আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আসুন, জুমু'আর দিনের
আদব সম্পর্কে আজকে আমরা কুরআন ও হাদিস থেকে জানার ও আমল করার চেষ্টা করি।
হে মুমিনগণ, যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা
আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য
সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত
হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং
আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।
[সূরা আল-জুমু'আ/৬২, আয়াতঃ ৯-১০]
গোসল করে মসজিদে যাওয়ার ফযীলতঃ
আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুম্মার দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৩৫]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি জুম্মার দিন জানবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং
সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য আগমন করে সে যেন, একটি উট
কুরবানী করল। যে ব্যাক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন, একটি
গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা
কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম
পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুতবা প্রদানের
জন্য বের হন তখন ফিরিশতাগণ যিকর শোনার জন্য হাজির হয়ে থাকেন। [সহীহ বুখারী
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৩৭]
সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি জুমুআর দিন গোসল করে এবং
যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল থেকে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের
সুগন্ধি ব্যবহার করে এরপর বের হয় এবং দু’জন লোকের মাঝে ফাঁক
না করে, তারপর তার নির্ধারিত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে
এবং ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে তার সে জুমুআহ
থেকে আরেক জুমুআহ পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৩৯]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষে।
কিন্তু কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে সবার আগে। তবে তাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে
আমাদের আগে এবং আমাদের তা দেয়া হয়েছে তাদের পরে। তারপর এই দিন (শুক্রবার নির্ধারণ)
সম্বন্ধে তাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়েছে। আল্লাহ আমাদের এ শুক্রবার সম্পর্কে হিদায়াত
দান করেছেন। পরের দিন (শনিবার) ইয়াহুদীদের এবং তারপরের দিন (রোববার) নাসারাদের। এরপর কিছুক্ষন নীরব থেকে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে গোসল করবে,
তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে। আবান ইবনু সালিহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর আল্লাহর হক রয়েছে
যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে যেন গোসল করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৫২]
আবদুল্লাহ
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ জুমু'আর সালাতে যেতে ইচ্ছা করলে সে যেন
গোসল করে নেয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮২৪]
আবূ সাঈদ
খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমু'আর দিনে
গোসল করা প্রত্যেক সাবালক ব্যাক্তির উপর ওয়াজিব। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩০]
আবূ হুরায়রা
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, প্রত্যেক
মুসলমানের উপর আল্লাহ পাকের হক হল প্রতি সাত দিন অন্তর গোসল করবে, মাথা ও শরীর ধৌত করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩৬]
আতা (রহঃ) থেকে আবূ সাঈদ আল্-খুদরী (রাঃ) -র সূত্রে বর্ণিত।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তির
জন্য জুমুআর দিন গোসল করা প্রয়োজন অর্থাৎ সুন্নাত। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪১,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবায়া ইবনু রিফা’আ (রহঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, আমি জুমু'আর
সালাতে যাওয়ার সময় আবূ আব্স (রাঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে,
যার দু’পা আল্লাহর পথে ধূলি ধূসরিত হয়,
আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৬১]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুম্মার দিন মসজিদের
দরজায় ফিরিশতাগণ অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমণকারীদের নাম লিখতে থাকেন।
যে সবার আগে আসে সে ঐ ব্যাক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। এরপর যে
আসে সে ঐ ব্যাক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। তারপর আগমণকারী ব্যাক্তি
মুরগী দানকারীর ন্যায়। এরপর আগমণকারী ব্যাক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। তারপর
ইমাম যখন বের হন তখন ফিরিশতাগণ তাঁদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহ খুতবা
শুনতে থাকেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৮২]
আওস ইবনু আওস আছ-ছাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করাবে (জুমুআর নামাযের পূর্বে
স্ত্রী সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা সুগন্ধিযুক্ত
দ্রব্যাদি দ্বারা ভালরূপে গোসল করবে, অতঃপর সকাল-সকাল মসজিদে
গিয়ে ইমামের নিকটবর্তী স্হানে বসে খুতবা শুনবে এবং যাবতীয় প্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্ম
হতে বিরত থাকবে তার মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নাত হিসাবে পরিগণিত হবে।
তার প্রতিটি পদক্ষেপ এক বছরের দিনের রোযা এবং রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জ্বুদের নামায
আদায়ের ছওয়াবের সমতুল্য হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন নাপাকীর গোসলের অনুরূপ গোসল করে
সর্বপ্রথমে নামাযের জন্য মসজিদে আসবে সে একটি উই সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। পরে
যে ব্যক্তি আসবে সে একটি গাভী সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। তারপরে আগমনকারী
ব্যক্তি একটি উত্তম দুম্বা-সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে এবং অবশেষে যে ব্যক্তি আসবে
সে একটি মুরগী সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। অতঃপর পঞ্চম নম্বরে আগমনকারী ব্যক্তি
একটি ডিম সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। অতঃপর ইমাম খুত্বার জন্য বের হলে ফেরেশতারা
