আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। রামাদান আসলেই উম্মার মাঝে শুরু হয় ফিতনা। আজকের মুসলিম উম্মাহের বিতর্কের বিষয়বস্তু দেখে বড় আফসোস হয়। যে বিষয় নিয়ে কোন বিতর্কই হওয়ার কথা নয় সেই বিষয় নিয়ে বিতর্ক করে এই উম্মাহ আজ দলাদলি করে বিভক্ত। অথচ ইসলামে দলাদলি হারাম। তারাবীর সালাত বা তাহাজ্জুদ সালাত হল নফল ইবাদাত। কাজেই এই নফল সালাতের রাকাত সংখ্যা নিয়ে ঝগড়া করা নিছক মূর্খতা।
তাহাজ্জুদ বা রাতের নফল সালাতের রাকাতের সংখ্যা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট করে দেন নাই। বরং যার শরীরে যতটুকু কুলায় সেই অনুযায়ী সে এই নফল সালাহ আদায় করবে। আর হাদিসে ফরয সালাত মসজিদে আদায় করার তাগিদ করা হয়েছে আর নফল সালাত ঘরে। ঝড়ের গতিতে কুরআন তিলাওয়াত করা তো কুরআনকে অবমাননা করার শামিল। আমি সবগুলো বিষয়ের দলিল দিয়ে কথা বলব। যার ইচ্ছে হয় সে আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করুক আর যে তার ইচ্ছার অনুসরণ করবে তার হিসাব গ্রহণের জন্য আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও এবং রসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিগণের; যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সেই বিষয়কে আল্লাহ এবং রসূলের (নির্দেশের) দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ এবং আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক; এটাই উত্তম এবং সুন্দরতম মর্মকথা। [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ৫৯]
তাহাজ্জুদ বা রাতের নফল সালাতের গুরুত্বঃ
নিচে উল্লেখিত কুরআনের আয়াত এবং হাদিস থেকে আমরা এই সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারব।
মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাত আর ঝর্ণাধারার মাঝে। তাদের প্রতিপালক যা তাদেরকে দিবেন তা তারা ভোগ করবে, কারণ তারা পূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) ছিল সৎকর্মশীল, রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো। আর তারা রাত্রির শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত। [সূরা আয্-যারিয়াত/৫১, আয়াতঃ১৫-১৮]
তোমার প্রতিপালক জানেন যে, তুমি কখনও রাতের দু’তৃতীয়াংশ ‘ইবাদাতের জন্য দাঁড়াও, কখনও অর্ধেক, কখনও রাতের এক তৃতীয়াংশ, তোমার সঙ্গী-সাথীদের একটি দলও (তাই করে)। আল্লাহ্ই রাত আর দিনের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। তিনি জানেন, তোমরা তা যথাযথ হিসাব রেখে পালন করতে পারবে না। কাজেই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হয়েছেন। কাজেই কুরআনের যতটুকু পড়া তোমার জন্য সহজ হয়, তুমি ততটুকু পড়। তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, আর কতক আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে যমীনে ভ্রমণ করবে, আর কতক আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। কাজেই তোমাদের জন্য যতটুকু সহজসাধ্য হয় তাই তাত্থেকে পাঠ কর, আর নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত দাও আর আল্লাহকে ঋণ দাও উত্তম ঋণ। তোমরা যা কিছু কল্যাণ নিজেদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর নিকট (সঞ্চিত) পাবে, তাই উত্তম এবং পুরস্কার হিসেবে খুব বড়। তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু। [সূরা আল-মুযযাম্মিল/৭৩, আয়াতঃ ২০]
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/ তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৪৫]
স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফাযীলতঃ
সালাতে অথবা সালাতের বাইরে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে ধীরে ধীরে, স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
আর কুরআন আবৃত্তি কর ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে। [সূরা আল-মুযযাম্মিল/৭৩, আয়াতঃ ৪]
এটি একটি কল্যাণময় কিতাব তোমার কাছে অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতগুলোর প্রতি চিন্তা-ভাবনা করে, আর জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। [সূরা সয়াদ/৩৮, আয়াতঃ ২৯]
যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা তা মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ কর আর নীরবতা বজায় রাখ যাতে তোমাদের প্রতি রহম করা হয়। [সূরা আল-আরাফ/৭, আয়াতঃ ২০৪]
যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে আর আল্লাহ তাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তাথেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসায়ের আশা করে যাতে কক্ষনো লোকসান হবে না। [সূরা ফাতির/৩৫, আয়াতঃ ২৯]
কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস (রাঃ)কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লামের কিরাআত পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাস করি। তিনি বলেন, তিনি (স.) যেখানে যতটুকু টেনে পড়ার প্রয়োজন, সেখানে ততটুকুই লম্বা করে টেনে পড়তেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৬৫, হাদিসের মানঃ সহীহ]
সাঈদ ইবন আবু সাঈদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে কুরআনকে স্পষ্টরূপে বিশুদ্ধভাবে মধুর সুরে তিলাওয়াত করে না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৬৯, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লাম এরশাদ করেছেন আল্লাহ তাআলাঃ কোন কিছুই এতটা নিবিষ্টভাবে শুনেন না যেভাবে তিনি কুরআনের পাঠ শুনেন- যখন তাঁর নবী সুমধুর কন্ঠে স্পষ্ট উচ্চারণে তা পাঠ করেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১৪৭৩, হাদিসের মানঃ সহীহ]
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা, কিয়ামতের দিন কুরআন, তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে। [পাবলিশারঃ ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী, গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার, অধ্যায়ঃ ১২/কুরআন, হাদিস নম্বরঃ ১৪১০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “তোমরা কুরআন মাজীদ পাঠ কর। কেননা, কিয়ামতের দিন কুরআন, তার পাঠকের জন্য সুপারিশ-কারী হিসাবে আগমন করবে।” [পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন, গ্রন্থঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন, অধ্যায়ঃ ৯/বিভিন্ন নেক আমলের ফযীলত প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৯৯৮, হাদিসের মানঃ হাসান]
