Friday, June 28, 2019

আয়াতুল কুরসীর ফাযীলাতঃ-

আয়াতুল কুরসীঃ


﴿ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥ ﴾ [البقرة: ٢٥٥] 

উচ্চারণঃ (আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম)। 

অর্থঃ “আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।” [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ২৫৫] 

আয়াতুল কুরসীর ফাযীলাতঃ 
আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ আয়াতুল কুরসী প্রত্যেক ফরয সলাতের পরে পাঠ করলে তার মৃত্যুই তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য বাধা হয়ে আছে। [বুলুগুল মারাম, অধ্যায়ঃ পর্ব - ২/সালাত, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩২৬, হাদিসের মানঃ সহিহ] 

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আবূল মুনযির! তুমি জান কি তোমার কাছে যে আল্লাহর কিতাব রয়েছে এর কোন আয়াতটি সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান? উবাই (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক জ্ঞাত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবার) বললেন, হে আবূল মুনযির তুমি জান কি, তোমার কাছে আল্লাহর যে কিতাব রয়েছে এর কোন আয়াতটি সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান? উবাই (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ (অর্থাৎ আয়াতুল কুরসী) উবাই (রাঃ) বলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে হাত মেরে বললেন, আবূল মুনযির! মুবারক হোক তোমার জন্য ইলম। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/ফাযাইলুল কুরআন, হাদিস নম্বরঃ ১৭৫৮] 

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ফিতরার মাল পাহারায় নিযুক্ত করলেন। এমন সময় আমার নিকট এক ব্যক্তি এসেই অঞ্জলি ভরে খাদ্যশস্য উঠাতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম ও বললাম, আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বলল, আমি একজন অভাবী লোক। আমার অনেক পোষ্য। আমি নিদারুণ কষ্টে আছি। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি তখন তাকে ছেড়ে দিলাম। ভোরে আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে) গেলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! তোমার হাতে গত রাতে বন্দী লোকটির কী অবস্থা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! বন্দীটি তার নিদারুণ অভাব ও বহু পোষ্যের অভিযোগ করল। তাই আমি তার ওপর দয়া করলাম। তাকে ছেড়ে দিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, শুনো! সে তোমার কাছে মিথ্যা বলেছে। সে আবার আসবে।

[আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন] আমি রসূলের বলার কারণে বুঝলাম, অবশ্যই সে আবার আসবে। আমি তার অপেক্ষায় রইলাম। (ঠিকই) সে আবার এলো। দু’ হাতের কোষ ভরে খাদ্যশস্য উঠাতে লাগল এবং আমি তাকে ধরে ফেললাম। বললাম, আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, তুমি আমাকে এবারও ছেড়ে দাও। আমি বড্ড অভাবী মানুষ। আমার পোষ্যও অনেক। আমি আর আসব না। এবারও আমি তার ওপর দয়া করলাম। ছেড়ে দিলাম। ভোরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আবূ হুরায়রাহ্! তোমরা বন্দীর খবর কী? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে খুবই অভাবী। বহু পোষ্যের অভিযোগ করল। তাই আমি তার প্রতি দয়াপ্রদর্শন করলাম। তাকে ছেড়ে দিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, শুনো তোমার কাছে সে মিথ্যা বলেছে। আবারও যে আসবে।

(বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন,) আমি বুঝলাম, সে আবারও আসবে। তাই আমি তার অপেক্ষায় থেকে তাকে ধরে ফেললাম। বললাম, তোমাকে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে যাব। এটা তিনবারের শেষবার। তুমি ওয়া‘দা করেছিলে আর আসবে না। এরপরও তুমি এসেছ। সে বলল, এবারও যদি আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে এমন কয়টি বাক্য শিখাব, যে বাক্যের দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন। তুমি শোবার জন্য বিছানায় গেলে আয়াতুল কুরসী পড়বে, ‘‘আল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম’’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে সব সময় তোমার জন্য একজন রক্ষী থাকবে, ভোর হওয়া পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান ঘেঁষতে পারবে না। এবারও তাকে আমি ছেড়ে দিলাম।

ভোরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার বন্দীর কী হলো? আমি বললাম (ইয়া রসূলাল্লাহ!), সে বলল, সে আমাকে এমন কয়টি বাক্য শিখাবে, যার দ্বারা আল্লাহ আমার উপকার করবেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শুনো! এবার সে তোমার কাছে সত্য কথা বলেছে অথচ সে খুবই মিথ্যুক। তুমি কি জানো, তুমি এ তিন রাত কার সাথে কথা বলেছ? আমি বললাম, জি-না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ছিল একটা শয়তান। [হাদিস একাডেমি, গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), অধ্যায়ঃ পর্ব-৮/কুরআনের মর্যাদা, হাদিস নম্বরঃ ২১২৩, হাদিসের মানঃ সহিহ] 

উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবূল মুনযির! তুমি কি বলতে পারো তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই ভাল জানেন। (এরপর) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, হে আবূল মুনযির! তুমি বলতে পারো কি তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি শ্রেষ্ঠতর? এবার আমি বললাম, ‘‘আল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়ূম।’’ উবাই বলেন, এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার বুকে হাত মেরে বললেন, হে আবূল মুনযির! জ্ঞান ও প্রজ্ঞা তোমার জন্য মুবারক হোক। [মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), অধ্যায়ঃ পর্ব-৮/কুরআনের মর্যাদা, পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি, হাদিস নম্বরঃ ২১২২, হাদিসের মানঃ সহিহ] 

ব্যাখ্যাঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলেন তোমার জানা কোন্ আয়াতটি কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত? তিনি উত্তরে দিলেন, আয়াতুল কুরসী। 

উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর আল কুরআনের সবগুলো আয়াত-ই মুখস্থ ছিল, অর্থাৎ- তিনি পূর্ণ কুরআনের হাফেয ছিলেন। সুতরাং প্রশ্ন এবং উত্তরের অর্থ হলো আয়াতুল কুরসী সমগ্র কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত। ইসহাক ইবনু রহ্ওয়াই (রহঃ)-সহ কতিপয় মুহাক্কিক ‘আলিম বলেন, আয়াতুল কুরসী যেহেতু শ্রেষ্ঠ আয়াত; সুতরাং তার তিলাওয়াতকারীর সাওয়াব ও আজুরাও হবে সবচেয়ে বেশি এবং শ্রেষ্ঠ। 

========================০=======================


অমুসলিমদের উৎসবে অংশগ্রহণ হারামঃ-

'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার'- বাক্য দুটি ঈমানের দাবীদার অনেক মুসলিম ভাইবোনকে বলতে শোনা যায়। তারা বিশ্বাস করেন যে, নিজের ধর্ম পালন করার পাশাপাশি অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশ গ্রহন করা বৈধ! এমন অনেক অজ্ঞ মুসলিম আছে, যারা জেনে অথবা না জেনে বিজাতীয় উৎসব পালন করে থাকেন। এধরণের বিশ্বাস ও কার্যকলাপ ঈমান নষ্টের জন্য যথেষ্ট। দ্বীন সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, 

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীনঃ 
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবূল করে নিলাম। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ৩] 

নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হল ইসলাম। বস্তুতঃ যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা জ্ঞান লাভের পর একে অন্যের উপর প্রাধান্য লাভের জন্য মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে, (সে জেনে নিক) নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অতিশয় তৎপর। [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ১৯] 

আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ৮৫] 

ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। [আল্লামা আলবানী একাডেমী, গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), অধ্যায়ঃ ২৭/পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০৩১, হাদিসের মানঃ হাসান] 

মুসলিমদের জন্য দুটি উৎসবঃ 
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্বীনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন (নায়মূক ও মেহেরজান) খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহেলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কোরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১১৩৪, হাদিসের মানঃ সহিহ] 

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, 

রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। [সূরা আল-হাসর/৫৯, আয়াতঃ৭] 

কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ না করাঃ 
ইয়াহূদী ও নাসারারা তোমার প্রতি রাজী হবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, ‘আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ এবং তুমি যদি জ্ঞান আসার পরেও এদের ইচ্ছে অনুযায়ী চল, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর ক্রোধ হতে রক্ষা করার মত কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না’। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ১২০] 

হে মু’মিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করনা, তারা পরস্পর বন্ধু; আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে নিশ্চয়ই সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেননা। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ৫১] 

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের নীতি-পদ্ধতি পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করবে, বিঘতে বিঘতে ও হাতে হাতে, এমনকি তারা যদি তিনি সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তাহলেও তোমরা তাদের অনুসরণ করবে। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! পূর্ববর্তী উম্মাত বলতে তো ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরাই উদ্দেশ্য? তিনি বললেন, তবে আর কারা? [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪৯/ইলম, হাদিস নম্বরঃ ৬৫৩৯ ] 

এই হাদিসে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, মুসলিম উম্মাহের একটা অংশ কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করবে। তাই সেই ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, 

তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর। [সূরা আল-আ'রাফ/৭, আয়াতঃ৩] 

ইসলামের অনুসরণ করাঃ 
যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, কত মন্দই না সে আবাস! [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ১১৫] 

আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। তা হল আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। ‘হওয’ (কাওসারে) আমার নিকট অবতরণ না করা পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন হবে না। [ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী, গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার, অধ্যায়ঃ ১৩/সুন্নাহ, হাদিস নম্বরঃ ১৫০০, হাদিসের মানঃ সহিহ] 

কাজেই যাদের বুঝার মতো জ্ঞান আছে তাদের জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদের দ্বীন বুঝার ও মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।

রমযানের সিয়াম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাঃ-


আসসালামু আলাইকুম। এখানে আমরা রমযানের ফরয সিয়াম সম্পর্কে কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদিসের বর্ণনা উল্লেখ করবো যাতে সবাই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারি। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রয়োজন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন বলেই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সবকিছু কুরআনের মাধ্যমে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে বিস্তারিত মানুষকে জানিয়েছেন যাতে আমাদের জন্য দ্বীন পালন করা সহজ হয়।

রমযানে সিয়াম ফরয হওয়াঃ
হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৩]

