগঃ
আবদুল্লাহ ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, উমর (রাঃ) সিরিয়া যাওযার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি 'সারগ' নামক স্থানে পৌছলে তার কাছে সংবাদ আসলো যে সিরিয়া এলাকায় মহামারী দেখা দিয়েছে। তখন আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তাকে অবহিত করলেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা কোন স্থানে এর প্রাদূর্ভাবের কথা শোন, তখন সে এলাকায় প্রবেশ করো না; আর যখন এর পাদূর্ভাব দেখা দেয়, আর তোমরা সেখানে বিদ্যমান থাকো তাহলে তা থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩১৯]
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অবহিত করেন যে এটি হচ্ছে এক প্রকারের আযাব। আল্লাহ যার উপর তা পাঠাতে ইচ্ছা করেন পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনদের জন্য রহমত স্বরূপ বানিয়ে দিয়েছেন। অতএব গ্নেগ রোগে কোন বান্দা যদি ধৈর্য ধারণ করে এই বিশ্বাস নিয়ে আপন শহরে অবস্থান করতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখছে তা ব্যতীত আর কোন বিপদ তার উপর আসবে না তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহীদ ব্যাক্তির সাওয়াবের সমান সাওয়াব। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩২৩]
জীন এবং বদ নযরঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে ওফাত পান সেই রোগের সময়ে তিনি নিজ দেহে মুআব্বিযাত (সূরা নাস ও ফালাক) পড়ে ফুঁক দিতেন। এরপর যখন রোগ তীব্রে হয়ে গেল, তখন আমি সেগুলো পড়ে ফুঁক দিতাম। আর আমি তার নিজের হাত তার দেহের উপর বুলিয়ে দিতাম। কেননা তাঁর হাতে বরকত ছিল। রাবী বলেনঃ আমি যুহরীকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কিভাবে ফুঁক দিতেন? তিনি বললেনঃ তিনি তার দুই হাতের উপর ফুঁক দিতেন, এরপর সেই হস্তদ্বয় দ্বারা আপন মুখমণ্ডল বুলিয়ে নিতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩২৪]
উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে একটি মেয়েকে দেখলেন যে, তার চেহারায় কালিমা রয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ তাকে ঝাড়ফুক করাও, কেননা তার উপর (বদ) নযর লেগেছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩২৮]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আপন বিছানায় আসতেন, তখন তিনি তার উভয় হাতের তালুতে সূরা ইখলাস এবং মুআওব্বিযাতায়ন অর্থ্যৎ সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফুঁক দিতেন। তারপর উভয় তালু দ্বারা আপন চেহারা ও দু' হাত শরীরের যতদূর পৌছায় ততদুর পর্যন্ত মাসাহ করতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অসুস্থ হন তখন তিনি আমাকে অনুরূপ করার নির্দেশ দিতেন। ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু শিহাব (রহঃ) কে, যখন তিনি তার বিছানায় শুতে যেতেন, তখন অনুরূপ করতে দেখেছি। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৩৭]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ বদ-নজর লাগা একটি সত্য ব্যাপার। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৩৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআওওযাতাইন নাযিল না হওয়া পর্যন্ত জীন এবং বদ নযর থেকে পানাহ চাইতেন। পরে সুরাদ্বয় নাযিল হওয়ার পর এই দু’টিকেই গ্রহণ করেন তা ছাড়া অন্য সব ছেড়ে দেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩১/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ২০৬৪, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীনের কুদৃষ্টি এবং মানুষের কুদৃষ্টি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরে যখন সূরা ফালাক এবং সূরা নাস নাযিল হলো, তখন তিনি ঐ সূরাদ্বয় পড়া আরম্ভ করলেন এবং অন্যগুলো পরিত্যাগ করলেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৯৩, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতেই যখন শয্যায় আশ্রয় নিতেন তখন তাঁর দুই অঞ্জলী একত্র করে তাতে ফুঁ দিতেন। সে সময় কুল হুয়াল্লাহ আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল-ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন-নাস পাঠ করতেন। তারপর উভয় হাতে যথাসম্ভব দেহে মাসেহ করতেন, মাথা চেহারা এবং শরীরের সামনের দিক থেকে তিনি তা শুরু করতেন। এ ভাবে তিনি তিনবার করতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, হাদিস নম্বরঃ ৩৪০২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
বদ নযর লাগা সত্য এবং এর কারনে ঝাড়ফুঁক ও গোসল করানোঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বদ নযর লাগা সত্য। আর তিনি উল্কি আঁকতে (খোদাই করতে) নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩২৯]
উবায়দ ইবন রিফাআ আয-যুরাকী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আসমা বিনত উমায়স রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, জা‘ফরের সন্তানদের খুব তাড়াতাড়ি নজর লাগে। আমি কি তাদের ঝাড়-ফুঁক করাতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কোন জিনিস যদি তকদীরকে অতিক্রম করার মত হত তবে বদ নযর তা অবশ্যই অতিক্রম করতে পারত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩১/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ২০৬৫, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করেছেন কিংবা তিনি বলেছেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন বদ নযরের কারণে ঝাড়ফুঁক গ্রহনের। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩২৭]
আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তির বদ-নজর অন্যের উপর লাগতো, তাকে উযূ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হতো। এরপর ঐ পানি দিয়ে তাকে গোসল করানো হতো, যার উপর বদ-নজর লাগতো। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৪০, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ উমামা ইবনে হুনাইফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমের ইবনে রবীআ (রাঃ) সাহল ইবনে হুনাইফ (রাঃ)-র নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন গোসল করছিলেন। আমের (রাঃ) বলেন, আমি এমন খুবসুরত সুপুরুষ দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন নারীকেও এরূপ সুন্দর দেখিনি, যেমন আজ দেখলাম। অতঃপর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহল (রাঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো এবং তাঁকে বলা হলো, ধরাশায়ী সাহলকে রক্ষা করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কাকে অভিযুক্ত করছো? তারা বললো, আমের ইবনে রবীআকে। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ বদনজর লাগিয়ে তার ভাইকে কেন হত্যা করতে চায়? তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের মনোমুগ্ধকর কিছু দেখলে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে। অতঃপর তিনি পানি নিয়ে ডাকলেন, অতঃপর আমেরকে উযু করতে নির্দেশ দিলেন। তিনি তার মুখমন্ডল, দু’ হাত কনুই পর্যন্ত, দু’ পা গোছা পর্যন্ত এবং লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। তিনি আমেরকে পাত্রের (অবশিষ্ট) পানি সাহেলের উপর ঢেলে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি সাহলের পেছন দিক থেকে পানি ঢেলে দেয়ার জন্য আমেরকে নির্দেশ দেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫০৯, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করাঃ
উকবা ইবন আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক জিহাদের সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উটনী টানছিলাম। তিনি বললেনঃ হে উাকবা! বল! আমি সেদিকে লক্ষ্য করলাম। তিনি আবার বললেন, বল। আমি সেদিকে লক্ষ্য করলাম। তিনি তৃতীয়বার একই কথা বললেন। আমি বললাম, কী বলব? তিনি বললেনঃ বল, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। তিনি সূরা শেষ করলেন। এরপর তিনি কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক পাঠ করলে আমি তাঁর সংগে পাঠ করলাম। তিনি এটিও শেষ করলেন। তারপর বললেন, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস, তাঁর সঙ্গে আমিও তা পড়লাম। তিনি এটিও শেষ করলেন। তারপর বললেনঃ এই সূরাগুলো হতে উত্তম কোন আশ্রয় কেউ গ্রহণ করে না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, হাদিস নম্বরঃ ৫৪২৯, হাদিসের মানঃ সহীহ]
ইবন আবিস জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে ইবন আবিস! যা দ্বারা লোক আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে, এদের মধ্যে যা উত্তম, তা কি আমি তোমাকে বলবো না? অথবা তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে অবহিত করব না? সে বললোঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তা হলো, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস-এ দু’টি সূরা। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৩১, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্ভাগ্য, শত্রুর আনন্দ, অপমৃত্যু ও দুর্বিষহ বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৯১, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি পাগলামী, কুষ্ঠ রোগ এবং শ্বেতরোগ এবং অতি মন্দ রোগ ব্যাধি হতে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৯২, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ আইয়ুব আল-আনসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তার খেজুর বাগানে একটি ছোট মাচান ছিল। তিনি তাতে শুকনো খেজুর রাখতেন। রাতে শাইতান জিন এসে মাচান হতে খেজুর নিয়ে যেত। তিনি এ বিষয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নালিশ করলেন। তিনি বললেন; যাও, তুমি যখন এটিকে দেখবে তখন বলবে, বিসমিল্লাহ্, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডাকে তুমি সাড়া দাও।
বর্ণনাকারী বলেন, জিন আসতেই তিনি তাকে ধরে ফেললেন। সে তখন কসম করে বলল যে, সে আর কখনও আসবে না। কাজেই তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আসলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার বন্দী কি করেছে? তিনি বললেন, সে শপথ করেছে যে, সে আর কখনও আসবে না। তিনি বললেনঃ সে মিথ্যা বলেছে এবং সে তো মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাকে আবার ধরলেন। এবারও সে শপথ করল যে, সে আর কখনো আসবে না। তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কি হে! তোমার বন্দীর কি খবর? তিনি বললেন, সে কসম করে বলেছে যে, সে আর আসবে না, (কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি)। তিনি বললেনঃ সে এবারও মিথ্যা বলেছে, আর সে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত।
বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আবারো তাকে ধরে ফেললেন এবং বললেন, আমি তোকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট না নিয়ে ছাড়ছি না। সে বলল, আমি আপনাকে একটি বিষয় স্মরণ করাতে চাই। আপনি আপনার ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেন। তাহলে শাইতান বা অন্য কিছু এতে প্রবেশ করতে পারবে না।
এবার তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার বন্দী কি করেছে? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে জিনের কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি বললেনঃ সে মিথ্যাবাদী হলেও এ কথাটা সত্য বলেছে। [সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী, অধ্যায়ঃ ৪২/কুরআনের ফাযীলাত, হাদিস নম্বরঃ ২৮৮০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
খাওলা বিনতে হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ কোন গন্তব্যে পৌঁছে যদি এই দোয়া পড়েঃ ‘‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’’ (আমি আল্লাহ পাকের কল্যাণকর বাক্যাবলীর উসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি), তাহলে সে স্থান থেকে বিদায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোন কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫৪৭, হাদিসের মানঃ সহীহ]