‘উসমান ইবনে ‘আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।” [পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন, গ্রন্থঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন, অধ্যায়ঃ ৯/বিভিন্ন নেক আমলের ফযীলত প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ১০০০, হাদিসের মানঃ হাসান]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব (কুরআন মাজীদ)এর একটি বর্ণ পাঠ করবে, তার একটি নেকী হবে। আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমান হয়। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি বর্ণ; বরং আলিফ একটি বর্ণ, লাম একটি বর্ণ এবং মীম একটি বর্ণ।” (অর্থাৎ তিনটি বর্ণ দ্বারা গঠিত ‘আলিফ-লাম-মীম, যার নেকীর সংখ্যা হবে ত্রিশ।) [পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন, গ্রন্থঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন, অধ্যায়ঃ ৯/বিভিন্ন নেক আমলের ফযীলত প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ১০০৬, হাদিসের মানঃ হাসান]
রাতের নফল সালাতের রাকাত সংখ্যা অনির্দিষ্টঃ
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদে) এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তা ছিল তাঁর (স্বাভাবিক) সালাত। সে সালাতে তিনি এক একটি সাজদাহ্ এত পরিমাণ করতেন যে, তোমাদের কেউ (সাজ্দাহ হতে) তাঁর মাথা তোলার পূর্বে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারত। আর ফজরের (ফারয) সালাতের পূর্বে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ডান কাতে শুতেন যতক্ষণ না সালাতের জন্য তাঁর কাছে মুআয্যিন আসত। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১২৩]
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের সালাতের পদ্ধতি কী? তিনি বললেনঃ দু’ দু’ রাক‘আত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলে এক রাক‘আত মিলিয়ে বিতর করে নিবে। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৩৭]
মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) বাদে সাত বা নয় কিংবা এগার রাক‘আত। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৩৯]
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, যার ভিতর আছে বিতর এবং ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত)। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৪০]
আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, রমাযান মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতে) এগার রাক‘আতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি তিন রাক‘আত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (একদা) আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতরের পূর্বে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেনঃ আমার চোখ দু’টি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৪৭]
জামায়াতে সালাত আদায় করার ফযিলতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাত ও দিনে ফেরেশতাগণ পালাক্রমে তোমাদের নিকট আগমন করে এবং ফযর ও আসরের সময় তারা একত্রিত হয়। তারপর যে সকল ফেরেশতা রাতে তোমাদের নিকট ছিল, তারা উপরে উঠে যায়, আল্লাহ্ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি সর্বজ্ঞ, আমার বান্দাদের তোমরা কি অবস্থায় রেখে এসেছো? উত্তরে ফেরেশতাগণ বলে থাকে, আমরা যখন চলে আসি তখন আপনার বান্দারা (ফযরের) সালাত আদায় করছিল। আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখন তারা (আসরের) সালাত আদায় করছিল। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/নামাজ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬, হাদিসের মানঃ সহীহ]
কিয়ামুল লাইল বা নফল সালাত ঘরে আদায় করাঃ
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, কিছু লোক তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সালাত আদায় করলেন এবং লোক আরো বেড়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেনঃ তোমরা যা করেছ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এ আশঙ্কাই আমাকে বাধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরজ হয়ে যাবে। এটা ছিল রমাযান মাসের ঘটনা। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১২৯]
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের পাতা দিয়ে, অথবা চাটাই দিয়ে একটি ছোট হুজরা তৈরী করলেন এবং ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ঐ হুজরায় (রাতে নফল) সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন একদল লোক তাঁর খোঁজে এসে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করতে লাগল। পরবর্তী রাতেও লোকজন সেখানে এসে হাযির হল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেরী করলেন এবং তাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন না। তারা উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ দিতে লাগল এবং ঘরের দরজায় কংকর নিক্ষেপ করল। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে তাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেনঃ তোমরা যা করছ তাতে আমি ভয় করছি যে, এটি না তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হয়। সুতরাং তোমাদের উচিত যে, তোমরা ঘরেই সালাত আদায় করবে। কারণ ফরজ ছাড়া অন্য সালাত নিজ নিজ ঘরে পড়াই উত্তম। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ৭৮/আচার-ব্যবহার, হাদিস নম্বরঃ ৬১১৩]
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের কিছু কিছু সালাত তোমাদের ঘরে আদায় করবে, তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানাবে না। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৮৭]
যারা মসজিদে তারাবীর সালাত ২০ রাকাত আদায় করতে ইচ্ছুক তারা আদায় করতে কোন বাঁধা নেই। তবে সুরা-কিরাত অবশ্যই যেখানে যতটুকু টেনে পড়ার প্রয়োজন, সেখানে ততটুকুই লম্বা করে টেনে পড়তে হবে। এটাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের বাড়াবাড়ির ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন।
No comments:
Post a Comment