আসসালামু আলাইকুম। ইসলামে পবিত্রতা বলতে আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতা দুটোকেই
বুঝায়। পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। হারাম বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকাও
পবিত্রতার অংশ। আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রয়োজন ও সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি
অবগত আর তাই কুরআনে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে সেই
সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে লজ্জাবোধ করেন নাই। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
সাফল্য
লাভ করবে সে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, আর তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামায কায়েম করে। কিন্তু
তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাতই অধিক
উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। [সূরা আল-আ'লা/৮৭, আয়াতঃ ১৪-১৭]
শপথ
আকাশের এবং যিনি ওটা নির্মাণ করেছেন তাঁর। কসম যমীনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন।
শপথ মানুষের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন।
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ
আত্মাকে পবিত্র করেছে। সেই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজ আত্মাকে কলূষিত করেছে। [সূরা আশ-শামস/৯১, আয়াতঃ ৫-১০]
তাঁর
নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদের জন্য
তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিণী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ
করতে পার আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে
অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে। [সূরা আর-রুম/৩০, আয়াতঃ ২১]
লোকেরা
তোমাকে ঋতু সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘তা অশুচি’। কাজেই ঋতুকালে স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাক এবং যে পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাদের নিকটবর্তী হয়ো না।
তারপর যখন পবিত্র হবে, তখন তাদের সঙ্গে সহবাস কর, যেভাবে আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাহ্কারীদেরকে ভালবাসেন
আর পবিত্রতা অবলম্বীদেরকেও ভালবাসেন। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ২২২]
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন সলাতের
জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখমন্ডল এবং কনুই পর্যন্ত হস্তদ্বয়
ধৌত করবে। আর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করবে। তোমরা যদি
অপবিত্র অবস্থায় থাক তবে বিধিমত পবিত্রতা অর্জন করবে। আর যদি পীড়িত হও বা সফরে থাক
অথবা তোমাদের কেউ যদি মলত্যাগ করে আসে অথবা যদি তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর আর
পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও
হাত মাসেহ করবে। আল্লাহ তোমাদের উপর সংকীর্ণতা চাপিয়ে দিতে চান না, তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান আর তোমাদের প্রতি তাঁর নি‘আমাত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
কর। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ ৬]
হে
ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সলাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা
বল, তা বুঝতে পার এবং অপবিত্র
অবস্থায়ও (সলাতের কাছে যেও না) গোসল না করা পর্যন্ত (মসজিদে) পথ অতিক্রম করা
ব্যতীত; এবং যদি তোমরা পীড়িত হও কিংবা সফরে থাক; অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান হতে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সঙ্গম করে থাক,
অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে
তায়াম্মুম কর, আর তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাসহ
কর; আল্লাহ নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল। [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ ৪৩]
আর
যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। [সূরা আল-ইসরা/১৭, আয়াতঃ ৩২]
নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ
করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক,
তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ
জানেন এবং তোমরা জান না। [সূরা আন-নুর/২৪, আয়াতঃ ১৯]
যেদিন
ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না। কেবল (সাফল্য লাভ করবে) সে ব্যক্তি যে
বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট আসবে। আর জান্নাতকে মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা
হবে। [সূরা আশ-শুআ'রা/২৬, আয়াতঃ ৮৮-৯০]
নিশ্চয়
সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ
জানেন যা তোমরা কর। [সূরা আল-আনকাবূত/২৯, আয়াতঃ ৪৫]
আর
নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। স্মরণ কর, সে তার রবের নিকট উপস্থিত
হয়েছিল বিশুদ্ধ চিত্তে। [সূরা আস-সাফফাত/৩৭, আয়াতঃ ৮৩-৮৪]
হে
বস্ত্রাবৃত! উঠ, অতঃপর সতর্ক কর। আর তোমার
রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর। [সূরাঃআল-মুদ্দাসসির/৭৪,
আয়াতঃ ১-৪]
পবিত্রতা অর্জনের উপায়গুলোর মধ্যে অজু ও গোসল অন্যতম। এবার আসুন, সহীহ