উসমান ইবনে আবুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তায়েফের প্রশাসক নিযুক্ত করলেন। (তথায়) নামাযের মধ্যে আমার সামনে কিছু বাধা আসতে লাগলো। ফলে আমার মনে থাকতো না যে, আমি কত রাক‘আত নামায পড়েছি। আমার এই অবস্থা লক্ষ্য করে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সাক্ষাত করার জন্য রওয়ানা হলাম। তিনি (আমাকে দেখে) বলেনঃ আবুল আসের পুত্র নাকি? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কেন এসেছো? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! নামাযের মধ্যে আমার সামনে কিছু বাধা আসে। ফলে আমি বলতে পারি না যে, আমি কত রাক‘আত পড়েছি। তিনি বলেনঃ এটা শয়তান। আমার নিকট এসো। আমি তাঁর নিকট এসে হাঁটু গেড়ে বসলাম। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে আমার বুকে মৃদু আঘাত করলেন এবং আমার মুখে লালা দিয়ে তিনবার বলেনঃ আল্লাহর শত্রু! ভেগে যা। অতঃপর তিনি বলেনঃ যাও, নিজের কাজে যোগ দাও। উসমান (রাঃ) বলেন, আমার জীবনের শপথ! এরপর থেকে শয়তান আমার অন্তরে আর তালগোল পাকাতে পারেনি। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫৪৮, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন রোগীর নিকট এলে তিনি এই দোয়া করতেনঃ ‘‘আযহিবিল বাসা রববান নাস ওয়াশফে আনতাশ শাফী লা শিফাআন ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান’’ (হে মানুষের প্রভু! ব্যাধি ও কষ্ট দূর করে দাও, রোগমুক্তি দান করো, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য দানই আসল, যা কোন রোগকেই ছাড়ে না)। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫২০, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আংগুলে লালা লাগিয়ে রোগীর জন্য এই বলে দোয়া করতেনঃ ‘‘বিসমিল্লাহ তুরবাতু আরদিনা বিরীকাতি বাদিনা লিয়াশফা সাকীমুনা বিইযনি রব্বিনা ’’ (আল্লাহর নামে আমাদের এ যমীনের মাটি আমাদের কারো লালার সাথে মিশিয়ে দিলাম, যেন তাতে আমাদের প্রভুর নির্দেশে আমাদের রোগী আরোগ্য লাভ করে)। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫২১, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জিবরাঈল (আ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি রোগাক্রান্ত হয়েছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। জিবরীল (আ) বলেন, ‘‘বিছমিল্লাহি আরকীকা মিন কুল্লি শায়ইন ইউযীকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আয়নিন আও হাসিদিন, আল্লাহ ইয়াশফীকা বিসমিল্লাহি আরকীকা ’’ (আমি আল্লাহর নামে এমন প্রতিটি জিনিস থেকে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি যা আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রতিটি সৃষ্টিজীবের এবং প্রতিটি চোখের এবং প্রতিটি হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আমি আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি)। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫২৩, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন পরিবারের কোন রোগী-দর্শন করার সময় নিজের ডান হাত তার ব্যথার স্থানে ফিরাতেন এবং এ দো‘আটি পড়তেন, ‘‘আযহিবিল বা’স, রাব্বান্না-স, ইশফি আন্তাশ শা-ফী, লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উক, শিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাক্বামা।’’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তোমারই আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। তুমি এমনভাবে রোগ নিরাময় কর, যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়। [রিয়াযুস স্বা-লিহীন (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৭/রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ, হাদিস নম্বরঃ ৯০৭, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি সাবেত (রাহিমাহুল্লাহ)কে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মন্ত্র দ্বারা ঝাড়ফুঁক করব না?’ সাবেত বললেন, ‘অবশ্যই।’ আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এই দো‘আ পড়লেন, ‘‘আল্লাহুম্মা রাব্বান্না-স, মুযহিবাল বা’স, ইশফি আন্তাশ শা-ফী, লা শা-ফিয়া ইল্লা আন্ত্, শিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাক্বামা।’’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তুমি ছাড়া আরোগ্যকারী আর কেউ নেই। তুমি এমনভাবে রোগ নিরাময় কর, যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়। [রিয়াযুস স্বা-লিহীন (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৭/রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ, হাদিস নম্বরঃ ৯০৮, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ আব্দুল্লাহ ‘উসমান ইবনে আবুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ঐ ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি তার দেহে অনুভব করছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, ‘‘তুমি তোমার দেহের ব্যথিত স্থানে হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ এবং সাতবার ‘আ‘উযু বি‘ইয্যাতিল্লাহি অক্বুদরাতিহী মিন শার্রি মা আজিদু অউহাযিরু’ বল।’’ অর্থাৎ আল্লাহর ইজ্জত এবং কুদরতের আশ্রয় গ্রহণ করছি, সেই মন্দ থেকে যা আমি পাচ্ছি এবং যা থেকে আমি ভয় করছি। [রিয়াযুস স্বা-লিহীন (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৭/রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ, হাদিস নম্বরঃ ৯১০, হাদিসের মানঃ সহীহ]
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এমন কোন রুগ্ন মানুষকে সাক্ষাৎ করবে, যার এখন মরার সময় উপস্থিত হয়নি এবং তার নিকট সাতবার এই দো‘আটি বলবে, ‘আসআলুল্লাহাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আঁই য়্যাশ্ফিয়াক’ (অর্থাৎ আমি সুমহান আল্লাহ, মহা আরশের প্রভুর নিকট তোমার আরোগ্য প্রার্থনা করছি), আল্লাহ তাকে সে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন।’’ [রিয়াযুস স্বা-লিহীন (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৭/রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ, হাদিস নম্বরঃ ৯১১, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থ?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ।’’ জিবরীল তখন এই দো‘আটি পড়লেন, ‘বিসমিল্লা-হি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীকা, অমিন শার্রি কুল্লি নাফসিন আউ ‘আইনি হা-সিদ, আল্লা-হু য়্যাশফীকা, বিসমিল্লা-হি আরক্বীকা।’
অর্থাৎ আমি তোমাকে আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যেক কষ্টদায়ক বস্তু থেকে এবং প্রত্যেক আত্মা অথবা বদনজরের অনিষ্ট থেকে মুক্তি পেতে ঝাড়ছি। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাকে ঝাড়ছি। [রিয়াযুস স্বা-লিহীন (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৭/রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ, হাদিস নম্বরঃ ৯১৩, হাদিসের মানঃ সহীহ]
সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদির দংশন ও ব্যথার জন্য ঝাড়ফুঁকঃ