(রোযা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে এবং শক্তিহীনদের উপর কর্তব্য হচ্ছে ফিদইয়া প্রদান করা, এটা একজন মিসকীনকে অন্নদান করা এবং যে ব্যক্তি নিজের খুশীতে সৎ কাজ করতে ইচ্ছুক, তার পক্ষে তা আরও উত্তম আর সে অবস্থায় রোযা পালন করাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৪]

রমাযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে, কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা পালন করে আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে, আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান, যা কষ্টদায়ক তা চান না যেন তোমরা মেয়াদ পূর্ণ করতে পার, আর তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর, আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৫]

আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৬]

তোমাদের জন্য রমাযানের রাতে তোমাদের বিবিগণের নিকট গমন করা জায়িয করা হয়েছে, তারা তোমাদের আচ্ছাদন আর তোমরা তাদের আচ্ছাদন। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিলেন। অতএব, এখন থেকে তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা লাভ কর এবং তোমরা আহার ও পান করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের জন্য কালো রেখা হতে ঊষাকালের সাদা রেখা প্রকাশ না পায়। তৎপর রাতের আগমন পর্যন্ত রোযা পূর্ণ কর, আর মাসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না। এসব আল্লাহর আইন, কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। আল্লাহ মানবজাতির জন্য নিজের আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা মুত্তাকী হতে পারে। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৭]

তালহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুলসহ একজন গ্রাম্য আরব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন। তারপর বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে বলুন, আল্লাহ তা’আলা আমার উপর কত সালাত (নামায/নামাজ) ফরজ করেছেন? তিনি বলেনঃ পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আমার উপর কত সিয়াম আল্লাহ তা’আলা ফরজ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রমযান মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম); তবে তুমি যদি কিছু নফল কর তবে তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আল্লাহ আমার উপর কি পরিমান যাকাত ফরয করেছেন? রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরয করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াব না এবং কমাবও না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭০]

সাওম পালনের পুরষ্কারঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মুর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তাঁর সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাঁকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরষ্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৩]

সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে রায়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাঁদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, সাওম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তাঁরা ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাঁদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৫]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমল দশ গুন থেকে সাতশত গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, কিন্তু সাওম; সাওম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দিব। কারণ সে আমারই জন্য তার কামাচার এবং পানাহার বর্জন করে। সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যাক্তির জন্য খুশির বিষয় দুটি। একটি খুশি ইফতারের সময়, আরেকটি খুশি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়। তার মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৭৮]

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যদি কোন ব্যাক্তি (জিহাদ অভিযানে) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, তবে এ এক দিনের সিয়াম পালনের বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা তার মূখমণ্ডলকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখবেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৮২]

আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললামঃ আমাকে এমন একটি ইবাদাতের নির্দেশ দিন যা আমি আপনার নির্দেশক্রমে পালন করব। তিনি বললেন, তুমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)-কে আকড়ে ধর যেহেতু এর কোন বিকল্প নাই। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২২৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]

মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢালস্বরূপ। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২২৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]

মুতারবিফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উছমান ইবনু আবূল আস (রাঃ)-এর কাছে গেলে তিনি আমার জন্য দুধ আনালেন। তখন আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহত ঢালের ন্যায়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২৩৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাইমকে ইফতার করানোর ফযীলতঃ
যায়িদ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যদি কোন সায়িমকে ইফতার করায় তবে তার জন্যও অনুরূপ (সিয়ামের) সাওয়াব হবে। কিন্তু এতে সিয়াম পালনকারীর সাওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৮০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রমযান মাসের ফযীলতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৭]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শৃংখলিত করে দেয়া হয় শয়তানকে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৮]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান আরম্ভ হলে রহমতের দরাজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৭]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্ট জ্বীনদের শৃঙখলাবদ্ধ করে ফেলা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না; জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেনঃ হে কল্যাণকামী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে জাহান্নাম থেকে বহু লোককে মুক্তি দান। প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৬৭৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় রামাযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং (তারাবীহ্ তাহাজ্জুদ ইত্যাদির জন্য) রাত্রি জাগরণ করে, তার পূর্ববতী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় লায়লাতুল কাদরের (সালাত (নামায/নামাজ) ইত্যাদির জন্য) রাত্রি জাগরণ করে, তার পূর্ববতী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৬৮০, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের নিকট রমযান উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। তোমাদের উপরে আল্লাহ তা’আলা অত্র মাসের সওম ফরয করেছেন। এ মাস আগমনে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় লোহার বেড়ী পরানো হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১১০, হাদিসের মানঃ সহিহ]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন আনসারী মহিলাকে বলেছিলেন, যখন রমযান এসে যাবে তখন তুমি একটি উমরাহ আদায় করবে। কেননা রমযানের একটি উমরাহ একটি হজ্জের সমপরিমাণ। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]

চাঁদ দেখে সাওম পালন করাঃ
ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা তা (চাঁদ) দেখবে তখন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে, আবার যখন তা দেখবে তখন ইফতার করবে। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তাঁর সময় হিসাব করে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৯]

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের কথা আলোচনা করে বললেনঃ চাঁদ না দেখে তোমরা সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার করবে না। যদি মেঘাছন্ন থাকে তাহলে তাঁর সময় (ত্রিশ দিন) পরিমান পূর্ণ করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৫]

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাত বিশিষ্ট হয়। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করবে না। যদি আকাশ মেঘাবৃত থাকে তাহলে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ন করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৬]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা বললেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে শ’বানের গননা ত্রিশ পুরা করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৮]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ রমজানের একদিন কিংবা দুই দিন আগে থেকে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সাওম করতে পারবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৩]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আরম্ভ করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার (ঈদ) করবে না। যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে, তবে সংখ্যা পূর্ন করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৩৭৩]

কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল ফযল বিনত হারিস তাকে সিরিয়ায় মু’আবিয়া (রাঃ) এর নিকট পাঠালেন। (কুরায়ব বলেন) আমি সিরিয়ায় পৌছলাম এবং তার প্রয়োজনীয় কাজটি সমাধা করে নিলাম। আমি সিরিয়া থাকা অবস্থায়ই রমযানের চাঁদ দেখা গেল। জুমু'আর দিন সন্ধ্যায় আমি চাঁদ দেখলাম। এরপর রমযানের শেষভাগে আমি মদিনায় ফিরলাম। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট জিজ্ঞাসা করলেন এবং চাঁদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কোন দিন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমরা তো জুমু'আর দিন সন্ধায় চাঁদ দেখেছি। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নিজে দেখেছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি দেখেছি এবং লোকেরাও দেখেছে। তারা সিয়াম পালন করেছে এবং মুআবিয়া (রাঃ)-ও সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেছেন। তিনি বললেন, আমরা কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি। আমরা সিয়াম পালন করতে থাকব, শেষ পর্যন্ত ত্রিশ দিন পূর্ণ করব অথবা চাঁদ দেখব। আমি বললাম, মু-আবিয়া (রাঃ) এর চাঁদ দেখা এবং তাঁর সাওম পালন করা আপনার জন্য যথেষ্ট নয় কি? তিনি বললেন, না, যথেষ্ট নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এরূপ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৯]

ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকেরা রামাযানের চাঁদ অন্বেষণ করে, কিন্তু দেখতে পায়নি। পরে এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ খবর দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। এরপর তিনি রোযা রাখেন এবং লোকদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৩৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বললো যে, আমি চাঁদ দেখেছি, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নাই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা এবং রাসুল? সে বললো, হ্যাঁ। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিলেন যে, তোমরা সবাই সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন কর। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১১৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রমযান মাসের কিয়ামঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যাক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদর-এ ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তার অতীতের গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান, হাদিস নম্বরঃ ৩৪]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসের কিয়াম সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতেন। তবে তা বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশ দেননি। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশা নিয়ে রামাযান মাসের কিয়াম করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। বিষয়টি এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। পরে আবূ বাকর (রাঃ) এর খিলাফত এবং উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও বিষয়টি তদ্রুপই ছিল। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৮০৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসে আল্লাহ তা'আলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার পূর্বাপর সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৯৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাহরী/পানাহারের শেষ সময়ঃ
বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগনের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাঁদের কেউ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন, ইফতারের সময় হলে ইফতার না করে ঘুমিয়ে গেলে সে রাতে এবং পরের সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না। কায়স ইবনু সিরমা আনসারী (রাঃ) সাওম পালন করেছিলেন। ইফতারের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নিকট কিছু খাবার আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু তালাশ করে আনি। তিনি কাজে রত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর চোখ ভিজে গেল। এরপর স্ত্রী এসে যখন তাকে দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন, হায়, তুমি বঞ্ছিত হয়ে গেলে! পরদিন দুপুর হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। এ ঘটনাটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করা হলে এ আয়াতটি নাযিল হয়ঃ সিয়ামের রাত্রে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে। এ হুকুম সমন্ধে অবহিত হয়ে সাহাবীগন খুবই আনন্দিত হলেন। এরপর নাযিল হলঃ তোমরা পানাহার কর যতক্ষন রাতের কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা স্পষ্ট তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৪]

‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ ‏حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ‏ ‘’তোমরা পানাহার কর রাত্রির কাল রেখা হতে সাদা রেখা যতক্ষন স্পষ্টরুপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়্‌ তখন আমি একটি কাল এবং একটি সাদা রশি নিলাম এবং উভয়টিকে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলাম। রাতে আমি এগুলোর দিকে বারবার তাকাতে থাকি। কিন্তু নিকট পার্থক্য প্রকাশিত হল না। তাই সকালেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে এ বিষয় বললাম। তিনি বললেনঃ এতো রাতের আধার এবং দিনের আলো। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৪]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ফজরের আযান শ্রবণ করে, আর এ সময় তার হাতে খাদ্যের পাত্র থাকে, সে যেন আযানের কারণে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ না করে যতক্ষণ না সে তদ্বারা স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ না করে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪২, হাদিসের মানঃ হাসান]

সাহরী খাওয়ার গুরুত্বঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০১]

আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাদের ও কিতাবীদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪২১]

