'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার'- বাক্য দুটি ঈমানের দাবীদার অনেক মুসলিম ভাইবোনকে বলতে শোনা যায়। তারা বিশ্বাস করেন যে, নিজের ধর্ম পালন করার পাশাপাশি অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশ গ্রহন করা বৈধ! এমন অনেক অজ্ঞ মুসলিম আছে, যারা জেনে অথবা না জেনে বিজাতীয় উৎসব পালন করে থাকেন। এধরণের বিশ্বাস ও কার্যকলাপ ঈমান নষ্টের জন্য যথেষ্ট। দ্বীন সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীনঃ
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবূল করে নিলাম। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ৩]
নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হল ইসলাম। বস্তুতঃ যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা জ্ঞান লাভের পর একে অন্যের উপর প্রাধান্য লাভের জন্য মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে, (সে জেনে নিক) নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অতিশয় তৎপর। [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ১৯]
আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ৮৫]
ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। [আল্লামা আলবানী একাডেমী, গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), অধ্যায়ঃ ২৭/পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০৩১, হাদিসের মানঃ হাসান]
মুসলিমদের জন্য দুটি উৎসবঃ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্বীনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন (নায়মূক ও মেহেরজান) খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহেলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কোরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/সালাত (নামায), হাদিস নম্বরঃ ১১৩৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। [সূরা আল-হাসর/৫৯, আয়াতঃ৭]
কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ না করাঃ
ইয়াহূদী ও নাসারারা তোমার প্রতি রাজী হবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, ‘আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ এবং তুমি যদি জ্ঞান আসার পরেও এদের ইচ্ছে অনুযায়ী চল, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর ক্রোধ হতে রক্ষা করার মত কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না’। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ১২০]
হে মু’মিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করনা, তারা পরস্পর বন্ধু; আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে নিশ্চয়ই সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেননা। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ৫১]
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের নীতি-পদ্ধতি পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করবে, বিঘতে বিঘতে ও হাতে হাতে, এমনকি তারা যদি তিনি সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তাহলেও তোমরা তাদের অনুসরণ করবে। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! পূর্ববর্তী উম্মাত বলতে তো ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরাই উদ্দেশ্য? তিনি বললেন, তবে আর কারা? [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪৯/ইলম, হাদিস নম্বরঃ ৬৫৩৯ ]
এই হাদিসে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, মুসলিম উম্মাহের একটা অংশ কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করবে। তাই সেই ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর। [সূরা আল-আ'রাফ/৭, আয়াতঃ৩]
ইসলামের অনুসরণ করাঃ
যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, কত মন্দই না সে আবাস! [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ১১৫]
আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। তা হল আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। ‘হওয’ (কাওসারে) আমার নিকট অবতরণ না করা পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন হবে না। [ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী, গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার, অধ্যায়ঃ ১৩/সুন্নাহ, হাদিস নম্বরঃ ১৫০০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
কাজেই যাদের বুঝার মতো জ্ঞান আছে তাদের জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদের দ্বীন বুঝার ও মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
No comments:
Post a Comment