আসসালামু আলাইকুম। এখানে আমরা রমযানের ফরয সিয়াম সম্পর্কে কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদিসের বর্ণনা উল্লেখ করবো যাতে সবাই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারি। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রয়োজন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন বলেই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সবকিছু কুরআনের মাধ্যমে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে বিস্তারিত মানুষকে জানিয়েছেন যাতে আমাদের জন্য দ্বীন পালন করা সহজ হয়।
রমযানে সিয়াম ফরয হওয়াঃ
হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৩]
(রোযা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে এবং শক্তিহীনদের উপর কর্তব্য হচ্ছে ফিদইয়া প্রদান করা, এটা একজন মিসকীনকে অন্নদান করা এবং যে ব্যক্তি নিজের খুশীতে সৎ কাজ করতে ইচ্ছুক, তার পক্ষে তা আরও উত্তম আর সে অবস্থায় রোযা পালন করাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৪]
রমাযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে, কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা পালন করে আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে, আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান, যা কষ্টদায়ক তা চান না যেন তোমরা মেয়াদ পূর্ণ করতে পার, আর তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর, আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৫]
আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৬]
তোমাদের জন্য রমাযানের রাতে তোমাদের বিবিগণের নিকট গমন করা জায়িয করা হয়েছে, তারা তোমাদের আচ্ছাদন আর তোমরা তাদের আচ্ছাদন। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিলেন। অতএব, এখন থেকে তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা লাভ কর এবং তোমরা আহার ও পান করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের জন্য কালো রেখা হতে ঊষাকালের সাদা রেখা প্রকাশ না পায়। তৎপর রাতের আগমন পর্যন্ত রোযা পূর্ণ কর, আর মাসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না। এসব আল্লাহর আইন, কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। আল্লাহ মানবজাতির জন্য নিজের আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা মুত্তাকী হতে পারে। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ১৮৭]
তালহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুলসহ একজন গ্রাম্য আরব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন। তারপর বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে বলুন, আল্লাহ তা’আলা আমার উপর কত সালাত (নামায/নামাজ) ফরজ করেছেন? তিনি বলেনঃ পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আমার উপর কত সিয়াম আল্লাহ তা’আলা ফরজ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রমযান মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম); তবে তুমি যদি কিছু নফল কর তবে তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আল্লাহ আমার উপর কি পরিমান যাকাত ফরয করেছেন? রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরয করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াব না এবং কমাবও না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭০]
সাওম পালনের পুরষ্কারঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মুর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তাঁর সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাঁকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরষ্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৩]
সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে রায়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাঁদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, সাওম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তাঁরা ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাঁদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৫]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমল দশ গুন থেকে সাতশত গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, কিন্তু সাওম; সাওম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দিব। কারণ সে আমারই জন্য তার কামাচার এবং পানাহার বর্জন করে। সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যাক্তির জন্য খুশির বিষয় দুটি। একটি খুশি ইফতারের সময়, আরেকটি খুশি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়। তার মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৭৮]
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যদি কোন ব্যাক্তি (জিহাদ অভিযানে) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, তবে এ এক দিনের সিয়াম পালনের বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা তার মূখমণ্ডলকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখবেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৮২]
আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললামঃ আমাকে এমন একটি ইবাদাতের নির্দেশ দিন যা আমি আপনার নির্দেশক্রমে পালন করব। তিনি বললেন, তুমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)-কে আকড়ে ধর যেহেতু এর কোন বিকল্প নাই। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২২৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঢালস্বরূপ। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২২৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুতারবিফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উছমান ইবনু আবূল আস (রাঃ)-এর কাছে গেলে তিনি আমার জন্য দুধ আনালেন। তখন আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহত ঢালের ন্যায়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২৩৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাইমকে ইফতার করানোর ফযীলতঃ