আবু আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম যে, আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন দুজন সাহাবী আছেন যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন, সাহারী বিলম্বে খান। অন্যজন ইফতার বিলম্বে করেন এবং সাহারী তাড়াতাড়ি খান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহারী বিলম্বে খান? আমি বললামঃ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তখন তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকমই করতেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৬৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমাদের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) এবং আহলে কিতাব-এর সাওমের মধ্যে পার্থক্য হল সাহারী খাওয়া। (আমরা সাহারী খাই কিন্তু ইয়াহুদ ও খ্রিস্টানরা তা খায় না)। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৭০, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাহারী এবং ফজরের সালাতের মধ্যে ব্যবধানঃ
আনাস (রাঃ) সূত্রে যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাহারী খেলাম। অতঃপর সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। রাবী বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, এতভয়ের মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণ ছিল? তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সম পরিমাণ সময়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৫৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাওমের নিয়্যাত করাঃ
হাফসা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ফজরের পূর্বেই সাওমের নিয়্যত (দূঢ় ইচ্ছা) না করে তার সাওম পালন হবে না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২৩৩৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাওম পালনকারী ভুলে পানাহার করে ফেললেঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাদার ভুলক্রমে যদি আহার করে বা পান করে ফেলে, তাহলে সে যেন তার সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৯]

ইফতারের সময়ঃ
‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত্র সে দিক থেকে ঘনিয়ে আসে ও দিন এদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩০]

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আর তিনি ছিলেন সায়িম। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি দলের কাউকে বললেনঃ হে উমুক! উঠ। আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, দিন তো আপনার এখনো রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তারপর সে নামল এবং তাঁদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আনল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, তারপর বললেনঃ যখন তোমরা দেখবে, রাত একদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে, তখন সায়িম ইফতার করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩১]

সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন যাবৎ ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩৩]

ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেন। এরপর এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলিয়ে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি (পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত) অপেক্ষা করতেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেনঃ নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। (তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ) যখন তুমি এদিক (পূর্বদিক) হতে রাত্রির আগমন দেখতে পাবে তখন রোযাদার ইফতার করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩৪]

সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪২৫]

উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রাত আসে দিন চলে যায় এবং সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪২৯]

ইবন সালিম আল্- মুকাফফা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার (রাঃ) কে এক মুষ্টির অধিক দাঁড়ি কর্তন করতে দেখেছি। এরপর তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বলতেন, তৃষ্ণা নিবারিত হয়েছে, শিরা- উপশিরা পরিতৃপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ্ চাহেতু বিনিময় নির্ধারিত হয়েছে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪৯, হাদিসের মানঃ হাসান]

যা দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাবঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিব এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের আগেই কিছু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে কিছু শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করে নিতেন। আর যদি শুকনা খেজুর না পেতেন তবে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৬৯৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]

লাইলাতুল ক্বাদর ও ইতিকাফঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি লাইলাতুল ক্বাদরে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদাত করে, তাঁর পিছনের সমস্ত গুনাহ মাপ করা হবে। আর যে ব্যাক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তাঁরও অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮০]

সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (তাঁদের দেখা) স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন। লাইলাতুল কদর রমাযানের শেষ দশকের সপ্তম রাতে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি মনে করি যে, (লাইলাতুল কদর শেষ দশকে হবার ব্যাপারে) তোমাদের স্বপ্নগুলোর মধ্যে পরস্পর মিল রয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন তা শেষ দশকে অনুসন্ধান করে। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৫৮]

সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, এক ব্যাক্তি (রমযানের) ২৭ তম রাতে লায়লাতুল কদর দেখতে পেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও তোমাদের মত স্বপ্ন দেখান হয়েছে যে, তা রমযানের শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব এর বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৪]

উকবা ইবনু হুরায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশদিনে কদরের রাত অনুসন্ধান কর। তোমাদের কেউ যদি দূর্বল অথবা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষ সাত রাতে অলসতা না করে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৬]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (রমযানের) শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান কর অথবা তিনি বলেছেন, শেষের সাত রাতে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৮]

আবূ সাঈদ খূদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমযানের) মাঝের দশকে ইতিকাফ করেন। অতঃপর ২০তম দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এবং ২১তম দিনের সূচনাতে তিনি নিজ বাসস্থানে ফিরে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে যারা ইতিকাফ করেন, তারাও নিজ নিজ আবাসে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর একবার রমযান মাসের মাঝের দশকে ইতিকাফ করলেন। যে রাতে তাঁর ইতিকাফ হতে ফিরে আসার কথা, সে রাতে (পূনরায়) ইতিকাফ আরম্ভ করলেন ও লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন।
এরপর তিনি বললেন, আমি সাধারণত এই (মধ্যম) দশকে ইতিকাফ করতাম। এরপর শেষ দশকেও ইতিকাফ করা আমার কাছে সমীচীন মনে হল। অতএব যে ব্যাক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন নিজ ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করে। আমি এই (কদরের) রাত স্বপ্নে দেখেছিলাম কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোত তা অনুসন্ধান কর। আমি স্বপ্নে নিজেকে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি।
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, ২১তম রাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। তিনি যখন ফজরের সালাত থেকে ফিরলেন, তখন আমি তাঁর মুখমন্ডল কাদা ও পানিতে সিক্ত দেখলাম। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪০]

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন। এরপর তিনি মাঝের দশকেও একটি তাঁবুর মধ্যে ইতিকাফ করলেন এবং তাবুর দরজায় একটি চাটাই ঝূলান ছিল। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাঁবুর কোণে রাখলেন এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বললেন এবং তারাও তাঁর নিকট এগিয়ে এল। তিনি বললেন, এই রাতের অনুসন্ধানকল্পে আমি (রমযানের) প্রথম দশকে ইতিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ইতিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক (ফিরিশতা) এসে আমাকে বলল, লায়লাতুল কদর শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে।
লোকেরা তাঁর সঙ্গে (শেষ দশকে) ইতিকাফ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, স্বপ্নে আমাকে তা কোন এক বেজোড় রাতে দেখনো হয়েছে এবং আমি যেন সেই রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ফজরের সিজদা করছি। (রাবী বলেন) তিনি ২১তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফজরের সালাতে দাঁড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হল। ফলে ছাদ থেকে মসজিদে পানি বর্ষিত হল এবং আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। তিনি ফজরের সালাত শেষে যখন বের হয়ে এলেন তখন তাঁর কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কর্দমাক্ত ছিল। আর তা ছিল রমযানের শেষ দশকের প্রথম (বা ২১তম) রাত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪২]

আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে কদরের রাত দেখান হয়েছিল। অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্নে আরও দেখান হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩তম রাতে বৃষ্টি হল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে (ফজরের) সালাত আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তাঁর কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেলাম। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) বলতেন, তা ছিল ২৩তম। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪৬]

যির ইবনু হুবায়শ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে, সে কদরের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি (উবাই) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি একথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমযনি মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭তম রজনী। অতঃপর তিনি শপথ করে বললেন, তা ২৭তম রজনী। আমি (যির) বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলছেন? তিনি বললেন, বিভিন্ন আলামত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে যে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবহিত করেছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উঠবে কিন্তু তার আলোতে তেজ থাকবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪৮]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৫/ইতিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ২৬৫৪]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত রমযানের শেষ দশকেই ইতিকাফ করতেন। তার ইন্তেকালের পর তার সমধর্মিগীগণও ইতিকাফ করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৫/ইতিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ২৬৫৫]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশক শুরু হওয়ার সাথে সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জেগে থাকতেন ও নিজ পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং তিনি নিজেও ইবাদতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৫/ইতিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ২৬৫৮]

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ হতে বের হবেন, তিনি বললেনঃ যারা আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশক ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল কদর) দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হল, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার দু’চোখ দেখতে পায়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৫/ই'তিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ১৯০০]

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ইতিকাফে থাকতেন তখন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৫/ই'তিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ১৯০২]

আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকরা (রাঃ) এর কাছে একবার লায়লাতুল ক্বাদর সম্পর্কে আলোচনা হল। তিনি বললেন, আমি লায়লাতুল ক্বাদর রামাযানের শেষ দশ দিন ছাড়া অন্য কোন রাতে অনুসন্ধান করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে একটি বাণী শোনার কারণে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা এ রাতটিকে রামাযানের নয় দিন বাকী থাকতে বা সাতদিন বাকী থাকতে বা পাঁচ দিন বাকী থাকতে, তিন দিন বাকী থাকতে বা এর শেষ রাতে অণ্বেষন কর। রাবী বলেন, আবূ বাকরা (রাঃ) রামাযানের বিশ দিন পর্যন্ত অন্যান্য সুন্নাতের মতই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। কিন্তু শেষ দশ দিনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়াস চালাতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৭৯২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রমযান মাসে বেশি দান করাঃ
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য লোকদের তুলনায় অত্যধিক দানশীল ব্যাক্তি ছিলেন। রমযান মাসে যখন জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি অত্যধিক দানশীল হয়ে যেতেন। জিবরীল (আঃ) রমযানের প্রত্যেক রাত্রে তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন জিবরীল (আঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি প্রবাহমান বায়ু অপেক্ষাও অত্যধিক দানশীল হতেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২০৯৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রমযানে পাপ থেকে বিরত থাকাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তাঁর এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮২]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য, তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। কেউ যদি তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ! সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়ইমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাঁকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওম বিনিময়ে আনন্দিত হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৩]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত্ তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযাবস্থায় মিথ্যা কথা ও অপকর্ম পরিহার করে না, সে ব্যক্তির পানাহার পরিত্যাগ করাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]

লাকীত ইবন সাবুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা রোযা থাকাবস্থায় ব্যতীত অন্য সময়ে নাকে অধিক পানি প্রবেশ করাবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]

জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় সাওম পালনঃ
আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার পিতা ‘আয়িশা (রাঃ) এবং উম্মে সালামা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। (অপর বর্ণনায়) আবূল ইয়ামান (রহঃ) মারওয়ান থেকে বর্ণিত যে, ‘আয়িশা (রাঃ) এবং উম্মে সালামা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনূবী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৩]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমজান মাসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভোর হত ইহতিলাম ব্যতীত (জুনুবী অবস্থায়)। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৭]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার জন্য এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। এ সময় তিনি দরজার পেছন থেকে কথাগুলো শুনছিলেন। লোকটি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! জানাবাতের অবস্থায় আমার ফজরের সালাতের সময় হয়ে যায়, এমতাবস্থায় আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারি কি? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জানাবাতের অবস্থায় আমারও ফজরের সালাতের সময় হয়ে যায় আমি তো সাওম পালন করি। এরপর লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তো আমাদের মত নন। আল্লাহ তা'আলা আপনার পূর্বাপর সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার আশা, আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে সর্বাধিক ভয় করি এবং আমি সর্বাধিক অবগত ঐ বিষয় সম্পর্কে, যা থেকে আমার বিরত থাকা আবশ্যক। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪৬৪]

সায়িম কর্তৃক স্ত্রী স্পর্শ করাঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) অবস্থায় চুমু খেতেন এবং গায়ে গা লাগাতেন। তবে তিনি তাঁর প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে তোমাদের চাইতে অধিক সক্ষম ছিলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৪]

সাওমরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস হারাম ও এর কাফফারাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসাছিলাম। এমন সময় এক ব্যাক্তি এস বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? সে বলল, আমি সায়িম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আযাদ করার মত কোন ক্রীতদাস তুমি পাবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি একাধারে দু’মাস সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারবে? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেনঃ ষাটজন মিসকীন খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। রাবী বলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেমে গেলেন, আমরাও এ অবস্থায় ছিলাম। এ সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ‘আরাক পেশ করা হল যাতে খেজুর ছিল। ‘আরাক হল ঝুড়ি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, আমি। তিনি বললেনঃ এগুলো নিয়ে সাদকা করে দাও। তখন লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার চাইতেও বেশী অবাবগ্রস্থকে সাদকা করব? আল্লাহর শপথ, মদিনার উভয় লাবা অর্থাৎ উভয় প্রান্তের মধ্যে আমার পরিবারের চাইতে অভাবগ্রস্থ কেউ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন এবং তাঁর দাঁত (আনইয়াব) দেখা গেল। এরপর তিনি বললেন এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১২]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন এক ব্যাক্তি রমযানোর সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ভেংগে ফেলার কারণে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন, হয় তো সে একটি গোলাম আযাদ করবে অথবা দুই মাস সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে অথবা ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪৭০]

সায়িম অবস্থায় শিঙ্গা লাগানোঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সায়িম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১৫]

ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী থেকে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ সূর্য এখনো ডুবেনি। তিনি বললেনঃ সওয়ারী থেকে নামো এবং আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তারপর সে সওয়ারী থেকে নেমে ছাতু গুলিয়ে আনলে তিনি তা পান করলেন এবং হাতের ইশারায় বললেনঃ যখন দেখবে রাত এদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে তখন বুঝবে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যাক্তির ইফতারের সময় হয়েছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১৭]

সফর অবস্থায় সাওম পালন করা না করাঃ
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হামযা ইবনু ‘আমর আসলামী (রাঃ) অধিক সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনে অভ্যস্থ ছিলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আমি সফরেও কি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারি? তিনি বললেনঃ ইচ্ছা করলে তুমি সাওম পালন করতে পার, আবার ইচ্ছা করলে নাও করতে পার। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১৯]

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রমযান মাসে সফর করতাম কিন্তু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীকে তার সাওমের কারণে দোষারোপ করা হতো না এবং সাওম ভঙ্গকারীকেও তার সাওম ভঙ্গের কারণে দোষারোপ করা হতো না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৮]

আনাস (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে রহিত করে দিয়েছে অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) এবং মুলতবী রেখেছেন সাওমকে। আর গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মহিলা থেকেও মুলতবী করে দিয়েছেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২৭৭, হাদিসের মানঃ হাসান]

হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ আমি সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার সামর্থ্য রাখি, তাতে কি আমার কোন অসুবিধা হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, সেটা হল আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একটি সুযোগ। অতএব, যে ব্যক্তি তার-সদ্ব্যবহার করল সে ভাল কাজ করল আর যে ব্যক্তি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে ভালবাসে তার কোন অসুবিধা নেই। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২৩০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রমযানের কাযা আদায়ঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার উপর রমযানের যে কাযা থেকে যেত তা পরবর্তী শাবান ছাড়া আমি আদায় করতে পারতাম না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮২৬]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের মঝে এমন অনেকে আছেন যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে রমযানের সিয়াম পালনে সক্ষম হতেন না। অতঃপর শা'বান না আসা পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে থাকার কারণে তার পক্ষে কাযা আদায় করাও সম্ভব হতো না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৬২]

আবূ সালামা ইবন আবদুর রহমান আয়েশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, যদি আমার উপর (হায়েযের কারণে রামাযানের) কোন রোযার কাযা আবশ্যক হতো, তবে শা‘বানের মাস আগমনের পূর্বে আমি উহার কাযা আদায় করতে সক্ষম হতাম না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৯১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আলী ইবনু হুজর (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা হায়য এর পর যখন পবিত্র হতাম তখন তিনি আমাদের সিয়াম কাযা পালন করতে নির্দেশ দিতেন। সালাত (নামায/নামাজ) কাযা করতে বলতেন না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৭৮৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

মুআযা আদাবীয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল যে, ঋতুবতী মহিলা যখন ঋতু থেকে পবিত্র হবে তখন কি সে সালাত কাযা করবে? তিনি বললেন, তুমি কি হারুরী গোত্রের মহিলা? আমরা তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ঋতুবতী হতাম এবং যখন পবিত্র হতাম তখন আমাদেরকে সাওম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হল কিন্তু সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২৩২০, হাদিসের মানঃ সহিহ]

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাওমের কাযা আদায়ঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) এর কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যাক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম আদায় করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮২৮]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যাক্তি এস বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা এক মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) জিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তার পক্ষ থেকে সাওম কাযা করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হল অধিক যোগ্য। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮২৯]

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈকা মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার এক মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) কাযা আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, যদি তার উপর কোন ঝণ থাকত তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা অধিক উপযুক্ত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৬৪]

ইবন আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি রামাযান মাসে রোগাক্রান্ত হয় এবং সে ঐ অসুখ হতে সুস্থ না হয়ে মৃত্যুবরণ করে তবে তার পক্ষ হতে (ফিদিয়া প্রদান করত) মিসকীনদের খাওয়াতে হবে তবে তার উপর এর কাযা থাকবে না। আর যদি মৃত ব্যক্তি কোন মানত করে থাকে, তবে তা তার উত্তরাধিকারীগণ তার পক্ষ হতে পূর্ণ করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]

দুই ঈদের দিনে সিয়াম পালন করা হারামঃ
ইবনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবূ ‘উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার ঈদে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সঙ্গে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ঈদুল ফিতরের দিন) যে দিন তোমরা তোমাদের সাওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত খাও। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৬৭]

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'দিন অর্থাৎ ঈদূল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৫]

রোযাদার ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলেঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযা থাকাবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তার জন্য কাযা আদায় করা জরুরী নয়। অবশ্য যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তবে সে যেন কাযা আদায় করে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

প্রচলিত যঈফ হাদিসঃ
সালমান ইবন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রোযা রাখে, তখন সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। আর সে যদি খেজুর না রায়, তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে, কেননা পানি পবিত্র। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪৭, হাদিসের মানঃ যঈফ]

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বমি করে, তার রোযা ভঙ্গ হয় তবে যার স্বপ্নদোষ হয় এবং যে শিংগা লাগায় এতে রোযা ভঙ্গ হয় না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৮, হাদিসের মানঃ যঈফ]

নযর ইবনু শায়বান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ)-কে বললামঃ আপনি আমার কাছে বর্ণনা করুন রমযান মাস সম্পর্কে যা আপনি আপনার পিতা থেকে শুনেছেন। আর আপনার পিতা তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমতাবস্থায় শুনেছিলেন যে, আপনার পিতা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝখানে অন্য আর কেউ ছিল না। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর রমযান মাসের সাওম ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) কে সুন্নাত করে দিয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে এবং তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে সে দিনের মত পবিত্র হয়ে যায় যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২১৪, হাদিসের মানঃ যঈফ]

শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি রমযান সম্পর্কে আমাদের সবার বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে সাওম পালন করার তৌফিক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন। আমীন।





তাহারাত বা পবিত্রতা অর্জনঃ-


আসসালামু আলাইকুম। ইসলামে পবিত্রতা বলতে আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতা দুটোকেই বুঝায়। পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। হারাম বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকাও পবিত্রতার অংশ। আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রয়োজন ও সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত আর তাই কুরআনে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে লজ্জাবোধ করেন নাইকুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,

সাফল্য লাভ করবে সে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, আর তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামায কায়েম করে। কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাতই অধিক উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। [সূরা আল-আ'লা/৮৭, আয়াতঃ ১৪-১৭]

শপথ আকাশের এবং যিনি ওটা নির্মাণ করেছেন তাঁর। কসম যমীনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন। শপথ মানুষের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্মাকে পবিত্র করেছে। সেই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজ আত্মাকে কলূষিত করেছে। [সূরা আশ-শামস/৯১, আয়াতঃ ৫-১০]

তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিণী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে। [সূরা আর-রুম/৩০, আয়াতঃ ২১]

লোকেরা তোমাকে ঋতু সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘তা অশুচিকাজেই ঋতুকালে স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাক এবং যে পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। তারপর যখন পবিত্র হবে, তখন তাদের সঙ্গে সহবাস কর, যেভাবে আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাহ্কারীদেরকে ভালবাসেন আর পবিত্রতা অবলম্বীদেরকেও ভালবাসেন। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ২২২]

হে মুমিনগণ! তোমরা যখন সলাতের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখমন্ডল এবং কনুই পর্যন্ত হস্তদ্বয় ধৌত করবে। আর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করবে। তোমরা যদি অপবিত্র অবস্থায় থাক তবে বিধিমত পবিত্রতা অর্জন করবে। আর যদি পীড়িত হও বা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ যদি মলত্যাগ করে আসে অথবা যদি তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর আর পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসেহ করবে। আল্লাহ তোমাদের উপর সংকীর্ণতা চাপিয়ে দিতে চান না, তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান আর তোমাদের প্রতি তাঁর নিআমাত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ ৬]