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাপ ও বিছার দংশনে ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫১৭, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদের পিতা আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আয়িশা (রাঃ) কে বিষাক্ত প্রানীর দংশনের কারণে ঝাড়-ফুঁক গ্রহনের ব্যাপার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব রকমের বিষাক্ত প্রানীর দংশনে ঝাড়-ফুঁক গ্রহনের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৩০]
ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঝাড়- ফুক তো কেবল বদ-নজর এবং বিষাক্ত জীবের (বিষ নষ্ট করার) জন্য। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৪৪, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বিছা এক ব্যক্তিকে দংশন করলে ঐ রাতে সে আর ঘুমাতে পারেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হলো, অমুক ব্যক্তিকে বিছায় দংশন করায় সে গত রাতে ঘুমাতে পারেনি। তিনি বলেনঃ আহা, সে যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলতো, ‘‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’’ (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের উসীলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই), তাহলে বিছার দংশন সকাল পর্যন্ত তার কোন ক্ষতি করতে পারতো না। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫১৮, হাদিসের মানঃ সহীহ]
উসমান ইবনে আবুল আস আস-সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন মারাত্মক ব্যথা নিয়ে উপস্থিত হলাম, যা আমাকে অকেজো প্রায় করেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ তুমি তোমার বাম হাত ব্যথার স্থানে রেখে সাতবার বলোঃ ‘‘আউযু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু’’ (আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর অসীম সম্মান ও তাঁর বিশাল ক্ষমতার উসীলায় আমার অনুভূত এই ব্যথার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি)। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫২২, হাদিসের মানঃ সহীহ]
উছমান ইবন আবুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তার পেটের ব্যথার কথা বলেন। উছমান (রাঃ) বলেনঃ ব্যথায় আমাকে অস্থির করে তুলেছে। রাবী বলেনঃ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তোমার ব্যথার স্থানকে ডান হাত দিয়ে সাতবার মাসেহ কর এবং বলঃ "আউযূ বি-ইযযাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররিমা- আজিদু।"
রাবী উছমান (রাঃ) বলেনঃ আমি এ রূপ করার সাথে সাথেই আল্লাহ আমার কষ্ট দূর করে দেন। এরপর থেকে আমি আমার পরিবার-পরিজন ও অন্যান্যদেরকে এরূপ করার নির্দেশ দেই। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৫১, হাদিসের মানঃ সহীহ]
হায়ল ইবন আবূ সালিহ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি আসলাম গোত্রে এক ব্যক্তির এরূপ বলতে শুনেছি যে, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট বসেছিলাম। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাতে আমাকে কিছুতে দংশন করেছিল, ফলে আমি সারা রাত ঘুমাতে পরিনি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ উহা কি ছিল? সাহাবী বলেনঃ বিচ্ছু। তখন তিনি (নবী সাঃ) বলেনঃ যদি তুমি সন্ধ্যার সময় এটি পাঠ করতে, তবে আল্লাহ চাইলে কোন কিছু তোমার ক্ষতি করতে পারতো না। দু’আটি হলোঃ আউযূ বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা-খালাকা।’’ [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৫৭, হাদিসের মানঃ সহীহ]
ঝাড়ফুঁকের বিনিময় গ্রহনঃ
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে কতিপয় সাহাবী আরবের এক গোত্রের নিকট আসলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোন মেহমানাদারী করল না। তারা সেখানে থাকা কালেই হঠাৎ সেই গোত্রের নেতাকে সর্প দংশন করছেন। তখন তারা এসে বলল আপনাদের কাছে কি কোন ঔষধ আছে কিংবা আপনাদের মখ্যে ঝাড়-ফুঁককারী কোন লোক আছে কি? তারা উত্তর দিলেনঃ হ্যাঁ। তবে তোমরা আমাদের কোন মেহমানদারী করনি। কাজেই আমাদের জন্য কোন বিনিময় নির্ধারণ না করা পর্যন্ত আমরা তা করবো না। ফলে তারা তাদের জন্য এক পাল বকরী বিনিময় স্বরুপ দিতে রাযী হল।
তখন একজন সাহাবী উম্মুল কুরআন (সূরা-'ফাতিহা) পড়তে লাগলেন এবং মুখে থুথু জমা করে তা সে ব্যাক্তির গায়ে ছিঁটিয়ে দিলেন। ফলে সে আরোগ্য লাভ করল। এরপর তারা বকরীগুলো নিয়ে এসে বললো, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করার পুর্বে এটি স্পর্শ করবো না। এরপর তাঁরা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে হেসে দিলেন এবং বললেন তোমরা কিভাবে জানলে যে এটি রোগ নিরাময়কারী? ঠিক আছে বকরীগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও এক অংশ রেখে দিও। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩২৫]
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবী একবার এক সফরে গমন করেন। অবশেষে তারা আরবের গোত্রসমূহের মধ্যে এক গোত্রের নিকট এসে গোত্রের কাছে মেহমান হতে চান। কিন্তু সে গোত্র তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করে। ঘটনাক্রমে সে গোত্রের সর্দারকে সাপে দংশন করে। তারা তাকে সুস্থ করার জন্য সবরকম চেষ্টা করে, কিন্তু কোন ফল হয় না। তখন তাদের কেউ বললোঃ তোমরা যদি ঐ দলের কাছে যেতে যারা তোমাদের মাঝে এসেছিল। হয়তো তাদের কারও কাছে কোন তদবীর থাকতে পারে।
তখন তারা সে দলের কাছে এসে বলল হে দলের লোকেরা! আমাদের সর্দারকে সাপে দংশন করেছে। আমরা তার জন্য সবরকমের চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন ফল হয়নি। তোমাদের কারও নিকট কি কোন তদবীর আছে? একজন বললেন হ্যাঁ। আল্লাহর কসম আমি ঝাড়ফুঁক জানি। তবে আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের নিকট মেহমান হতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারী করনি। তাই আমি ততক্ষন পর্যন্ত ঝাড়-ফুঁক করবো না যতক্ষন না তোমরা আমাদের জন্য মজুরী নির্ধারণ করবে।