যায়িদ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যদি কোন সায়িমকে ইফতার করায় তবে তার জন্যও অনুরূপ (সিয়ামের) সাওয়াব হবে। কিন্তু এতে সিয়াম পালনকারীর সাওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৮০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রমযান মাসের ফযীলতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৭]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শৃংখলিত করে দেয়া হয় শয়তানকে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৮]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান আরম্ভ হলে রহমতের দরাজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৭]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্ট জ্বীনদের শৃঙখলাবদ্ধ করে ফেলা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না; জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেনঃ হে কল্যাণকামী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে জাহান্নাম থেকে বহু লোককে মুক্তি দান। প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৬৭৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় রামাযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং (তারাবীহ্ তাহাজ্জুদ ইত্যাদির জন্য) রাত্রি জাগরণ করে, তার পূর্ববতী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় লায়লাতুল কাদরের (সালাত (নামায/নামাজ) ইত্যাদির জন্য) রাত্রি জাগরণ করে, তার পূর্ববতী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৬৮০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের নিকট রমযান উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। তোমাদের উপরে আল্লাহ তা’আলা অত্র মাসের সওম ফরয করেছেন। এ মাস আগমনে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় লোহার বেড়ী পরানো হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১১০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন আনসারী মহিলাকে বলেছিলেন, যখন রমযান এসে যাবে তখন তুমি একটি উমরাহ আদায় করবে। কেননা রমযানের একটি উমরাহ একটি হজ্জের সমপরিমাণ। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
চাঁদ দেখে সাওম পালন করাঃ
ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা তা (চাঁদ) দেখবে তখন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে, আবার যখন তা দেখবে তখন ইফতার করবে। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তাঁর সময় হিসাব করে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৭৯]
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের কথা আলোচনা করে বললেনঃ চাঁদ না দেখে তোমরা সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার করবে না। যদি মেঘাছন্ন থাকে তাহলে তাঁর সময় (ত্রিশ দিন) পরিমান পূর্ণ করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৫]
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাত বিশিষ্ট হয়। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করবে না। যদি আকাশ মেঘাবৃত থাকে তাহলে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ন করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৬]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা বললেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে শ’বানের গননা ত্রিশ পুরা করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৮]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ রমজানের একদিন কিংবা দুই দিন আগে থেকে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সাওম করতে পারবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৩]
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আরম্ভ করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার (ঈদ) করবে না। যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে, তবে সংখ্যা পূর্ন করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৩৭৩]
কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল ফযল বিনত হারিস তাকে সিরিয়ায় মু’আবিয়া (রাঃ) এর নিকট পাঠালেন। (কুরায়ব বলেন) আমি সিরিয়ায় পৌছলাম এবং তার প্রয়োজনীয় কাজটি সমাধা করে নিলাম। আমি সিরিয়া থাকা অবস্থায়ই রমযানের চাঁদ দেখা গেল। জুমু'আর দিন সন্ধ্যায় আমি চাঁদ দেখলাম। এরপর রমযানের শেষভাগে আমি মদিনায় ফিরলাম। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট জিজ্ঞাসা করলেন এবং চাঁদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কোন দিন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমরা তো জুমু'আর দিন সন্ধায় চাঁদ দেখেছি। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নিজে দেখেছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি দেখেছি এবং লোকেরাও দেখেছে। তারা সিয়াম পালন করেছে এবং মুআবিয়া (রাঃ)-ও সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেছেন। তিনি বললেন, আমরা কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি। আমরা সিয়াম পালন করতে থাকব, শেষ পর্যন্ত ত্রিশ দিন পূর্ণ করব অথবা চাঁদ দেখব। আমি বললাম, মু-আবিয়া (রাঃ) এর চাঁদ দেখা এবং তাঁর সাওম পালন করা আপনার জন্য যথেষ্ট নয় কি? তিনি বললেন, না, যথেষ্ট নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এরূপ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৯]
ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকেরা রামাযানের চাঁদ অন্বেষণ করে, কিন্তু দেখতে পায়নি। পরে এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ খবর দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। এরপর তিনি রোযা রাখেন এবং লোকদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৩৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বললো যে, আমি চাঁদ দেখেছি, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নাই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা এবং রাসুল? সে বললো, হ্যাঁ। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিলেন যে, তোমরা সবাই সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) পালন কর। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১১৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রমযান মাসের কিয়ামঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যাক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদর-এ ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তার অতীতের গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান, হাদিস নম্বরঃ ৩৪]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসের কিয়াম সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতেন। তবে তা বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশ দেননি। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশা নিয়ে রামাযান মাসের কিয়াম করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। বিষয়টি এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। পরে আবূ বাকর (রাঃ) এর খিলাফত এবং উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও বিষয়টি তদ্রুপই ছিল। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৮০৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসে আল্লাহ তা'আলার উপর দূঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার পূর্বাপর সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৯৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাহরী/পানাহারের শেষ সময়ঃ
বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগনের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাঁদের কেউ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন, ইফতারের সময় হলে ইফতার না করে ঘুমিয়ে গেলে সে রাতে এবং পরের সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না। কায়স ইবনু সিরমা আনসারী (রাঃ) সাওম পালন করেছিলেন। ইফতারের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নিকট কিছু খাবার আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু তালাশ করে আনি। তিনি কাজে রত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর চোখ ভিজে গেল। এরপর স্ত্রী এসে যখন তাকে দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন, হায়, তুমি বঞ্ছিত হয়ে গেলে! পরদিন দুপুর হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। এ ঘটনাটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করা হলে এ আয়াতটি নাযিল হয়ঃ সিয়ামের রাত্রে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে। এ হুকুম সমন্ধে অবহিত হয়ে সাহাবীগন খুবই আনন্দিত হলেন। এরপর নাযিল হলঃ তোমরা পানাহার কর যতক্ষন রাতের কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা স্পষ্ট তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৪]
‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ ‘’তোমরা পানাহার কর রাত্রির কাল রেখা হতে সাদা রেখা যতক্ষন স্পষ্টরুপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়্ তখন আমি একটি কাল এবং একটি সাদা রশি নিলাম এবং উভয়টিকে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলাম। রাতে আমি এগুলোর দিকে বারবার তাকাতে থাকি। কিন্তু নিকট পার্থক্য প্রকাশিত হল না। তাই সকালেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে এ বিষয় বললাম। তিনি বললেনঃ এতো রাতের আধার এবং দিনের আলো। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৪]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ফজরের আযান শ্রবণ করে, আর এ সময় তার হাতে খাদ্যের পাত্র থাকে, সে যেন আযানের কারণে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ না করে যতক্ষণ না সে তদ্বারা স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ না করে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪২, হাদিসের মানঃ হাসান]
সাহরী খাওয়ার গুরুত্বঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০১]
আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাদের ও কিতাবীদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪২১]
আবু আতিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম যে, আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন দুজন সাহাবী আছেন যাদের একজন ইফতার তাড়াতাড়ি করেন, সাহারী বিলম্বে খান। অন্যজন ইফতার বিলম্বে করেন এবং সাহারী তাড়াতাড়ি খান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, কে ইফতার তাড়াতাড়ি করেন এবং সাহারী বিলম্বে খান? আমি বললামঃ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তখন তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকমই করতেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৬৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমাদের সাওম (সিয়াম/রোজা/রোযা) এবং আহলে কিতাব-এর সাওমের মধ্যে পার্থক্য হল সাহারী খাওয়া। (আমরা সাহারী খাই কিন্তু ইয়াহুদ ও খ্রিস্টানরা তা খায় না)। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৭০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাহারী এবং ফজরের সালাতের মধ্যে ব্যবধানঃ
আনাস (রাঃ) সূত্রে যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাহারী খেলাম। অতঃপর সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। রাবী বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, এতভয়ের মধ্যকার ব্যবধান কতক্ষণ ছিল? তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সম পরিমাণ সময়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২১৫৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাওমের নিয়্যাত করাঃ
হাফসা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ফজরের পূর্বেই সাওমের নিয়্যত (দূঢ় ইচ্ছা) না করে তার সাওম পালন হবে না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২৩৩৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাওম পালনকারী ভুলে পানাহার করে ফেললেঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাদার ভুলক্রমে যদি আহার করে বা পান করে ফেলে, তাহলে সে যেন তার সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৯]
ইফতারের সময়ঃ
‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত্র সে দিক থেকে ঘনিয়ে আসে ও দিন এদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম ইফতার করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩০]
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আর তিনি ছিলেন সায়িম। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি দলের কাউকে বললেনঃ হে উমুক! উঠ। আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সন্ধ্যা হলে ভাল হতো। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তিনি বললেনঃ নেমে যাও এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, দিন তো আপনার এখনো রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তারপর সে নামল এবং তাঁদের জন্য ছাতু গুলিয়ে আনল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন, তারপর বললেনঃ যখন তোমরা দেখবে, রাত একদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে, তখন সায়িম ইফতার করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩১]