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সলাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার এবং অপবিত্র অবস্থায়ও (সলাতের কাছে যেও না) গোসল না করা পর্যন্ত (মসজিদে) পথ অতিক্রম করা ব্যতীত; এবং যদি তোমরা পীড়িত হও কিংবা সফরে থাক; অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান হতে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সঙ্গম করে থাক, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর, আর তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাসহ কর; আল্লাহ নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল। [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ ৪৩]

আর যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। [সূরা আল-ইসরা/১৭, আয়াতঃ ৩২]

নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। [সূরা আন-নুর/২৪, আয়াতঃ ১৯]

যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না। কেবল (সাফল্য লাভ করবে) সে ব্যক্তি যে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট আসবে। আর জান্নাতকে মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে। [সূরা আশ-শুআ'রা/২৬, আয়াতঃ ৮৮-৯০]

নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন যা তোমরা কর। [সূরা আল-আনকাবূত/২৯, আয়াতঃ ৪৫] 

আর নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। স্মরণ কর, সে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধ চিত্তে। [সূরা আস-সাফফাত/৩৭, আয়াতঃ ৮৩-৮৪]

হে বস্ত্রাবৃত! উঠ, অতঃপর সতর্ক কর। আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর। [সূরাঃআল-মুদ্দাসসির/৭৪, আয়াতঃ ১-৪]

পবিত্রতা অর্জনের উপায়গুলোর মধ্যে অজু ও গোসল অন্যতম। এবার আসুন, সহীহ হাদিসের আলোকে তাহারাত বা পবিত্রতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি -

উযূ ঈমানের অর্ধেকঃ
আবূ মালিক আশ আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। আলহামদুলিল্লাহ” (শব্দটি) পাল্লাকে ভরে দেয়। সূবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ (পাল্লাকে) ভরে দেয়, কিম্বা [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন] আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবতীঃ স্থান ভরে দেয়। সালাত (নামায/নামাজ) হল আলো, সাদাকা হল প্রমাণিকা, ধৈর্য হল জ্যোতি। কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে দলীল। প্রত্যেক মানুষ প্রত্যহ আপন সত্তাকে বিক্রি করে, তখন কেউ সত্তার উদ্ধারকারী হয় আর কেউ হয় ধবংস কারী। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪২৭]

আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুষ্ঠুভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ঈমানের অর্ধেক। আল-হামদুলিল্লাহ (নেকীর) পাল্লা পূর্ণ করে। সুবহানাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী ভরে দেয়। সালাত হল নূর, যাকাত হল দলীল, ধৈর্য হল আলোকমালা এবং কুরআন হল তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষের প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষ ভোরে উপনীত হয়ে নিজেকে বিক্রয় করে, এতে সে হয় তাকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৮০, হাদিসের মানঃ সহিহ]

কুলি ও মিসওয়াক করাঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করলেন। তারপর কুলি করলেন এবং বললেনঃ এতে তৈলাক্ত পদার্থ রয়েছে (এজন্য কুলি করা ভাল)। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২১১]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন তখন প্রখমেই মিসওয়াক করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৮৪]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম তবে তাদেরকে প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ , হাদিসের মানঃ  সহিহ]

জুমুআর দিন গোসল করাঃ
আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুম্মার দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৩]

আওস ইবনু আওস আছ-ছাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করাবে (জুমুআর নামাযের পূর্বে স্ত্রী সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা সুগন্ধিযুক্ত দ্রব্যাদি দ্বারা ভালরূপে গোসল করবে, অতঃপর সকাল-সকাল মসজিদে গিয়ে ইমামের নিকটবর্তী স্হানে বসে খুতবা শুনবে এবং যাবতীয় প্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্ম হতে বিরত থাকবে তার মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নাত হিসাবে পরিগণিত হবে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এক বছরের দিনের রোযা এবং রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জ্বুদের নামায আদায়ের ছওয়াবের সমতুল্য হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন নাপাকীর গোসলের অনুরূপ গোসল করে সর্বপ্রথমে নামাযের জন্য মসজিদে আসবে সে একটি উই সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। পরে যে ব্যক্তি আসবে সে একটি গাভী সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। তারপরে আগমনকারী ব্যক্তি একটি উত্তম দুম্বা-সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে এবং অবশেষে যে ব্যক্তি আসবে সে একটি মুরগী সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। অতঃপর পঞ্চম নম্বরে আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। অতঃপর ইমাম খুত্বার জন্য বের হলে ফেরেশতারা দফতর বন্ধ করে মিম্বরের নিকটবর্তী হয়ে খুত্বা শুনে থাকে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

ফিতরাত বা স্বভাবজাত কার্যঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফিতরাত পাঁচটি। খাতনা করা, নাভির নিচের পশম কাটা, গোঁফ ছাটা, নখ কাটা এবং বগলের পশম উপড়ে ফেলা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৯১]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা গোঁফ কেটে ফেল এবং দাঁড়ি লম্বা কর। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৯৩]

আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কুলি করা, নাকের ছিদ্রপথে পানি পৌঁছানো, মিসওয়াক করা, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, আঙ্গুলের সংযোগ স্থলগুলো ধৌত করা, শৌচ করা, খতনা করা ইত্যাদি মানব স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৯৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্গত। খাতনা করা, নাভির নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপরে ফেলা। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি গোঁফ না ছাঁটে সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভীর নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলার ও বগলের পশম উপড়ে ফেলার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমরা যেন এ কাজগুলো চল্লিশ দিনের বেশী সময় পর্যন্ত ফেলে না রাখি। রাবী বলেন, আরেকবার চল্লিশ রাতের কথাও বলেছেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উযূর ফযীলতঃ
নুআয়ম মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল থাকবে উজ্জ্বল। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৩৮]

আমর ইবনু সাঈদ ইবনুল আতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিম ব্যাক্তির যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয় আর সে সালাতের উযূ (ওজু/অজু/অযু)-কে উত্তমরুপে আদায় করে, সালাতের বিনয় ও রুকুকে উত্তমরূপে আদায় করে তা হলে যতক্ষন না সে কোন কবীরা গোনাহে লিপ্ত হবে, তার এই সালাত (নামায/নামাজ) তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৩৬]

হুমরান ইবনু আবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ) কে উযূর পানি দিতাম। আর তিনি প্রত্যহ গোসল করতেন। উসমান (রাঃ) বলেছেন, আমাদের এ সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর, মিসআর বলেন, আমার মনে হয় সালাতটি ছিল আসরের- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কিছু বলতে মনস্থ করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ঠিক করতে পারছিলাম না যে তোমাদেরকে একটি বিষয়ে কিছু বলব না নীরব থাকবো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যদি তা কল্যাণকর হয় তাহলে আমাদেরকে বলুন, আর অন্য কিছু হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, কোন মুসলমান যখন পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার উপর যে পবিত্রতা অপরিহার্য করেছেন তা পূর্ণাঙ্গরুপে অর্জন করে এবং তারপর এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে তাহলে এ সকল সালাত তাদের মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৩৬]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) এবং এক জুম'আ থেকে আরেক জুমুআ পর্যন্ত এসব তাদের মধ্যবতী সময়ের জন্য কাফফারা হয়ে যায় যতক্ষন পর্যন্ত কবীরা গুনাহে লিপ্ত না হয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৩]

উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উট চরানোর দায়িত্ব নিজেদের উপরে ছিল। আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমি তাঁর এ কথা শুনতে পেলাম, “যে মুসলমান সুন্দর রুপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি তার প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। উক্‌বা বলেন, কথাটি শুনে আমি বলে উঠলাম ওহ, কথাটি কত উত্তম! তখন আমার সামনের একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি উমর (রাঃ)। তিনি আমাকে বললেন তোমাকে দেখেছি, এইমাত্র এসেছা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগে বলেছেন, তোমাদের যে ব্যাক্তি কামিল বা পূর্ণরূপে উযূ করে এই দুআ পাঠ করবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুলতার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৬]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলমান কিংবা বলেছেন, কোন মুমিন বান্দা যখন যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তখন মুখ ধোয়ার সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যার দিকে তার দুচোখের দৃষ্টি পড়েছিল; এবং যখন দুইহাত ধোয়, তখন, পানির সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল শোনাহ বের হয়ে যায়। যেগুলো তার দু হাতে ধরেছিল; এবং যখন দুই পা ধোয় তখন পানির সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যেগুলোর দিকে তার দু'পা অগ্রসর হয়েছিল; ফলে (উযূর শেষে) লোকটি তার সমুদয় গুনাহ থেকে সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয়ে উঠে [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭০]