তখন তারা তাদের একপাল বকরী দিতে সম্মত হল। তারপর সে সাহাবী সেখানে গেলেন এবং আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন (সূরা ফাতিহা) পড়ে ফুঁক দিতে থাকলেন। অবশেষে সে ব্যাক্তি এমন সুস্থ হল যেন বন্ধন থেকে মুক্তি পেল। সে চলাফেরা করতে লাগলো, যেন তার কোন রোগই নেই। রাবী বলেনঃ তখন তারা যে মজুরী ঠিক করেছিল, তা পরিশোধ করলাম। এরপর সাহাবীদের মধ্যে একজন বললেনঃ এগুলো বন্টন করে দাও। এতে যিনি ঝাড়ফুঁক করেছিলেন তিনি বললেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যেয়ে যতক্ষন না এসব ঘটনা ব্যক্ত করবো এবং তিনি আমাদের কি নির্দেশ দেন তা প্রত্যক্ষ করব, ততক্ষন তোমরা তা বণ্টন করো না। তারপর তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ঘটনা ব্যক্ত করলেন। তিনি বললেন তুমি কি করে জানলে যে এর দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা যায়? তোমরা সঠিকই করেছ। তোমরা এগুলো বণ্টন করে নাও এবং সে সঙ্গে আমার জন্য এক ভাগ নির্ধারণ কর। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৩৮]
খারিজা ইবন সালত তামীমী (রাঃ) তাঁর চাচা থেকে বর্ণিনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কবুল করেন। তিনি সেখান থেকে ফেরার সময় এমন এক কাওমের নিকট উপস্থিত হন, যেখানে একটি পাগল শিকলে বাঁধা ছিল। তখন তার স্বজনরা তাকে বলেঃ আমরা শুনেছি তোমাদের এক সাথী (নবী সাঃ) অনেক ভাল জিনিস নিয়ে এসেছেন; তোমার কাছে এর কিছু আছে কি, যা দিয়ে তুমি এর চিকিৎসা করতে পার? তখন আমি সূরা ফাতিহা পড়ে দম করায় সে ভাল হয়ে যায়। তখন তারা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে একশত বকরী প্রদান করে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কি এ সূরাই পড়েছিলে? রাবী মুসাদাদ্দ (রহঃ) অন্যখানে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এ সূরা ব্যতীত অন্য কিছু পড়েছিলে? আমি বলিঃ না। তখন তিনি তাঁর জীবনের শপথ দিয়ে বলেনঃ তুমি ইহা গ্রহন কর, লোকেরা তো মিথ্যা মন্ত্র পাঠ করে রুজী রোজগার করে খায়, আর তুমি তো সত্য দু’আ পাঠ করে খাচ্ছ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৫৬, হাদিসের মানঃ সহীহ]
খারিজা ইবন সালত তামিমী (রাঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নিকট হতে বিদায় নেওয়ার পর আরবের একটি সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হই। তারা বলেঃ আরবের একটি সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হই। তারা বলেঃ আমরা শুনেছি, তোমরা ঐ ব্যক্তির (নবী সাঃ) থেকে উত্তম কিছু নিয়ে এসেছ। তোমাদের কাছে কোন ঔষধ-পত্র বা দু’আর ব্যবস্থা আছে কি? কেননা, আমাদের কাছে শিকলে বাধা অবস্থায় একজন পাগল আছে। রাবী বলেন, আমরা বললাম হ্যাঁ। রাবী বলেনঃ তখন তারা সে শৃঙ্খলিত পাগল ব্যক্তিকে নিয়ে আসে। রাবী বলেনঃ আমি তিন দিন সকাল–সন্ধ্যা সূরা ফাতিহা পড়ে, মুখে থুথু জমা করে, তার প্রতি নিক্ষেপ করি। রাবী বলেনঃ ফলে সে এমন সুস্থ হয়ে যায়, যেন সে বন্ধন মুক্ত হয়। রাবী বলেনঃ তারা আমাকে এর বিনিময় প্রদান করে। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেনঃ তুমি তা গ্রহণ কর এবং খাও। আমার জীবনের শপথ! লোকের ও মিথ্যা মন্ত্র-তন্ত্র পড়ে বিনিময় গ্রহণ করে খায়, আর তুমি তো সত্য দু’আ পড়ে তার বিনিময় গ্রহণ করে খাচ্ছ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৬০, হাদিসের মানঃ সহীহ]
যাদু করাঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যুরায়ক গোত্রের লাবীদ ইবনু আ'সাম নামক এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যাদু করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেয়াল হতো যেন তিনি একটি কাজ করছেন, অথচ তা তিনি করেননি। এক দিন বা এক রাত্রি তিনি আমার কাছে ছিলেন। তিনি বার বার দু’আ করতে থাকেন। তারপর তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি কি উপলব্ধি করতে পেরেছ যে, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
(স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দু'জন লোক আসেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু'পায়ের কাছে বসেন। একজন তাঁর সঙ্গীকে বলেনঃ এ লোকটির কি ব্যথা? তিনি বলেনঃ যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বলেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলেন লাবীদ ইবনু আসাম। প্রথম জন জিজ্ঞাসা করেনঃ কিসের মধ্যে? দ্বিতীয় জন উত্তর দেন চিরুনী, মাথা আচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং এক পুং খেজুর গাছের 'জুব' এর মধ্যে। প্রথম জন বলেনঃ তা কোথায়? দ্বিতীয় জন বলেনঃ 'যারওয়ান' নামক কুপের মধ্যে।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবী সঙ্গে নিয়ে তথায় যান। পরে ফিরে এসে বলেনঃ হে আয়িশা! সে কুপের পানি মেহদীর পানির মত (লাল) এবং তার পাড়ের খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মত। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, আমি মানুষকে এমন ব্যাপারে প্ররোচিত করতে পছন্দ কবি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুতে ফেলা হয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৫১]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাক। আর তা হল আল্লাহর সঙ্গে শরীক স্থির করা ও যাদু করা। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৫২]
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার পূর্ব অঞ্চল (নজদ এলাকা) থেকে দু'জন লোক এল এবং দু'জনই ভাষন দিল। লোকজন তাদের ভাষনে তাজ্জব হয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন কোন ভাষণ অবশ্যই যাদুর ন্যায়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৫৫]
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় হতে বেঁচে থাক। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, জাদু, যথার্থ কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করা যা আল্লাহ্ হারাম করেছেন, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল খাওয়া, জিহাদের ময়দান থেকে পিঠ ফিরিয়ে নেয়া, সাধ্বী বিশ্বাসী সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ দেয়া। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৮৬/দন্ডবিধি, হাদিস নম্বরঃ ৬৮৫৭]