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন যাবৎ ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩৩]
ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেন। এরপর এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী হতে নেমে ছাতু গুলিয়ে আন। লোকটি বলল, আপনি যদি (পূর্ণ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত) অপেক্ষা করতেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেনঃ নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। (তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ) যখন তুমি এদিক (পূর্বদিক) হতে রাত্রির আগমন দেখতে পাবে তখন রোযাদার ইফতার করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩৪]
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪২৫]
উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রাত আসে দিন চলে যায় এবং সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪২৯]
ইবন সালিম আল্- মুকাফফা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার (রাঃ) কে এক মুষ্টির অধিক দাঁড়ি কর্তন করতে দেখেছি। এরপর তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বলতেন, তৃষ্ণা নিবারিত হয়েছে, শিরা- উপশিরা পরিতৃপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ্ চাহেতু বিনিময় নির্ধারিত হয়েছে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪৯, হাদিসের মানঃ হাসান]
যা দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাবঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিব এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের আগেই কিছু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে কিছু শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করে নিতেন। আর যদি শুকনা খেজুর না পেতেন তবে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৬৯৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
লাইলাতুল ক্বাদর ও ইতিকাফঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি লাইলাতুল ক্বাদরে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদাত করে, তাঁর পিছনের সমস্ত গুনাহ মাপ করা হবে। আর যে ব্যাক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তাঁরও অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮০]
সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (তাঁদের দেখা) স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন। লাইলাতুল কদর রমাযানের শেষ দশকের সপ্তম রাতে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি মনে করি যে, (লাইলাতুল কদর শেষ দশকে হবার ব্যাপারে) তোমাদের স্বপ্নগুলোর মধ্যে পরস্পর মিল রয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন তা শেষ দশকে অনুসন্ধান করে। [সহীহ বুখারী (তাওহীদ), অধ্যায়ঃ ১৯/তাহাজ্জুদ, হাদিস নম্বরঃ ১১৫৮]
সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, এক ব্যাক্তি (রমযানের) ২৭ তম রাতে লায়লাতুল কদর দেখতে পেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও তোমাদের মত স্বপ্ন দেখান হয়েছে যে, তা রমযানের শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব এর বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৪]
উকবা ইবনু হুরায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশদিনে কদরের রাত অনুসন্ধান কর। তোমাদের কেউ যদি দূর্বল অথবা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষ সাত রাতে অলসতা না করে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৬]
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (রমযানের) শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান কর অথবা তিনি বলেছেন, শেষের সাত রাতে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৮]
আবূ সাঈদ খূদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমযানের) মাঝের দশকে ইতিকাফ করেন। অতঃপর ২০তম দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এবং ২১তম দিনের সূচনাতে তিনি নিজ বাসস্থানে ফিরে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে যারা ইতিকাফ করেন, তারাও নিজ নিজ আবাসে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর একবার রমযান মাসের মাঝের দশকে ইতিকাফ করলেন। যে রাতে তাঁর ইতিকাফ হতে ফিরে আসার কথা, সে রাতে (পূনরায়) ইতিকাফ আরম্ভ করলেন ও লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন।
এরপর তিনি বললেন, আমি সাধারণত এই (মধ্যম) দশকে ইতিকাফ করতাম। এরপর শেষ দশকেও ইতিকাফ করা আমার কাছে সমীচীন মনে হল। অতএব যে ব্যাক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন নিজ ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করে। আমি এই (কদরের) রাত স্বপ্নে দেখেছিলাম কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোত তা অনুসন্ধান কর। আমি স্বপ্নে নিজেকে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি।
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, ২১তম রাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। তিনি যখন ফজরের সালাত থেকে ফিরলেন, তখন আমি তাঁর মুখমন্ডল কাদা ও পানিতে সিক্ত দেখলাম। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪০]
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন। এরপর তিনি মাঝের দশকেও একটি তাঁবুর মধ্যে ইতিকাফ করলেন এবং তাবুর দরজায় একটি চাটাই ঝূলান ছিল। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাঁবুর কোণে রাখলেন এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বললেন এবং তারাও তাঁর নিকট এগিয়ে এল। তিনি বললেন, এই রাতের অনুসন্ধানকল্পে আমি (রমযানের) প্রথম দশকে ইতিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ইতিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক (ফিরিশতা) এসে আমাকে বলল, লায়লাতুল কদর শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে।
লোকেরা তাঁর সঙ্গে (শেষ দশকে) ইতিকাফ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, স্বপ্নে আমাকে তা কোন এক বেজোড় রাতে দেখনো হয়েছে এবং আমি যেন সেই রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ফজরের সিজদা করছি। (রাবী বলেন) তিনি ২১তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফজরের সালাতে দাঁড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হল। ফলে ছাদ থেকে মসজিদে পানি বর্ষিত হল এবং আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। তিনি ফজরের সালাত শেষে যখন বের হয়ে এলেন তখন তাঁর কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কর্দমাক্ত ছিল। আর তা ছিল রমযানের শেষ দশকের প্রথম (বা ২১তম) রাত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪২]
আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে কদরের রাত দেখান হয়েছিল। অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্নে আরও দেখান হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩তম রাতে বৃষ্টি হল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে (ফজরের) সালাত আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তাঁর কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেলাম। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) বলতেন, তা ছিল ২৩তম। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪৬]
যির ইবনু হুবায়শ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে, সে কদরের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি (উবাই) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি একথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমযনি মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭তম রজনী। অতঃপর তিনি শপথ করে বললেন, তা ২৭তম রজনী। আমি (যির) বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলছেন? তিনি বললেন, বিভিন্ন আলামত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে যে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবহিত করেছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উঠবে কিন্তু তার আলোতে তেজ থাকবে না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪৮]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৫/ইতিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ২৬৫৪]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত রমযানের শেষ দশকেই ইতিকাফ করতেন। তার ইন্তেকালের পর তার সমধর্মিগীগণও ইতিকাফ করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৫/ইতিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ২৬৫৫]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশক শুরু হওয়ার সাথে সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জেগে থাকতেন ও নিজ পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং তিনি নিজেও ইবাদতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৫/ইতিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ২৬৫৮]
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এল, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ হতে বের হবেন, তিনি বললেনঃ যারা আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশক ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত (লাইলাতুল কদর) দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা (সঠিক তারিখ) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মাঝে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হল, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার দু’চোখ দেখতে পায়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৫/ই'তিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ১৯০০]
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ইতিকাফে থাকতেন তখন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৫/ই'তিকাফ, হাদিস নম্বরঃ ১৯০২]
আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকরা (রাঃ) এর কাছে একবার লায়লাতুল ক্বাদর সম্পর্কে আলোচনা হল। তিনি বললেন, আমি লায়লাতুল ক্বাদর রামাযানের শেষ দশ দিন ছাড়া অন্য কোন রাতে অনুসন্ধান করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে একটি বাণী শোনার কারণে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা এ রাতটিকে রামাযানের নয় দিন বাকী থাকতে বা সাতদিন বাকী থাকতে বা পাঁচ দিন বাকী থাকতে, তিন দিন বাকী থাকতে বা এর শেষ রাতে অণ্বেষন কর। রাবী বলেন, আবূ বাকরা (রাঃ) রামাযানের বিশ দিন পর্যন্ত অন্যান্য সুন্নাতের মতই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। কিন্তু শেষ দশ দিনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়াস চালাতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৭৯২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রমযান মাসে বেশি দান করাঃ
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য লোকদের তুলনায় অত্যধিক দানশীল ব্যাক্তি ছিলেন। রমযান মাসে যখন জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি অত্যধিক দানশীল হয়ে যেতেন। জিবরীল (আঃ) রমযানের প্রত্যেক রাত্রে তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন জিবরীল (আঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন তখন তিনি প্রবাহমান বায়ু অপেক্ষাও অত্যধিক দানশীল হতেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২০৯৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রমযানে পাপ থেকে বিরত থাকাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তাঁর এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮২]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য, তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। কেউ যদি তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ! সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহ্র নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়ইমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাঁকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওম বিনিময়ে আনন্দিত হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৩]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত্ তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযাবস্থায় মিথ্যা কথা ও অপকর্ম পরিহার করে না, সে ব্যক্তির পানাহার পরিত্যাগ করাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
লাকীত ইবন সাবুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা রোযা থাকাবস্থায় ব্যতীত অন্য সময়ে নাকে অধিক পানি প্রবেশ করাবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৫৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় সাওম পালনঃ
আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার পিতা ‘আয়িশা (রাঃ) এবং উম্মে সালামা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। (অপর বর্ণনায়) আবূল ইয়ামান (রহঃ) মারওয়ান থেকে বর্ণিত যে, ‘আয়িশা (রাঃ) এবং উম্মে সালামা (রাঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনূবী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৩]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমজান মাসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভোর হত ইহতিলাম ব্যতীত (জুনুবী অবস্থায়)। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৭]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার জন্য এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। এ সময় তিনি দরজার পেছন থেকে কথাগুলো শুনছিলেন। লোকটি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! জানাবাতের অবস্থায় আমার ফজরের সালাতের সময় হয়ে যায়, এমতাবস্থায় আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারি কি? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জানাবাতের অবস্থায় আমারও ফজরের সালাতের সময় হয়ে যায় আমি তো সাওম পালন করি। এরপর লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তো আমাদের মত নন। আল্লাহ তা'আলা আপনার পূর্বাপর সমুদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার আশা, আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে সর্বাধিক ভয় করি এবং আমি সর্বাধিক অবগত ঐ বিষয় সম্পর্কে, যা থেকে আমার বিরত থাকা আবশ্যক। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪৬৪]
সায়িম কর্তৃক স্ত্রী স্পর্শ করাঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) অবস্থায় চুমু খেতেন এবং গায়ে গা লাগাতেন। তবে তিনি তাঁর প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে তোমাদের চাইতে অধিক সক্ষম ছিলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৪]
সাওমরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস হারাম ও এর কাফফারাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসাছিলাম। এমন সময় এক ব্যাক্তি এস বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? সে বলল, আমি সায়িম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আযাদ করার মত কোন ক্রীতদাস তুমি পাবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি একাধারে দু’মাস সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারবে? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেনঃ ষাটজন মিসকীন খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। রাবী বলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেমে গেলেন, আমরাও এ অবস্থায় ছিলাম। এ সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ‘আরাক পেশ করা হল যাতে খেজুর ছিল। ‘আরাক হল ঝুড়ি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, আমি। তিনি বললেনঃ এগুলো নিয়ে সাদকা করে দাও। তখন লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার চাইতেও বেশী অবাবগ্রস্থকে সাদকা করব? আল্লাহর শপথ, মদিনার উভয় লাবা অর্থাৎ উভয় প্রান্তের মধ্যে আমার পরিবারের চাইতে অভাবগ্রস্থ কেউ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন এবং তাঁর দাঁত (আনইয়াব) দেখা গেল। এরপর তিনি বললেন এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১২]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন এক ব্যাক্তি রমযানোর সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ভেংগে ফেলার কারণে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন, হয় তো সে একটি গোলাম আযাদ করবে অথবা দুই মাস সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে অথবা ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪৭০]
সায়িম অবস্থায় শিঙ্গা লাগানোঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সায়িম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১৫]
ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ সওয়ারী থেকে নেমে আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ সূর্য এখনো ডুবেনি। তিনি বললেনঃ সওয়ারী থেকে নামো এবং আমার জন্য ছাতু গুলিয়ে আন। তারপর সে সওয়ারী থেকে নেমে ছাতু গুলিয়ে আনলে তিনি তা পান করলেন এবং হাতের ইশারায় বললেনঃ যখন দেখবে রাত এদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে তখন বুঝবে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারী ব্যাক্তির ইফতারের সময় হয়েছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১৭]
সফর অবস্থায় সাওম পালন করা না করাঃ
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হামযা ইবনু ‘আমর আসলামী (রাঃ) অধিক সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনে অভ্যস্থ ছিলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আমি সফরেও কি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারি? তিনি বললেনঃ ইচ্ছা করলে তুমি সাওম পালন করতে পার, আবার ইচ্ছা করলে নাও করতে পার। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮১৯]
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রমযান মাসে সফর করতাম কিন্তু সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীকে তার সাওমের কারণে দোষারোপ করা হতো না এবং সাওম ভঙ্গকারীকেও তার সাওম ভঙ্গের কারণে দোষারোপ করা হতো না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৪৮৮]
আনাস (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের উপর থেকে রহিত করে দিয়েছে অর্ধেক সালাত (নামায/নামাজ) এবং মুলতবী রেখেছেন সাওমকে। আর গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মহিলা থেকেও মুলতবী করে দিয়েছেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২৭৭, হাদিসের মানঃ হাসান]
হামযা ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ আমি সফরকালীন অবস্থায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার সামর্থ্য রাখি, তাতে কি আমার কোন অসুবিধা হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, সেটা হল আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে একটি সুযোগ। অতএব, যে ব্যক্তি তার-সদ্ব্যবহার করল সে ভাল কাজ করল আর যে ব্যক্তি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে ভালবাসে তার কোন অসুবিধা নেই। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২৩০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রমযানের কাযা আদায়ঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার উপর রমযানের যে কাযা থেকে যেত তা পরবর্তী শাবান ছাড়া আমি আদায় করতে পারতাম না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮২৬]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের মঝে এমন অনেকে আছেন যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে রমযানের সিয়াম পালনে সক্ষম হতেন না। অতঃপর শা'বান না আসা পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে থাকার কারণে তার পক্ষে কাযা আদায় করাও সম্ভব হতো না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৬২]