নূআয়ম ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলাম। তিনি তার মুখমন্ডল ধুইলেন এবং পরিপূর্ণ ও উত্তমরুপেই তা ধুইলেন। এরপর তিনি ডান হাত ধুইলেন এমন কি বাহুর কিছু অংশও ধুয়ে ফেললেন। তারপর বাম হাত ও বাহুর কিছু অংশসহ ধুয়ে ফেললেন। এরপর মাথা মাসহ করলেন। তারপর তিনি ডান পা ধুইলেন এমনকি গোছারও কিছু অংশ ধুয়ে ফেললেন। তারপর বাম পা গোছার কিছু অংশসহ ধুইলেন। তারপর বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এভাবেই উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি তিনি আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরিপূর্ণ ও উত্তমরুপে করার কারণে কিয়ামতের দিন তোমাদের মুখমন্ডল জ্যোর্তিময় এবং হাত পা উজ্জ্বল হবে। অতএব, তোমাদের যার ইচ্ছা সে যেন তার মুখমন্ডলের নূর এবং হাত-পায়ের দীপ্তি বাড়িয়ে নেয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭২]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মাত হাউযের পাড়ে আমার কাছে আসবে আর আমি তখন (অন্যান্য উম্মাতের) লোকজনকে সে হাউয থেকে ফিরিয়ে দিতে থাকব যেমনিভাবে লোকে অন্যের উটকে নিজের উট থেকে ফিরিয়ে রাখে। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া নাবীয়াল্লাহ! আপনি কি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তোমাদের এমন এক চিহ্ন থাকবে যা তোমাদের ছাড়া অন্য কারো থাকবে না। (আর তা হল) তোমরা আমার কাছে আসবে মুখমন্ডল শুভ্র এবং হাত-পা দীপ্তিমান অবস্থায়। এটা হবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এর কারণে। আর তোমাদের মধ্য থেকেই একটি দলকে আমার কাছে আসতে বাধা দেয়া হবে তাই তারা আমার কাছে আসতে পারবে না। তখন আমি বলব, প্রভু! এরা তো আমার লোকজন! তখন এর জবাবে একজন ফেরেশতা আমাকে বলবে, আপনি কি জানেন, এরা আপনার পরে কী অঘটন ঘটিয়েছিল? [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭৫]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন (কাজের) কথা বলব না, যদ্বারা আল্লাহ তায়ালা পাপরাশি দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা উচু করে দিবেন? সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, তা হল, অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মসজিদে আসার জন্য বেশী পদচারণা এবং এক সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। জেনে রাখ, এটাই হল রিবাত (তথা নিজকে আটকে রাখা ও শয়তানের মুকাবিলায় নিজকে প্রস্তুত রাখা)। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৮০]

আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে কুলি করলো এবং নাকে পানি পৌঁছালো, তার গুনাহ্সমূহ তার মুখ ও নাক থেকে বের হয়ে যায়। সে তার মুখমন্ডল ধৌত করলে তার গুনাহসমূহ তার মুখমন্ডল থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু চোখের ভ্রুর নিম্নাংশ থেকেও গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার উভয় হাত ধৌত করলে তার দু হাত থেকে গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার মাথা মাসহ করলে তার মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু কান থেকেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। সে তার উভয় পা ধৌত করলে তার পদদ্বয় থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়, এমনকি তার পদদ্বয়ের নখের নিম্নভাগ থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর তার সালাত ও তার মসজিদে যাতায়াতের সাওয়াব (উল্লিখিত বিষয়ের) অতিরিক্ত। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৮২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের বললেন আমি কি তোমাদের এমন এক বিষয়ের কথা বলব, যার কারণে আল্লাহ তাআলা গুনাহ্ বিদূরিত করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তা হলঃ কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণ ভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, বেশি করে মসজিদে যাওয়া, এক সালাতের পর আরেক সালাতের অপেক্ষা করা। এ হলো জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত প্রতিরক্ষার মত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৫১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ বুরদা (রহঃ) কে মসজিদে এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত করতে শুনেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পন্ন করবে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ গণ্য হবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কবরস্থানের দিকে গেলেন। (তথায় উপস্থিত হয়ে) তিনি বললেনঃ হে মুমিন সম্প্রদায়ের ঘরের অধিবাসী! তোমাদেরকে সালাম, আমরাও ইনশাল্ললাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আশা করি আমার ভ্রাতৃবৃন্দকে দেখতে পাব। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভ্রাতা নই? তিনি বললেনঃ বরং তোমরা আমার সাহাবী। আর আমার ভ্রাতৃবৃন্দ হল যারা পরবর্তীকালে আসবে, আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের অগ্রবর্তী হব। তারা বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার যেসকল উম্মত পরবর্তীকালে আগমন করবে, আপনি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা বল তো, যদি কোন ব্যাক্তির একদল কালো ঘোড়ার মধ্যে সাদা চেহারা ও সাদা পদবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তবে কি সেই ব্যাক্তি তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? তারা বলেনঃ নিশ্চয়ই। তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন উযূর দরুণ তাদের হস্তপদ উজ্জ্বল হবে। আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের আগে গিয়ে অপেক্ষা করব। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৫০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

উযূ সহ রাতে ঘুমাবার ফযীলতঃ
বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর উযূর মতো উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেবে। তারপর ডান পার্শ্বে শুয়ে বলবেঃ
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ
হে আল্লাহ্! আমার জীবন আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ আপনার কাছে সোপর্দ করলাম এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল ও নাজাতের স্থান নেই। হে আল্লাহ্! আমি ঈমান আনলাম আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নাবীর উপর।
তারপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ফিতরাতে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলি তোমার শেষ কথা বনিয়ে নাও। তিনি বললেন, ‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথাগুলি পুনরায় শোনালাম। যখন  اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ পর্যন্ত পৌঁছে وَرَسُولِكَ বললাম, তখন তিনি বললেনঃ না; বরং وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ বল।  [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ৪৫]

হাদস ছাড়া উযূ করাঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের সময় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আমি বললামঃ আপনারা কিরূপ করতেন? তিনি বললেনঃ হাদস (উযূ ভঙ্গের কারন) না হওয়া পর্যন্ত আমাদের (পূর্বের) উযূই যথেষ্ট হত। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৪]

সমুদ্রের পানি দ্বারা অযূ করাঃ
ইবনুল ফিরাসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শিকারে যেতাম এবং আমার একটি পানির মশক ছিল, তাতে (পানের) পানি নিতাম এবং সমুদ্রের পানি দ্বারা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতাম। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে উত্থাপন করলাম। তিনি বলেনঃ তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণীও হালাল [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে সালাত আদায় নিষেধঃ
আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যাক্তিকে পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬১৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো লজ্জাস্থানের দিকে না তাকানোঃ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন নারী যেন অপর নারীর লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়। একইভাবে কোন পুরুষ যেন অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬৬১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

পেশাব-পায়খানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়াঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রকৃতির ডাকে শৌচাগারে যেতেন তখন বলতেন,  اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ (হে আল্লাহ! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার শরণ নিচ্ছি।) [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৪]
 
x
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা-পেশাবের স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করতেন তখন পড়তেনاللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِহে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তান থেকে [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পায়খানা হতে বের হয়ে ণ্ডফরানাকা বলতেন। (অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করছি) [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশ কালে বলতেনঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
[সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেনঃ غفرانك হে আল্লাহ, তোমার কাছে ক্ষমা চাই। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ , হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

পেশাব অপবিত্র  এবং তা থেকে বেঁচে থাকা অবশ্য জরুরীঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি বললেন, জেনে রাখ এ কবরবাসীদ্বয়কে আযাব দেয়া হচ্ছিল তবে কোন কঠিন (কাজের) দরুন তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছেনা। তাদের একজন চোগলখুরী করত। আর অপরজন তার পেশাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। তিনি [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেন, অতঃপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে দু টুকরা করলেন। তারপর এ কবরের উপর একটি এবং অন্য কবরের উপর একটি পুতে দিলেন। এরপর বললেন, হয়ত বা এদের আযাব কিছুটা লাঘব করা হবে যতদিন পর্যন্ত এ দুটি শুকিয়ে না যাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৭০]

ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, এই দুটি কবরে আযাব হচ্ছে। আর তা বিরাট কোন কিছুর জন্য নয়। এই জন তো পেশাব থেকে নিজেকে বাঁচাত না আর ঐ জন চোগলখুরী কর বেড়াত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ না করাঃ
আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলা হল, আপনাদের নাবী আপনাদের সবকিছুই শিখান এমনকি দেখা যায় ইস্তিঞ্জায় কেমন করে বসতে হবে তাও শিখিয়ে থাকেন। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, ডান হাতে ইস্তিঞ্জা করতে, তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে এবং পশুর মল ও হাড্ডী দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ , হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

স্থির পানিতে পেশাব করা নিষেধঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা শেষে আগমনকারী এবং (কিয়ামত দিবসে) অগ্রগামী। এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ৩৮]

জ্বীনদের খাবারঃ
তাঁর উস্তাদ হাফস ইবনু গিয়াছের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, তোমরা গোবর এবং হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করবে না। কারণ এগুলো তোমাদের ভাই জ্বীনদের খাবার। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ , হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ না করাঃ
আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ করতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

যে শিশু শক্ত খাবার ধরেনি তার পেশাব সম্পর্কেঃ
আবূ সাম্‌হ (রাঃ) বলেনআমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খাদিম ছিলাম। তাঁর নিকট হাসান অথবা হুসায়ন কে নিয়ে আসা হল। সে তাঁর বুকের উপর পেশাব করে দেয়। উপস্থিত লোকেরা তা ধোয়ার উদ্যোগ নিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাতে পানি ছিটিয়ে দাও। কেননা শিশু কন্যা সন্তান হলে তার পেশাব ধৌত করতে হয় এবং পুত্র সন্তান হলে তার পেশাবের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়াই যথেষ্ট। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উম্মু কুরয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (দুগ্ধপোষ্য শিশু) বালকের পেশাবের উপর পানি ছিটাতে হবে এবং বালিকার পেশাব ধুতে হবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূস সামহ (রাঃ) [তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাদেম ছিলেন] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছোট মেয়ের প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হয় আর ছোট ছেলের প্রস্রাবের উপর পানি ছিটাতে হয়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩০৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]     

উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্রকে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। শিশুটি তাঁর কোলে পেশাব করে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন এবং পরে তা পেশাবের স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

স্বপ্নদোষ হওয়াঃ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সে স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ করতে পারছে না-অথচ তার কাপড় (বীর্যপাতের কারণে) ভেজা মনে হয়। জবাবে তিনি বলেন, তাকে গোসল করতে হবে। অতঃপর তাকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তার স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে মনে হয়,কিন্তু তার কাপড়ে কোন চিহ্ন দেখতে পায় না। জবাবে তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তির গোসল করার প্রয়োজন নাই। অতঃপর উম্মে সুলাইম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেন, মহিলাদের যদি স্বপ্নদোষ হয়- তবে তাদের গোসল করতে হবে কি? জবাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন হা, (গোসল করতে হবে)। কেননা মহিলারাও পুরুষদের অর্ধাংগিনী বিশেষ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৩৬, হাদিসের মানঃ  হাসান]   