যাদু সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়ত্বানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলতঃ সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়ত্বানরাই কুফুরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দু’জন ফেরেশতা হারূত ও মারূতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল এবং ফেরেশতাদ্বয় কাউকেও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষা স্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরী কর না, এতদসত্ত্বেও তারা উভয়ের নিকট হতে এমন জিনিস শিক্ষা করতো, যদ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, মূলতঃ তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুতঃ এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্দ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত! [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১০২]
আজওয়া খেজুর দিয়ে যাদুর চিকিৎসাঃ
সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি ভোর বেলা সাতটি আজওয়া (মদিনায় উৎপন্ন উন্নত মানের খুরমার নাম) খেজুর খাবে, সে দিন কোন বিষ বা যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৫৭]
সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি সকাল বেলা সাতটি আজওয়া খুরমা খেয়ে নিবে, তাকে সে দিন কোন বিষ অথবা যাদু ক্ষতি করতে পারবে না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৬৪]
গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদির নিকট গমনঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কতিপয় লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গণকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এ কিছুই নয়। তারা বলল ইয়া রাসুলাল্লাহ! ওরা কখনও কখনও আমাদের এমন কথা শোনায়, যা সত্য হয়ে থাকে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ কথা সত্য। জ্বীনেরা তা ছোঁ মেরে নেয়। পরে তাদের বন্ধু (গণক) এর কানে ঢেলে দেয়। তারা এর সাথে শত মিথ্যা মিশ্রিত করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৫০]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গণকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘‘ওরা অপদার্থ।’’ [অর্থাৎ ওদের কথার কোন মূল্য নেই]। তারা নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! ওরা তো কখনো কখনো আমাদেরকে কোন জিনিস সম্পর্কে বলে, আর তা সত্য ঘটে যায়।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘এই সত্য কথাটি জ্বিন [ফিরিশ্তার নিকট থেকে] ছোঁ মেরে নিয়ে তার ভক্তের কানে পৌঁছে দেয়। তারপর সে ঐ [একটি সত্য] কথার সাথে একশ’টি মিথ্যা মিশিয়ে দেয়।’’ [রিয়াযুস স্বা-লিহীন (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৮/ নিষিদ্ধ বিষয়াবলী, হাদিস নম্বরঃ ১৬৭৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করেছে অথবা কোন স্ত্রীলোকের মলদ্বার দিয়ে যৌনসঙ্গম করেছে অথবা কোন গণকের কাছে গিয়েছে, সে লোক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি অবিশ্বাস করেছে। [মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), অধ্যায়ঃ পর্ব-৩/পাক-পবিত্রতা, পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি, হাদিস নম্বরঃ ৫৫১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট যায়; রাবী মূসা বলেনঃ আর সে ব্যক্তি তার কথায় বিশ্বাস করে; অথবা সে তাঁর স্ত্রীর নিকট গমন করে। রাবী মুসাদ্দাদ (রহঃ) বলেনঃ অথবা সে তার স্ত্রীর পশ্চাদদ্বারে সংগম করে; সে যেন আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত দীন হতে মুক্ত (অর্থাৎ গুমরাহ) হলো। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) / অধ্যায়ঃ ২৩/ ভাগ্য গণনা ও ফাল নেয়া, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৬৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
হাফসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গণকের কাছে যায় এবং (তার কথা সত্য ভেবে) তাকে কোন কথা জিজ্ঞেস করে, তার চল্লিশ দিনের সলাত কবুল হয় না। [মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), অধ্যায়ঃ পর্ব-২৩/চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক, পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি, হাদিস নম্বরঃ ৪৫৯৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
স্বাফিয়্যাহ বিন্তে আবূ উবাইদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন স্ত্রী [হাফসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা] হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে কোন [গায়বী] বিষয়ে প্রশ্ন করে, তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হয় না।’ [রিয়াযুস স্বা-লিহীন (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৮/ নিষিদ্ধ বিষয়াবলী, হাদিস নম্বরঃ ১৬৭৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুআবিয়াহ ইবনে হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি জাহেলী যুগের অত্যন্ত নিকটবর্তী (অর্থাৎ আমি অল্পদিন হল অন্ধযুগ থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছি) এবং বর্তমানে আল্লাহ আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করেছেন। আমাদের কিছু লোক গণকদের নিকট (ভাগ্য-ভবিষ্যৎ জানতে) যায়।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি তাদের কাছে যেও না।’’ আমি বললাম, ‘আমাদের কিছু লোক অশুভ লক্ষণ মেনে চলে।’ তিনি বললেন, ‘‘এ এমন জিনিস, যা তারা নিজেদের অন্তরে অনুভব করে। সুতরাং এ (সব ধারণা) যেন তাদেরকে (বাঞ্ছিত কর্মে) বাধা না দেয়।’’ আমি নিবেদন করলাম, ‘আমাদের মধ্যে কিছু লোক দাগ টেনে শুভাশুভ নিরূপণ করে।’ তিনি বললেন, ‘‘(প্রাচীনযুগে) এক পয়গম্বর দাগ টানতেন। সুতরাং যার দাগ টানার পদ্ধতি উক্ত পয়গম্বরের পদ্ধতি অনুসারে হবে, তা সঠিক বলে বিবেচিত হবে (নচেৎ না)। [পাবলিশারঃ ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী, গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার, অধ্যায়ঃ ২২/নিষিদ্ধ কার্যাবলী, হাদিস নম্বরঃ ২০৫৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সূর্যগ্রহণঃ
আবূ বাকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা দূর না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু‘আ করতে থাকবে। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৬/সূর্যগ্রহণ, হাদিস নম্বরঃ ১০৪০]