আবূ সালামা ইবন আবদুর রহমান আয়েশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, যদি আমার উপর (হায়েযের কারণে রামাযানের) কোন রোযার কাযা আবশ্যক হতো, তবে শা‘বানের মাস আগমনের পূর্বে আমি উহার কাযা আদায় করতে সক্ষম হতাম না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৯১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আলী ইবনু হুজর (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা হায়য এর পর যখন পবিত্র হতাম তখন তিনি আমাদের সিয়াম কাযা পালন করতে নির্দেশ দিতেন। সালাত (নামায/নামাজ) কাযা করতে বলতেন না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সাওম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ৭৮৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুআযা আদাবীয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল যে, ঋতুবতী মহিলা যখন ঋতু থেকে পবিত্র হবে তখন কি সে সালাত কাযা করবে? তিনি বললেন, তুমি কি হারুরী গোত্রের মহিলা? আমরা তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ঋতুবতী হতাম এবং যখন পবিত্র হতাম তখন আমাদেরকে সাওম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হল কিন্তু সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২৩২০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাওমের কাযা আদায়ঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) এর কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যাক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম আদায় করবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮২৮]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যাক্তি এস বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা এক মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) জিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তার পক্ষ থেকে সাওম কাযা করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হল অধিক যোগ্য। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮২৯]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈকা মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার এক মাসের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) কাযা আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, যদি তার উপর কোন ঝণ থাকত তাহলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা অধিক উপযুক্ত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৬৪]
ইবন আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি রামাযান মাসে রোগাক্রান্ত হয় এবং সে ঐ অসুখ হতে সুস্থ না হয়ে মৃত্যুবরণ করে তবে তার পক্ষ হতে (ফিদিয়া প্রদান করত) মিসকীনদের খাওয়াতে হবে তবে তার উপর এর কাযা থাকবে না। আর যদি মৃত ব্যক্তি কোন মানত করে থাকে, তবে তা তার উত্তরাধিকারীগণ তার পক্ষ হতে পূর্ণ করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
দুই ঈদের দিনে সিয়াম পালন করা হারামঃ
ইবনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবূ ‘উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার ঈদে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সঙ্গে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ঈদুল ফিতরের দিন) যে দিন তোমরা তোমাদের সাওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত খাও। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৩/সাওম বা রোজা, হাদিস নম্বরঃ ১৮৬৭]
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'দিন অর্থাৎ ঈদূল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১৪/সিয়াম (রোজা), হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৫]
রোযাদার ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলেঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযা থাকাবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তার জন্য কাযা আদায় করা জরুরী নয়। অবশ্য যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তবে সে যেন কাযা আদায় করে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
প্রচলিত যঈফ হাদিসঃ
সালমান ইবন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রোযা রাখে, তখন সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। আর সে যদি খেজুর না রায়, তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে, কেননা পানি পবিত্র। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৪৭, হাদিসের মানঃ যঈফ]
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বমি করে, তার রোযা ভঙ্গ হয় তবে যার স্বপ্নদোষ হয় এবং যে শিংগা লাগায় এতে রোযা ভঙ্গ হয় না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সওম, হাদিস নম্বরঃ ২৩৬৮, হাদিসের মানঃ যঈফ]
নযর ইবনু শায়বান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ)-কে বললামঃ আপনি আমার কাছে বর্ণনা করুন রমযান মাস সম্পর্কে যা আপনি আপনার পিতা থেকে শুনেছেন। আর আপনার পিতা তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমতাবস্থায় শুনেছিলেন যে, আপনার পিতা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝখানে অন্য আর কেউ ছিল না। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর রমযান মাসের সাওম ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) কে সুন্নাত করে দিয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে এবং তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে সে দিনের মত পবিত্র হয়ে যায় যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২২/সাওম [রোযা], হাদিস নম্বরঃ ২২১৪, হাদিসের মানঃ যঈফ]
শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি রমযান সম্পর্কে আমাদের সবার বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে সাওম পালন করার তৌফিক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন। আমীন।
No comments:
Post a Comment