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) -এর মাতা উম্মে সুলাইম (রাঃ) যিনি আনসারী মহিলা ছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আল্লাহ্ তাআলা সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি- কোন মহিলার পুরুষের ন্যায় স্বপ্নদোষ হলে সে গোসল করবে কি না? আয়িশা (রাঃ) বলেন, জবাবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হ্যাঁ, তাকে গোসল করতে হবে, যদি সে বীর্যের চিহ্ন দেখতে পায়। . আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি উম্মে সুলাইম (রাঃ) -কে লক্ষ্য করে বলি, আপনার জন্য দুঃখ হয়, - মহিলারা কি এরূপ দেখে থাকে (অর্থাৎ তাদের কি স্বপ্নদোষ হয়)? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট এসে বলেনঃ হে আয়িশা। তোমার ডান হাত ধূলায় ধূসরিত হোক। স্ত্রীলোকদের বীর্য না থাকলে সন্তান কিরূপে মাতার আকৃতি প্রাপ্ত হয়? [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৩৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ কেউ ঘুম থেকে জোগে (তার শরীরে বা কাপড়ে) বীর্যের আর্দ্রতা দেখতে পেল কিন্তু স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে তার মনে পড়ে না তার সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে। এমনিভবে কারো যদি স্বপ্নদোষের কথা মনে পড়ে কিন্তু জেগে কোনরূপ আর্দ্রতা দেখতে না পায় তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে না। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! মেয়েদের কেউ যদি এই ধরনের কিছু দেখে তবে তাদেরও কি গোসল করতে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ,মেয়েরা তো পুরুষেরই অংশ। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আমর ইবনু বুজদান থেকে আবূ যার (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গনীমতের মাল (বকরীর পাল) জমায়েত হয়। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আবূ যার! তুমি এগুলো মাঠে নিয়ে যাও। তখন আমি সেগুলিকে রাবাযা নামক স্হানে নিয়ে যাই সেখানে আমি অপবিত্র হয়ে পড়ি। এমতাবস্থায় সেখানে আমি ৫/৬ দিন (গোসল ব্যতীত) অবস্হান করি অতঃপর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে প্রত্যাবর্তন করি। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ হে আবূ যার! এ সময় আমি (লজ্জায়) নিশ্চুপ থাকি। তিনি পুনরায় বলেনঃ তোমার মাতা তোমার জন্য ক্রন্দন করুক এবং তোমার মাতার জন্য আফসোস। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা নাম্নী দাসীকে ডেকে পানি আনার নির্দেশ দেন। সে পানি ভর্তি একটি বড় পাত্র আমার সম্মুখে হাযির করে এবং সে একটি কাপড়ের পর্দার দ্বারা একদিকে আমাকে আঁড়াল করে এবং অপর দিকে আমি উটের পিঠের আসন রেখে পর্দা করি। অতঃপর আমি গোসল করি এ সময় আমার মনে হয় যেন আমার কাঁধ হতে একটি পর্বত পরিমাণ বোঝা অপসারণ করলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পবিত্র মাটি মুসলমানদের জন্য (পানির দুস্প্রাপ্যতার সময়) পানির সমতুল্য (পবিত্রতা অর্জনের জন্যে)। যদি দশ বৎসরকালও পানি দুস্প্রাপ্য হয় তবে এ সময় পবিত্রতা অর্জনে পাক মাটই যথেষ্ট। অতঃপর যখন পানি পাবে, তখন গোসল করবে। কেননা এটাই উত্তম ব্যবস্হা[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৩২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

আব্দুর রহমান ইবনুজ-জুবায়ের থেকে আমর ইবনুল আস্ (রাঃ)-র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাতু সানাসিলের যুদ্ধের সময় একদা শীতের রাতে আমার সপ্নদোষ হয় আমার আশংকা হল যে, যদি এই সময় আমি গোসল করি তবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমি তায়াম্মুম করে আমার সাথীদের সাথে ফজরের নামায আদায় করি। প্রত্যাবর্তনের পর আমার সংগী সাথীরা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আমর! তুমি নাপাক অবস্হায় তোমার সথীদের সঙ্গে নামায আদায় করলে? আমি তাকে আমার গোসল, করার অক্ষমতার কথা জ্ঞাপন করলাম এং আরো বললাম, আমি আল্লাহ্ তা'আলাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা নিজেদের হত্যা কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান-(সূরা নিসা ২৯)। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু না বলে মুচকি হাসি দেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না, আমাকে বলুন, কোন নারী যদি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা পুরুষ দেখে থাকে, এতে কি তারও গোসল ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখবে। এতে উম্মু সালামা হেসে দিলেন, তিনি বললেনঃ নারীরও কি স্বপ্নদোষ হয়? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা না হলে সন্তান মায়ের সদৃশ হয় কিরূপে?  [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৯৭, হাদিসের মানঃ  সহিহ]    

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষের বীর্য গাঢ় সাদা বর্ণের এবং নারীর বীর্য পাতলা হলদে বর্ণের। এতদুভয়ের যেটই পূর্বে নির্গত হয় সন্তান তার সদৃশ হয়ে থাকে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২০০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]     

গোসল ফরয না হওয়াঃ
ইব্রাহীম ইবনু মূসা আবদুল্লাহ্ ইবনু সাদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গোসল ফরজ হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করি এবং পেশাবের পর মযী নির্গত হওয়ার ব্যাপারেও জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, এটা হল মযী এবং যখন পুরুষাঙ্গ থেকে মযী নির্গত হয়, তখন তুমি তোমার লজ্জাস্থান ও অন্ডকোষদ্বয় ধৌত করবে, অতঃপর নামায আদায়ের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২১১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ মযী বের হলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে আর মনী বের হলে গোসল করতে হবে।  [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সাহল ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মযীর কারণে আমি অত্যন্ত কষ্টে ছিলাম। এর জন্য আমকে বহুবার গোসল করতে হত। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই কথা বললাম এবং এই সম্পর্কে বিধান জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এই ক্ষেত্রে তোমার জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই যথেষ্ট। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, যদি তা আমার কাপড়ে লাগে তবে কি হবে? তিনি বললেনঃ এক অঞ্জলী পানি নিবে আর যেখানে যেখানে লেগেছে বলে দেখতে পাবে সেখানে ঐ পানি ছিটিয়ে দিবে।  [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৫, হাদিসের মানঃ  হাসান]

সহবাসের দোয়াঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ তাঁর স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলেبِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا (আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং যা আমাদেরকে দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ)- তারপর (এ মিলনের দ্বারা) তাদের কিসমতে কোন সন্তান থাকলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৪৩]

একবার স্ত্রী সঙ্গমের পর পুনরায় স্ত্রী সহবাসের পূর্বে উযু করাঃ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর সাথে একবার সহবাসের পর পুনরায় সংগম করতে চাইলে- সে যেন মাঝখানে একবার উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২২০, হাদিসের মানঃ  সহিহ] 

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন . উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে আরজ করেন যে,তিনি রাতে স্ত্রী সঙ্গমে অপবিত্র হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ - তোমার গুপ্তাংগ ধৌত কর উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর, অতঃপর ঘুমাও। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২২১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমাদে মধ্যে কেউ একবার স্ত্রীর সাথে মিলনের পর পুনরায় মিলিত হতে চাইলে সে যেন মাঝে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

হায়য বিশিষ্ট মহিলার সাথে সঙ্গম হারামঃ
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কেউ হায়য বিশিষ্ট মহিলার সাথে সঙ্গম করলে বা স্ত্রীর পশ্চাৎদ্বার দিয়ে মিলিত হলে বা গণকের কাছে গেলে সে যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি অবতীর্ণ বিষয়সমূহের সাথে কুফরী করল[সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৩৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

সহবাসের পর অযূ করে ঘুমানোঃ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অপবিত্র ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, সে কি ঘুমাতে বা পানাহার করতে পারে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, যদি সে তার সালাতের উযূ (ওজু/অজু/অযু)র ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৯২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, তিনি রাতে অপবিত্র হন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তুমি (তখন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং তোমার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে তারপর ঘুমাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৫৯৭]

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুনুবী অর্থাৎ গোসল ফরয অবস্থায় পানি স্পর্শ না করেও কোন কোন সময় ঘুমিয়ে পড়তেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেছিলেন হ্যাঁ পারে, যদি সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১২০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার ইচ্ছা করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আর যখন পানাহারের ইচ্ছা করতেন, তখন উভয় হাত ধুতেন, তারপর পানাহার করতেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৫৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]     

গোসল ফরজ/ওয়াজিব হওয়াঃ
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন পরস্পরের খাতনার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৯, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, যখন কোন ব্যাক্তি তার কাম স্পৃহা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর উপর -সমাগম হবে এবং পুরুষের গুপ্তস্থান স্ত্রী-অংগে -প্রবেশ করাবে (সহবাস করবে)- তার উপর গোসল ওয়াজিব হবে[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২১৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বীর্যপাত হলে গোসল ওয়াজিব হয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬০৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু বিপরীত লিঙ্গ পরস্পর মিলিত হলে এবং পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ অদৃশ্য হয়ে গেলেই গোসল ওয়াজিব হয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬১১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

তায়াম্মুমঃ
সা'ঈদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবযা তাঁর পিতা [আবদুর রহমান (রাঃ)] থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইলঃ একবার আমার গোসলের প্রয়োজন হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা স্মরণ আছে যে, এক সময় আমরা দু'জন সফরে ছিলাম এবং দু'জনেরই গোসলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। আপনি তো সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। এ বলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'হাত মাটিতে মারলেন এবং দু'হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসেহ করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/তায়াম্মুম, হাদিস নম্বরঃ ১]

আবূ রাজা’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইমরান ইবনু হুসায়ন আল-খুযাঈ (রাঃ) বলেছেন যে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে জামাআতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় না করে পৃথক দাড়িয়ে থাকতে দেখলেন। তিনি লোকটিকে ডেকে বললেনঃ হে অমুক! তুমি জামাআতে সালাত আদায় করলে না কেন? লোকটি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার গোসলের প্রয়োজন হয়েছিল, কিন্তু পানি নেইতিনি বললেনঃ তুমি পবিত্র মাটির ব্যবহার (তায়াম্মুম) করবে। তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/তায়াম্মুম, হাদিস নম্বরঃ ৩৪১]