শুভ-অশুভ লক্ষনঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন শুভ-অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই এবং এর কল্যাণই হল শুভ লক্ষণ। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! শুভ লক্ষণ কি? তিনি বললেনঃ ভাল কথা, যা তোমাদের কেউ (বিপদের সময়) শুনে থাকে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৪৪]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই; শুভ-অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই। পেঁচায় কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৩/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৫৩৪৬]
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেনঃ পাখীর শুভাশুভ নির্ণয় করা শিরক। এ ব্যাপারে যদি কারো মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, তবে তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি তাওয়াককুলের কারণে দূর করে দেবেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/ভাগ্য গণনা ও ফাল নেয়া, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৬৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মন্ত্র-তাবিজ ব্যবহার শিরকঃ
আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছিঃ মন্ত্র, তাবিজ ও তাওলা* করা শিরক। একথা শুনে যয়নব (রাঃ) বলেনঃ তুমি এ কি বলছ, আল্লাহর শপথ! আমার চোখে ব্যথা হলে আমি একজন ইয়াহূদীর কাছে যেতাম, যে মন্ত্র পাঠের পর আমার চোখে ফু দিলে ব্যথার উপশম হতো। তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ এতো শয়তানের অপকর্ম ছিল, যে তার হাত দিয়ে চোখে ব্যথা দিত। আর যখন ঐ ইয়াহূদী তাতে ফু দিত, তখন সে বিরত থাকতো। তোমার জন্য তা-ই পাঠ করা উচিত ছিল, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করতেন। আর তা হলোঃ হে মানব জাতির রব! যন্ত্রণা দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার দেয়া নিরাময়ই যথার্থ নিরাময়, যার পরে আর কোন রোগ বাকী থাকে না। (*তাওলা এক প্রকার যাদু, যা দিয়ে বেগানা স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে অবৈধ প্রেম সৃষ্টি করা হয়। নিঃসন্দেহে এটি হারাম কাজ।) [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৪৩, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবদুল্লাহ (রাঃ)-র স্ত্রী যয়নব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বৃদ্ধা আমাদের এখানে আসতো এবং সে চর্মপ্রদাহের ঝাড়ফুঁক করতো। আমাদের একটি লম্বা পা-বিশিষ্ট খাট ছিল। আবদুললাহ (রাঃ) ঘরে প্রবেশের সময় সশব্দে কাশি দিতেন। একদিন তিনি আমার নিকট প্রবেশ করলেন। সে তার গলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে একটু আড়াল হলো। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন এবং আমাকে স্পর্শ করলে এক গাছি সুতার স্পর্শ পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? আমি বললাম, চর্মপ্রদাহের জন্য সূতা পড়া বেঁধেছি। তিনি সেটা আমার গলা থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেললেন এবং তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, আবদুল্লাহর পরিবার শিরকমুক্ত হলো।
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ‘‘মন্ত্র, রক্ষাকবচ, গিটযুক্ত মন্ত্রপূত সূতা হলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত’’। আমি বললাম, আমি একদিন বাইরে যাচ্ছিলাম, তখন অমুক লোক আমাকে দেখে ফেললো। আমার যে চোখের দৃষ্টি তার উপর পড়লো তা দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো। আমি তার মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিলে তা থেকে পানি ঝরা বন্ধ হলো এবং মন্ত্র পড়া বন্ধ করলেই আবার পানি পড়তে লাগলো। তিনি বলেন, এটা শয়তানের কাজ। তুমি শয়তানের আনুগত্য করলে সে তোমাকে রেহাই দেয় এবং তার আনুগত্য না করলে সে তোমার চোখে তার আঙ্গুলের খোঁচা মারে। কিন্তু তুমি যদি তাই করতে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন, তবে তা তোমার জন্য উপাকারী হতো এবং আরোগ্য লাভেও অধিক সহায়ক হতো।।
তুমি নিম্নোক্ত দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা তোমার চোখে ছিটিয়ে দাওঃ ‘‘আযহিবিল বাস রব্বান নাস, ইশফি আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান’’ (হে মানুষের প্রভু! কষ্ট দূর করে দাও, আরোগ্য দান করো, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্যদান ছাড়া আরোগ্য লাভ করা যায় না, এমনভাবে আরোগ্য দান করো যা কোন রোগকে ছাড়ে না)। [সুনানে ইবনে মাজাহ (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৫/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫৩০, হাদিসের মানঃ সহীহ]
জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মন্ত্র পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ এটি শয়তানের কাজ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/চিকিৎসা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮২৮, হাদিসের মানঃ সহীহ]
“যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শির্ক করল”। [মুসনাদে আহমাদ, (৪/১৫৬) ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (১/৮০৯)]
শিরক সম্পর্কে কুরআনের আয়াতঃ
বল, ‘এসো, তোমাদের উপর তোমাদের রব যা হারাম করেছেন, তা তিলাওয়াত করি যে, তোমরা তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না [সূরা আল-আন'আম/৬, আয়াতঃ ১৫১]
‘আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না। অতএব তুমি যদি কর, তাহলে নিশ্চয় তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা ইউনুস/১০, আয়াতঃ ১০৬]
অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। [সূরা ইউসুফ/১২, আয়াতঃ ১০৬]
নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ ৭২]
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে। [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ ৪৮]
আর কোন কোন লোক এমনও আছে, যে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহকে ভালবাসার মত তাদেরকে ভালবাসে। কিন্তু যারা মু’মিন আল্লাহর সঙ্গে তাদের ভালবাসা প্রগাঢ় এবং কী উত্তমই হত যদি এ যালিমরা শাস্তি দেখার পর যেমন বুঝবে তা যদি এখনই বুঝত যে, সমস্ত শক্তি আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৬৫]
শিরকমুক্ত ঈমান ও আমলের ফযীলতঃ
যারা ঈমান এনেছে আর যুলম (অর্থাৎ শিরক) দ্বারা তাদের ঈমানকে কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা লাভ তারাই করবে আর তারাই হল সঠিক পথপ্রাপ্ত। [সূরা আল-আন'আম/৬, আয়াতঃ ৮২]