হাদিসের আলোকে তাহারাত বা পবিত্রতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি -
উযূ ঈমানের অর্ধেকঃ
আবূ
মালিক আশ আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে,
পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। “আলহামদুলিল্লাহ”
(শব্দটি) পাল্লাকে ভরে দেয়। “সূবহানাল্লাহ ও
আলহামদুলিল্লাহ (পাল্লাকে) ভরে দেয়, কিম্বা [রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন] আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবতীঃ স্থান ভরে দেয়।
সালাত (নামায/নামাজ) হল আলো, সাদাকা হল প্রমাণিকা, ধৈর্য হল জ্যোতি। কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে দলীল। প্রত্যেক মানুষ
প্রত্যহ আপন সত্তাকে বিক্রি করে, তখন কেউ সত্তার উদ্ধারকারী
হয় আর কেউ হয় ধবংস কারী। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪২৭]
আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুষ্ঠুভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ঈমানের
অর্ধেক। আল-হামদুলিল্লাহ (নেকীর) পাল্লা পূর্ণ করে। সুবহানাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার
পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী ভরে দেয়। সালাত হল নূর, যাকাত হল দলীল, ধৈর্য হল আলোকমালা এবং কুরআন হল
তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষের প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষ ভোরে উপনীত হয়ে নিজেকে বিক্রয়
করে, এতে সে হয় তাকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস
নম্বরঃ ২৮০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
কুলি ও মিসওয়াক করাঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করলেন।
তারপর কুলি করলেন এবং বললেনঃ এতে তৈলাক্ত পদার্থ রয়েছে (এজন্য কুলি করা ভাল)। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২১১]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন
তখন প্রখমেই মিসওয়াক করতেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা),
হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম তবে তাদেরকে
প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। [সূনান নাসাঈ
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
জুমুআর দিন গোসল করাঃ
আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুম্মার দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১১/জুমু'আ, হাদিস নম্বরঃ ৮৩৫]
আওস ইবনু আওস আছ-ছাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করাবে (জুমুআর নামাযের পূর্বে
স্ত্রী সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা সুগন্ধিযুক্ত
দ্রব্যাদি দ্বারা ভালরূপে গোসল করবে, অতঃপর সকাল-সকাল মসজিদে
গিয়ে ইমামের নিকটবর্তী স্হানে বসে খুতবা শুনবে এবং যাবতীয় প্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্ম
হতে বিরত থাকবে তার মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নাত হিসাবে পরিগণিত হবে।
তার প্রতিটি পদক্ষেপ এক বছরের দিনের রোযা এবং রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জ্বুদের নামায
আদায়ের ছওয়াবের সমতুল্য হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন নাপাকীর গোসলের অনুরূপ গোসল করে
সর্বপ্রথমে নামাযের জন্য মসজিদে আসবে সে একটি উই সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। পরে
যে ব্যক্তি আসবে সে একটি গাভী সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। তারপরে আগমনকারী
ব্যক্তি একটি উত্তম দুম্বা-সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে এবং অবশেষে যে ব্যক্তি আসবে
সে একটি মুরগী সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। অতঃপর পঞ্চম নম্বরে আগমনকারী ব্যক্তি
একটি ডিম সদ্কা করার সমান ছওয়াব পাবে। অতঃপর ইমাম খুত্বার জন্য বের হলে ফেরেশতারা
দফতর বন্ধ করে মিম্বরের নিকটবর্তী হয়ে খুত্বা শুনে থাকে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৫১,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
ফিতরাত বা স্বভাবজাত কার্যঃ
আবূ হুরায়রা
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফিতরাত পাঁচটি। খাতনা করা, নাভির নিচের পশম কাটা, গোঁফ ছাটা, নখ কাটা এবং বগলের পশম উপড়ে ফেলা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত
(পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৯১]
ইবনু উমর
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা গোঁফ কেটে ফেল এবং দাঁড়ি লম্বা
কর। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত
(পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৯৩]
আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কুলি করা, নাকের ছিদ্রপথে পানি পৌঁছানো, মিসওয়াক
করা, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা,
আঙ্গুলের সংযোগ স্থলগুলো ধৌত করা, শৌচ করা,
খতনা করা ইত্যাদি মানব স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৯৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচটি বিষয় মানুষের ফিতরাতের অন্তর্গত। খাতনা করা, নাভির নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের
পশম উপরে ফেলা। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি গোঁফ না ছাঁটে সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়। [সূনান
নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভীর
নিম্নভাগের লোম চেঁছে ফেলার ও বগলের পশম উপড়ে ফেলার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন
যে, আমরা যেন এ কাজগুলো চল্লিশ দিনের বেশী সময় পর্যন্ত ফেলে না রাখি। রাবী বলেন, আরেকবার চল্লিশ রাতের কথাও বলেছেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উযূর ফযীলতঃ
নু‘আয়ম
মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)
এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে বললেনঃ ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল থাকবে উজ্জ্বল। তাই তোমাদের মধ্যে
যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে। [সহীহ
বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৩৮]
আমর
ইবনু সাঈদ ইবনুল আতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম।
এমন সময়ে তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিম ব্যাক্তির যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয় আর সে সালাতের উযূ
(ওজু/অজু/অযু)-কে উত্তমরুপে আদায় করে, সালাতের বিনয় ও রুকুকে
উত্তমরূপে আদায় করে তা হলে যতক্ষন না সে কোন কবীরা গোনাহে লিপ্ত হবে, তার এই সালাত (নামায/নামাজ) তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে
যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৩৬]
হুমরান ইবনু আবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ) কে উযূর পানি দিতাম।
আর তিনি প্রত্যহ গোসল করতেন। উসমান (রাঃ) বলেছেন, আমাদের এ
সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর, মিস’আর
বলেন, আমার মনে হয় সালাতটি ছিল আসরের- রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কিছু বলতে মনস্থ করলেন। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ঠিক করতে
পারছিলাম না যে তোমাদেরকে একটি বিষয়ে কিছু বলব না নীরব থাকবো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যদি তা কল্যাণকর হয় তাহলে আমাদেরকে বলুন, আর অন্য কিছু হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, কোন মুসলমান যখন
পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার উপর যে পবিত্রতা অপরিহার্য করেছেন তা
পূর্ণাঙ্গরুপে অর্জন করে এবং তারপর এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে তাহলে এ সকল
সালাত তাদের মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। [সহীহ মুসলিম
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৩৬]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) এবং এক
জুম'আ থেকে আরেক জুমুআ পর্যন্ত এসব তাদের মধ্যবতী সময়ের জন্য
কাফফারা হয়ে যায় যতক্ষন পর্যন্ত কবীরা গুনাহে লিপ্ত না হয়। [সহীহ মুসলিম
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৩]
উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উট চরানোর দায়িত্ব নিজেদের
উপরে ছিল। আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে
লোকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমি তাঁর এ কথা শুনতে পেলাম, “যে
মুসলমান সুন্দর রুপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি
তার প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তার জন্য জান্নাত
ওয়াজিব হয়ে যায়।” উক্বা বলেন, কথাটি
শুনে আমি বলে উঠলাম ওহ, কথাটি কত উত্তম! তখন আমার সামনের
একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সে দিকে তাকিয়ে
দেখলাম তিনি উমর (রাঃ)। তিনি আমাকে বললেন তোমাকে দেখেছি, এইমাত্র
এসেছা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগে বলেছেন, তোমাদের যে ব্যাক্তি কামিল বা পূর্ণরূপে উযূ করে এই দু’আ পাঠ করবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মাদ তাঁর
বান্দা ও রাসুল” তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং
যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ),
অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৬]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলমান কিংবা বলেছেন, কোন মুমিন
বান্দা যখন যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তখন মুখ ধোয়ার সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যার দিকে তার দুচোখের
দৃষ্টি পড়েছিল; এবং যখন দুইহাত ধোয়, তখন,
পানির সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর
সাথে তার ঐ সকল শোনাহ বের হয়ে যায়। যেগুলো তার দু হাতে ধরেছিল; এবং যখন দুই পা ধোয় তখন পানির সাথে অথবা বলেছেন, পানির
শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যেগুলোর দিকে তার দু'পা অগ্রসর হয়েছিল; ফলে (উযূর শেষে) লোকটি “তার সমুদয় গুনাহ থেকে সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয়ে উঠে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ),
অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭০]
নূ’আয়ম ইবনু
আবদুল্লাহ আল-মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি
একবার আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলাম। তিনি তার মুখমন্ডল