জানাবাতের গোসলঃ
মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য গোসলের পানি রেখে দিলে তিনি অপবিত্রতার গোসল করেন। তিনি তাঁর বাম হাত দিয়ে পানির পাত্রটি কাত করে তাঁর ডান হাতে পানি ঢালেন এবং দু হাতের তালু কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন, অতঃপর নিজের লজ্জাস্থান ধৌত করেন, অতঃপর হস্তদ্বয় মাটিতে ঘষেন, অতঃপর কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। তিনি তাঁর মুখমন্ডল তিনবার এবং দু' হাত তিন বার ধুলেন, অতঃপর নিজের সমস্ত শরীরে পানি ঢালেন, তারপর একটু সরে গিয়ে তাঁর দু পা ধৌত করেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৭৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]

মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য গোসলের পনি রাখলাম। তিনি জানাবতের গোসল করলেন। প্রথমে বাম হাতে পানি রাখা পাত্রটি কাত করে ডান হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত কবজা পর্যন্ত ধৌত করলেন। পরে পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে লজ্জাস্থানে পানি ঢাললেন এবং দেয়ালে কিংবা মাটিতে হাত দুটি ঘষে ধুইলেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা ও দুই হাত ধৌত করলেন। পরে মাথায় তিনবার পানি ঢাললেন, তারপর সারা শরীরে পনি ঢেলে দিলেন। এরপর কিছুটা সরে দুই পা ধুইলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসল করতে ইচ্ছা করলে পাত্রে হাত ঢুকানোর আগে প্রথমে তা ধুয়ে নিতের। এরপর লজ্জাস্থান ধুইতেন ও সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। পরে সবগুলি লোম পনিতে ভিজাতেন ও মাথায় তিন অঞ্জলী পানি ঢেলে দিতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার চুলের বেণী তো খুব শক্ত করে বাঁধি। জানাবতের গোসলের জন্য কি তা খুলে ফেলতে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, মাথায় তিন অঞ্জলী পনি ঢেলে দিবে। পরে সারা শরীরে পানি প্রবহিত করবে। বাস এতেই তুমি পাক হয়ে যাবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৫, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একজন মুসলিম মহিলা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার মাথার চুল অতি ঘন। কাজেই অপবিত্রতার গোসলের সময় আমি কি বেনী বা খোপা খুলে দেব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার জন্য তার উপর তিনবার তিনকোশ পানি ঢালাই যখেষ্ট। রাবী যুহায়েরের বর্ণনায় আছে- তুমি তোমার চুলের উপর তিনবার পানি ঢালবে। অতঃপর তোমার সর্বাঙ্গে পানি ঢালবে; তবেই তুমি পবিত্র হবে[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৫১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

পানি পাওয়া না গেলেঃ
আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দশ বছর ধরেও যদি পানি না পায় তা হলেও পাক মাটি একজন মুসলিমের জন্য পবিত্রতার উপকরণ বলে বিবেচ্য হবে। অতঃপর যখন সে পানি পাবে তখন তা দিয়ে সে তার শরীর ধুয়ে নিবে। এ-ই তার জন্য উত্তম। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১২৪, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

নাপাক অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল করা নিষেধঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমাদের কেউ যেন নাপাক অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে। রাবী বলল, হে আবূ হুরায়রা! তখন সে কিভাবে (গোসল) করবে? তিনি বললেন, পানি তুলে নিয়ে  করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৫]

কাপড়ে বীর্য লেগে গেলেঃ  
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কখনো কখনো আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে বীর্য খুঁটে তুলে ফেলতাম। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলো, কোন ব্যাক্তি যে কাপড় পরে সহবাস করেছে সে কাপড় পরেই কি সে সালাত আদায় করতে পারে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তবে তাতে নাপাকী দৃষ্টিগোচর হলে তা ধুয়ে নিতে হবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৪২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাহল ইবনু হুসাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার অত্যধিক মযী নির্গত হত তাই আমি অধিক গোসল করতাম। অতঃপর আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, মযী বের হওয়ার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করাই যথেষ্ট। তখন আমি বলি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার কাপড়ে মযী লাগলে কি করব? তিনি বলেনঃ কাপড়ের যে যে স্থানে মযীর নিদর্শন দেখবে, এক আজলা পানি নিয়ে উক্ত স্থান হালকাভাবে ধুয়ে নিবে, যাতে তা দূরীভূত হয়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২১০, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ আমার মনে আছে যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে জানাবাতের নাপাকী ঘষে ফেলার অতিরিক্ত কিছু করতাম না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৯৮, হাদিসের মানঃ  সহিহ]     

মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি তাঁর বোন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পত্নী . উম্মে হাবীবা (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করেন- স্ত্রী সংগমকালে পরিহিত বস্ত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি নামায পড়তেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ পরতেন- যদি তাতে নাপাক কিছু না দেখতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৬৬, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

ইব্রাহীম থেকে হাম্মামের সূত্রে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাঃ) -র মেহমান ছিলেন। তাঁরি সপ্নদোষ হওয়ার পর তিনি কাপড় হতে বীর্য ধৌত করছিলেন। তা আয়িশা - (রাঃ) -এর বাদী দেখে তাকে (আয়শাকে) অবহিত করেন। তখন আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাপড় হতে এটা খুঁচে তুলে ফেলে দিতাম।  [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৭১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]

মুসলমান কখনও অপবিত্র হয় নাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মদ্বীনার কোন এক রাস্তায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অপবিত্র অবস্হায় আমার সাক্ষাত হয়। আমি একটু পিছনে হটে যাই। অতঃপর গোসল করে তাঁর খেদমতে আসি। তখন বলেনঃ আবূ হুরায়রা! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বলি! আমি অপবিত্র ছিলাম- এমতাবস্হায় আপনার নিকট উপবেশন করা ভাল মনে করিনি। তিনি বলেনঃ সুবাহানাল্লাহ্! মুসলমান কখনও অপবিত্র হয় না[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৩১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। তখন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থান। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে আমি চুপি চুপি সরে পড়লাম এবং গোসল করে পরে তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেনঃ কোথায় ছিলে? কই গিয়েছিলে? আমি বললামঃ আমি অপবিত্র ছিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুমিন কখনও (এমন) অপবিত্র হয় না, (যে, তাকে স্পর্শ করা যাবে না)। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১২১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]
                                                                                                        
হায়েয ও ইসতিহাযা থেকে পবিত্রতাঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আসমা (রাঃ) একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হায়েযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ পানি এবং বরই-এর পাতা নিয়ে সুন্দরভাবে পবিত্র হবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভালভাবে রগড়ে ফেলবে যাতে সমস্ত চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌছে যায়। তারপর তার ওপর পানি ঢেলে দিবে। তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় নিয়ে তদ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বলল তা দিয়ে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। অতঃপর আয়িশা (রাঃ) তাঁকে যেন চুপিচুপি বলেন দিলেন, রক্ত বের হবার জায়গায় তা ঝুলিয়ে দিবে। অতঃপর তিনি জানবাতের গোসল সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, পানিদ্বারা সুন্দরভাবে পবিত্র হবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভাল করে রগড়ে ফেলবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌছে যায়। তারপর সর্বাঙ্গে পানি বইয়ে দিবে। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আনসারদের মহিলারা কত ভাল! লজ্জা তাদেরকে দ্বীন-এর জ্ঞান থেকে ফিরিয়ে রাখে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৩]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার ইসতিহাযা হয়েছে (সব সময়ই রক্ত ঝরে) কখনো আমি পবিত্র হই না। আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দেব? তিনি বললেন, না, ওটা শিরার (ধমনী) রক্ত, হায়িয নয়; যখন হায়িয আসবে তখন সালাত ছেড়ে দেবে আর যখন তা চলে যাবে তখন তোমার শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং সালাত আদায় করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬]

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন হায়য আরম্ভ হয় তখন সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিবে আর যখন তা বন্ধ হয়ে যায় (অর্থাৎ যখন তা অতিবাহিত হয়) তখন গোসল করবে [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২০২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]     

মুআযা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা আয়িশা (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করে যে, ঋতুবতী স্ত্রীলোকেরা ঋতুকালীন সময়ে পরিত্যক্ত নামাযের কাযা আদায় করবে কি? তিনি বলেন, তুমি কি হারূরা গ্রামের অধিবাসিনী? (জেনে রেখ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি - ওয়া সাল্লামের সময়ে আমরা ঋতুগ্রস্ত হলে- ঐ সময়ের কাযা নামায আদায় করতাম না এবং উক্ত সময়ের কাযা নামায আদায়ের জন্য আমরা আদিষ্টও হইনি[সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৬২, হাদিসের মানঃ  সহিহ]   

আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কারো কাপড় ও পরিধেয় বস্ত্রে যদি হায়েযের রক্ত লাগে তবে সে কি করবে? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কারো পরিধেয় বস্ত্রে রক্ত হল লাগলে প্রথমে তা খুঁচে তুলে ফেলবে অতঃপর পানি দিয়ে ধৌত করার পর তা পরিধান করেই নামায আদায় করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৬১, হাদিসের মানঃ  সহিহ]  

উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হলদে ও মেটে বর্ণের স্রাব দেখলে তাকে কিছুই মনে করতাম না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রক্ত অপবিত্র এবং তা ধোয়ার পদ্ধতিঃ
আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কি করবে? তিনি বললেন, (প্রথমে) তা নখ দিয়ে আঁচড়ে ফেলবে। এরপর পানি দিযে রগড়িয়ে ফেলবে, তারপর ধুয়ে ফেলবে, তারপর তাতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৬৮]

আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কি করবে? তিনি বললেনঃ সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলবে। এরপর সেই কাপড়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২৭]

কুকুরের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে বিধানঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুরে মুখ লাগিয়ে পান করবে, তখন সে পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি হলো, সাতবার ধুয়ে ফেলা। প্রথমবার মাটি দ্বারা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৪৫]

 ইসলামে জানার ক্ষেত্রে লজ্জা না করে শিখে নেয়া কল্যাণকর। আল্লাহ আমাদের ইসলামের বিধান অনুযায়ী পবিত্রতা রক্ষা করে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।