তাদেরকে তাদের রাসূলগণ বলল, ‘আমরা তো কেবল তোমাদের মতই মানুষ, কিন্তু আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসার সাধ্য আমাদের নেই। আর কেবল আল্লাহর উপরই মুমিনদের তাওয়াক্কুল করা উচিত’। [সূরা ইবরাহীম/১৪, আয়াতঃ ১১]
হে মু’মিনগণ! ধৈর্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৫৩]
আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। বস্তুত আখিরাতে তার জন্য কোন অংশ নেই। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ২০০]
আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। এরাই সেই লোক, যাদের কৃতকার্যে তাদের প্রাপ্য অংশ রয়েছে এবং আল্লাহ সত্বর হিসাবগ্রহণকারী। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ২০১-২০২]
সালমান ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত লজ্জাশীল ও পরম দয়ালু। কোন বান্দা যখন তাঁর কাছে দুই হাত তোলে, তখন তাকে বঞ্চিত করে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে তাঁর লজ্জা হয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫১/ দু’আ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, হাদিস নম্বরঃ ৩৫৫৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সালমান ফারেসী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু‘আ ছাড়া অন্য কিছু তাকদীর রদ্দ্ (খণ্ডন) করতে পারে না এবং নেক আমল ছাড়া অন্য কিছু আয়ু বৃদ্ধি করতে পারে না। [পাবলিশারঃ ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী, গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার, অধ্যায়ঃ ২৯/দু‘আ ও যিকর, হাদিস নম্বরঃ ৩৬৪৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবদুল আযীয ইবনু সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাতাদাহ্ আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দুআ সর্বাধিক পড়তেন? তিনি বললেন, তিনি যে দু’আ দ্বারা সর্বাধিক দু’আ করতেন তাতে বলতেনঃ “আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতাও ওয়াকিনা- ‘আযা-বান না-র”। অর্থাৎ- "হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতে কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে বঁচিয়ে রাখো।"
রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) যখনই কোন দু’আ করার সংকল্প করতেন তখন তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ন্যায়) দুআ করতেন। তারপর যখন তিনি কোন ব্যাপারে দু’আ করার সংকল্প করতেন তখন তাতে এ দু’আ পড়তেন। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৯। যিকর, দু’আ, তাওবাহ ও ক্ষমা প্রার্থনা, হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩৩]
আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ পাঠ করতেনঃ "রব্বনা- আ-তিনা- ফিদ্দুনইয়া- হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতাও ওয়াকিনা- ‘আযা-বান্ না-র"। অর্থাৎ- হে আমাদের রব! আমাদের পার্থিব জীবনে কল্যাণ দান করো, আখিরাতে কল্যাণ দান করো। আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদের বাঁচাও। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৯। যিকর, দু’আ, তাওবাহ ও ক্ষমা প্রার্থনা, হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩৪]
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময়ই এ দুআ পড়তেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের অগ্নিযন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৭/দু’আ, হাদিস নম্বরঃ ৫৯৪৭]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিনের উপমা শস্য জাতীয় গাছ এর ন্যায়। বাতাস সর্বদা উহাকে আন্দোলিত করে। অনুরূপভাবে মু'মিনের উপরও সর্বদা বিপদ-আপদ আসতে থাকে। আর মুনাফিকের উপমা দেবদারু বৃক্ষের ন্যায়। মূল না কাটা পর্যন্ত তা প্রকম্পিত হয় না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫৩/কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ, হাদিস নম্বরঃ ৬৮৩৩]
আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ঈমানদার ব্যক্তির শরীরে একটি মাত্র কাটার আঘাত কিংবা তার চাইতেও কোন নগণ্য আঘাত লাগলে আল্লাহ তা’আলা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন কিংবা তার একটি গুনাহ মোচন করে দেন। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৬/সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৫৬]
আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, কোন ঈমানদার ব্যক্তির এমন কোন ব্যথা-বেদনা, রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট পৌছে না, এমনকি দুর্ভাবনা পর্যন্ত, যার প্রতিদানে তার কোন গুনাহ ক্ষমা করা হয় না। [সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী), অধ্যায়ঃ ৪৬/সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬২]
মুয়ায ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহযাত্রী ছিলাম। অথচ আমার ও তার মাঝখানে ব্যবধান ছিল শুধু সাওয়ারীর গদির কাষ্ঠ-খণ্ড। তিনি বললেনঃ হে মুয়ায! আমি বললাম, লাব্বাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ ওয়া সাদাইকা! তারপর আরও কিছুক্ষণ চলার পরে আবার বললেনঃ হে মুয়ায! আমি বললাম, লাব্বাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ ওয়া সাদাইকা! তারপর আরও কিছুক্ষন চলার পর আবার বললেনঃ হে মুয়ায ইবনু জাবাল! আমিও আবার বললাম, লাব্বাইকা ইযা রাসূলাল্লাহ ওয়া সাদাইকা। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি জানো যে, বান্দার উপর আল্লাহর হক কি? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুল অধিক জানেন।
তিনি বললেনঃ বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে এই যে, সে তারই ইবাদত করবে, এতে তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না। এরপর আরও কিছুক্ষন পথ চলার পর আবার ডাকলেন, হে মুয়ায ইবনু জাবাল! আমি বললাম, লাব্বাইকা ওয়া সাদাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ যদি বান্দা তা করে তখন আল্লাহর কাছে বান্দার প্রাপ্য কি হবে, তা কি তুমি জানো? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেনঃ তখন বান্দার হক আল্লাহর কাছে হল তাদেরকে আযাব না দেওয়া। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৮/কোমল হওয়া, হাদিস নম্বরঃ ৬০৫৬]
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।
বারাকাল্লাহ ফিক।