ধুইলেন এবং পরিপূর্ণ ও উত্তমরুপেই তা ধুইলেন। এরপর তিনি ডান হাত ধুইলেন এমন কি
বাহুর কিছু অংশও ধুয়ে ফেললেন। তারপর বাম হাত ও বাহুর কিছু অংশসহ ধুয়ে ফেললেন। এরপর
মাথা মাসহ করলেন। তারপর তিনি ডান পা ধুইলেন এমনকি গোছারও কিছু অংশ ধুয়ে ফেললেন।
তারপর বাম পা গোছার কিছু অংশসহ ধুইলেন। তারপর বললেন, আমি
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এভাবেই উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে
দেখেছি তিনি আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরিপূর্ণ ও উত্তমরুপে করার কারণে কিয়ামতের দিন তোমাদের
মুখমন্ডল জ্যোর্তিময় এবং হাত পা উজ্জ্বল হবে। অতএব, তোমাদের
যার ইচ্ছা সে যেন তার মুখমন্ডলের নূর এবং হাত-পায়ের দীপ্তি বাড়িয়ে নেয়। [সহীহ
মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭২]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার
উম্মাত হাউযের পাড়ে আমার কাছে আসবে আর আমি তখন (অন্যান্য উম্মাতের) লোকজনকে সে
হাউয থেকে ফিরিয়ে দিতে থাকব যেমনিভাবে লোকে অন্যের উটকে নিজের উট থেকে ফিরিয়ে
রাখে। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া নাবীয়াল্লাহ! আপনি কি
আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ,
তোমাদের এমন এক চিহ্ন থাকবে যা তোমাদের ছাড়া অন্য কারো থাকবে না।
(আর তা হল) তোমরা আমার কাছে আসবে মুখমন্ডল শুভ্র এবং হাত-পা দীপ্তিমান অবস্থায়।
এটা হবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এর কারণে। আর তোমাদের মধ্য থেকেই একটি দলকে আমার কাছে
আসতে বাধা দেয়া হবে তাই তারা আমার কাছে আসতে পারবে না। তখন আমি বলব, প্রভু! এরা তো আমার লোকজন! তখন এর জবাবে একজন ফেরেশতা আমাকে বলবে, আপনি কি জানেন, এরা আপনার পরে কী অঘটন ঘটিয়েছিল? [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭৫]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন
(কাজের) কথা বলব না, যদ্বারা আল্লাহ তায়ালা পাপরাশি দূর করে
দিবেন এবং মর্যাদা উচু করে দিবেন? সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন,
হ্যাঁ, অবশ্যই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন,
তা হল, অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে
উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মসজিদে আসার জন্য বেশী পদচারণা এবং
এক সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। জেনে রাখ, এটাই হল রিবাত (তথা নিজকে আটকে রাখা ও শয়তানের মুকাবিলায় নিজকে প্রস্তুত
রাখা)। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা),
হাদিস নম্বরঃ ৪৮০]
আবদুল্লাহ
আস-সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে কুলি করলো এবং নাকে পানি পৌঁছালো, তার গুনাহ্সমূহ তার মুখ ও নাক থেকে
বের হয়ে যায়। সে তার মুখমন্ডল ধৌত করলে তার গুনাহসমূহ তার মুখমন্ডল থেকে বের হয়ে
যায়, এমনকি তার দু চোখের ভ্রুর নিম্নাংশ থেকেও গুনাহসমূহ
বেরিয়ে যায়। সে তার উভয় হাত ধৌত করলে তার দু হাত থেকে গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে
তার মাথা মাসহ করলে তার মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি
তার দু কান থেকেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। সে তার উভয় পা ধৌত করলে তার পদদ্বয় থেকেও
গুনাহসমূহ ঝরে যায়, এমনকি তার পদদ্বয়ের নখের নিম্নভাগ থেকেও
গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর তার সালাত ও তার মসজিদে যাতায়াতের সাওয়াব (উল্লিখিত
বিষয়ের) অতিরিক্ত। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৮২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
একদিন সাহাবীদের বললেন আমি কি তোমাদের এমন এক বিষয়ের কথা বলব, যার কারণে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ্ বিদূরিত করে দিবেন
এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন,
হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তা
হলঃ কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণ ভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, বেশি
করে মসজিদে যাওয়া, এক সালাতের পর আরেক সালাতের অপেক্ষা করা।
এ হলো জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত প্রতিরক্ষার মত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৫১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ বুরদা (রহঃ)
কে মসজিদে এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান (রাঃ) কে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত করতে শুনেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পন্ন করবে,
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য
কাফফারা স্বরূপ গণ্য হবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কবরস্থানের দিকে গেলেন। (তথায় উপস্থিত হয়ে) তিনি বললেনঃ
হে মুমিন সম্প্রদায়ের ঘরের অধিবাসী! তোমাদেরকে সালাম, আমরাও ইনশাল্ললাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব।
আমি আশা করি আমার ভ্রাতৃবৃন্দকে দেখতে পাব। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা
করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভ্রাতা নই? তিনি
বললেনঃ বরং তোমরা আমার সাহাবী। আর আমার ভ্রাতৃবৃন্দ হল যারা পরবর্তীকালে আসবে,
আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের অগ্রবর্তী হব। তারা বললেন ইয়া
রাসুলাল্লাহ! আপনার যেসকল উম্মত পরবর্তীকালে আগমন করবে, আপনি
তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা বল তো, যদি কোন ব্যাক্তির একদল কালো ঘোড়ার মধ্যে সা’দা
চেহারা ও সা’দা পদবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তবে
কি সেই ব্যাক্তি তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? তারা বলেনঃ
নিশ্চয়ই। তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন উযূর দরুণ তাদের হস্তপদ উজ্জ্বল হবে। আর আমি
হাউযে কাওসারে তাদের আগে গিয়ে অপেক্ষা করব। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৫০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উযূ সহ রাতে ঘুমাবার ফযীলতঃ
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি
বিছানায় যাবে তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর উযূর মতো উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেবে।
তারপর ডান পার্শ্বে শুয়ে বলবেঃ
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ
“হে আল্লাহ্! আমার জীবন আপনার কাছে সমর্পণ
করলাম। আমার সকল কাজ আপনার কাছে সোপর্দ করলাম এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম,
আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল ও নাজাতের
স্থান নেই। হে আল্লাহ্! আমি ঈমান আনলাম আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার
প্রেরিত নাবীর উপর।”
তারপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ফিতরাতে ইসলামের
উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলি তোমার শেষ কথা বনিয়ে নাও। তিনি বললেন, ‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-কে এ কথাগুলি পুনরায় শোনালাম। যখন اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ পর্যন্ত পৌঁছে وَرَسُولِكَ বললাম, তখন তিনি বললেনঃ না; বরং وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ বল। [সহীহ
বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২৪৫]
হাদস ছাড়া উযূ করাঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের সময় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আমি বললামঃ আপনারা
কিরূপ করতেন? তিনি বললেনঃ হাদস (উযূ ভঙ্গের কারন) না হওয়া
পর্যন্ত আমাদের (পূর্বের) উযূই যথেষ্ট হত। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২১৪]
সমুদ্রের পানি দ্বারা অযূ করাঃ
ইবনুল ফিরাসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শিকারে যেতাম এবং আমার একটি
পানির মশক ছিল, তাতে (পানের) পানি নিতাম এবং সমুদ্রের পানি
দ্বারা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতাম। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম -এর কাছে উত্থাপন করলাম। তিনি বলেনঃ তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত
প্রাণীও হালাল। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৩৮৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে সালাত আদায় নিষেধঃ
আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যাক্তিকে পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে রেখে
সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬১৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো লজ্জাস্থানের
দিকে না তাকানোঃ
আবূ
সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেনঃ কোন নারী যেন অপর নারীর লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়। একইভাবে কোন পুরুষ যেন
অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার
সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬৬১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
পেশাব-পায়খানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার
দোয়াঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রকৃতির ডাকে শৌচাগারে যেতেন তখন বলতেন, اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ (হে আল্লাহ! আমি
মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার শরণ নিচ্ছি।) [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৪৪]
x
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা-পেশাবের স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করতেন
তখন পড়তেন, اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ “হে আল্লাহ! আমি আপনার
আশ্রয় প্রার্থনা করছি- পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তান থেকে”। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়িশা (রাঃ)
হতে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পায়খানা হতে বের হয়ে ‘ণ্ডফরানাকা’ বলতেন। (অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ্! আমি
তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করছি) [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
পায়খানায় প্রবেশ কালে বলতেনঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
[সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেনঃ غفرانك হে আল্লাহ, তোমার কাছে ক্ষমা চাই। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