দফতর বন্ধ করে মিম্বরের নিকটবর্তী হয়ে খুত্বা শুনে থাকে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫১,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
মসজিদে অপর ভাইকে কষ্ট না দেয়াঃ
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
নিষেধ করেছেন, যেন কেউ তার ভাইকে তার বসার জায়গা থেকে উঠিয়ে
দিয়ে নিজে সে জায়গায় না বসে। ইবনু জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি
নাফি’ (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কি
শুধু জুমু'আর ব্যাপারে? তিনি বললেন,
জুমু'আ ও অন্যান্য (সালাতের) ব্যাপারেও (এ
নির্দেশ প্রযোজ্য)। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৬৫]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমুআর
দিনে ইমামের খুতবাদানকালে তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বল "চুপ থাক" তবে তুমিও
অনর্থক কথা বললে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৩৮]
আবুয্
যাহিরিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জুমু‘আহর দিনে আমরা নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু
বুসর (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে লোকদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে
অগ্রসর হচ্ছিল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) বললেন, একদা জুমু‘আহর দিন এক ব্যক্তি লোকদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে
অগ্রসর হচ্ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন খুত্ববাহ দিচ্ছিলেন। নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বসো, তুমি
লোকদের কষ্ট দিয়েছো। [সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), অধ্যায়ঃ ২/সালাত, পাবলিশারঃ
আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিস নম্বরঃ ১১১৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকা'আত সালাত
আদায় করাঃ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক জুমু'আর দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যাক্তি
প্রবেশ করল। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, সালাত (নামায/নামাজ)
আদায় করেছ কি? সে বলল, না, তিনি বললেনঃ উঠ, দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নাও। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৮৪]
জুমু'আর দিনের বিশেষ মুহূর্তে দু'আ
করাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমুআর (দিবসে) এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে,
কোন মুসলিম বান্দা সালাতে দাঁড়ান অবস্থায় সে মুহূর্তটি পেলে এবং
আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ প্রার্থনা করলে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে
তা দিবেন। তিনি হাতদ্বারা ইশারা করে সময়ের স্বল্পতা বুঝিয়েছেন। [সহীহ
মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৪৩]
আবূ বুরদা ইবনু আবূ মূসা আশ আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, আমাকে
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার পিতাকে
জুমুআর দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছ কি? আমি বললাম,
হ্যাঁ, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি। আমি
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তা হল ইমামের বসা থেকে সালাত শেষ করার মধ্যবর্তী সময়টুকু। [সহীহ
মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৪৮]
খুতবা দীর্ঘ না করাঃ
জাবির সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করতাম। তার সালাত ও খুতবা হত মধ্যম ধরনের। [সহীহ
মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৭৭]
জাবির
ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন
তখন তার চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ হত, স্বর উঁচু হত এবং কঠোর
রাগ প্রকাশ পেত। মনে হত তিনি যেন আক্রমণকারী বাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করেছেন,
বলছেন, তারা তোমাদের সকালে আক্রমণ করবে এবং
বিকেলে আক্রমণ করবে। তিনি বলতেন, আমি প্রেরিত হয়েছি এমন
অবস্থায় যে, আমি ও কিয়ামত এ দুটির ন্যায় এবং মধ্যম অংগুলী ও
শাহাদাত অংগুলী মিলিয়ে দেখাতেন। বলতেন, উত্তম বাণী হল আল্লাহ
তা'আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হল মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিদায়াত। নিকৃষ্ট বিষয় হলো বিদআত (দ্বীনে নতুন
আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ।) সকল বিদআতই হল পথভ্রষ্টতা। এরপর বলতেন, আমি
প্রত্যেক মুমিনের জন্য তার প্রাণ হতে অধিক প্রিয়তর। যে মৃত ব্যাক্তি মাল সম্পদ
রেখে যায়, তা তার পরিবার পরিজনদের জন্য। আর যে মৃতব্যাক্তি
ঝণ অথবা ছোট ছেলেমেয়ে রেখে যায়, তাদের দায়িত্ব আমার উপর। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৭৮]
তন্দ্রার ভাব হলে স্থান পরিবর্তন করাঃ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
কে বলতে শুনেছিঃ মাসজিদের মধ্যে তোমাদের কারো তন্দ্রা এলে সে যেন তার স্থান
পরিবর্তন করে অন্যত্র বসে। [সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত),অধ্যায়ঃ
২/সালাত, পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী
একাডেমী, হাদিস নম্বরঃ ১১১৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
পুরো সালাত জামা'আতে আদায়ের ছওয়াবঃ
আবূ
হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (জামা‘আতে) এক রাক‘আত সলাত পেলো সে যেন পুরো সলাতই পেয়ে গেলো। [সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), অধ্যায়ঃ ২/সালাত, পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী
একাডেমী, হাদিস নম্বরঃ ১১২১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নফল সালাত ঘরে আদায় করাঃ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর (ফারয) সলাত আদায়ের পর ঘরে ফিরে দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। [সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত),অধ্যায়ঃ
২/সালাত, পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী,
হাদিস নম্বরঃ ১১৩২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে যতটুকু জানার সুযোগ দিলেন তার
উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
No comments:
Post a Comment