পেশাব অপবিত্র এবং তা থেকে বেঁচে থাকা অবশ্য জরুরীঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময়
তিনি বললেন, জেনে রাখ এ কবরবাসীদ্বয়কে আযাব দেয়া হচ্ছিল তবে
কোন কঠিন (কাজের) দরুন তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছেনা। তাদের একজন চোগলখুরী করত। আর
অপরজন তার পেশাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। তিনি [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেন,
অতঃপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে দু টুকরা করলেন। তারপর এ
কবরের উপর একটি এবং অন্য কবরের উপর একটি পুতে দিলেন। এরপর বললেন, হয়ত বা এদের আযাব কিছুটা লাঘব করা হবে যতদিন পর্যন্ত এ দুটি শুকিয়ে না যাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৭০]
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
একবার দু‘টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন,
এই দু‘টি কবরে আযাব হচ্ছে। আর তা বিরাট কোন
কিছুর জন্য নয়। এই জন তো পেশাব থেকে নিজেকে বাঁচাত না আর ঐ জন চোগলখুরী কর বেড়াত। [সূনান
তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ না
করাঃ
আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলা হল,
আপনাদের নাবী আপনাদের সবকিছুই শিখান এমনকি দেখা যায় ইস্তিঞ্জায় কেমন
করে বসতে হবে তাও শিখিয়ে থাকেন। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার
দিকে মুখ করতে, ডান হাতে ইস্তিঞ্জা করতে, তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে এবং পশুর মল ও হাড্ডী দিয়ে ইস্তিঞ্জা
করতে নিষেধ করেছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
স্থির পানিতে পেশাব করা
নিষেধঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা শেষে আগমনকারী
এবং (কিয়ামত দিবসে) অগ্রগামী। এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা
প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে। [সহীহ বুখারী
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২৩৮]
জ্বীনদের খাবারঃ
তাঁর উস্তাদ হাফস ইবনু গিয়াছের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, তোমরা গোবর এবং হাড্ডি দ্বারা
ইস্তিঞ্জা করবে না। কারণ এগুলো তোমাদের ভাই জ্বীনদের খাবার। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ না করাঃ
আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ ডান হাতে
লজ্জাস্থান স্পর্শ করতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। [সূনান
তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
যে শিশু শক্ত খাবার ধরেনি
তার পেশাব সম্পর্কেঃ
আবূ সাম্হ (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম -এর খাদিম ছিলাম। তাঁর নিকট হাসান অথবা হুসায়ন কে নিয়ে আসা হল। সে তাঁর
বুকের উপর পেশাব করে দেয়। উপস্থিত লোকেরা তা ধোয়ার উদ্যোগ নিলে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাতে পানি ছিটিয়ে দাও। কেননা শিশু কন্যা
সন্তান হলে তার পেশাব ধৌত করতে হয় এবং পুত্র সন্তান হলে তার পেশাবের উপর পানি
ছিটিয়ে দেয়াই যথেষ্ট। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মু কুরয (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (দুগ্ধপোষ্য শিশু) বালকের
পেশাবের উপর পানি ছিটাতে হবে এবং বালিকার পেশাব ধুতে হবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূস সামহ (রাঃ) [তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর খাদেম ছিলেন] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছোট মেয়ের প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হয় আর ছোট ছেলের
প্রস্রাবের উপর পানি ছিটাতে হয়। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি আমার
দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্রকে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম।
শিশুটি তাঁর কোলে পেশাব করে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন এবং পরে তা পেশাবের স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। [সূনান
তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
স্বপ্নদোষ হওয়াঃ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সে
স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ করতে পারছে না-অথচ তার কাপড় (বীর্যপাতের কারণে) ভেজা মনে
হয়। জবাবে তিনি বলেন, তাকে গোসল করতে হবে। অতঃপর তাকে এক
ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তার স্বপ্নদোষ হয়েছে
বলে মনে হয়,কিন্তু তার কাপড়ে কোন চিহ্ন দেখতে পায় না। জবাবে
তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তির গোসল করার প্রয়োজন নাই। অতঃপর উম্মে
সুলাইম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেন, মহিলাদের যদি স্বপ্নদোষ হয়- তবে
তাদের গোসল করতে হবে কি? জবাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন হা, (গোসল করতে হবে)। কেননা মহিলারাও
পুরুষদের অর্ধাংগিনী বিশেষ। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা,
হাদিস নম্বরঃ ২৩৬,
হাদিসের মানঃ হাসান]
আয়িশা
(রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) -এর মাতা উম্মে সুলাইম (রাঃ) যিনি আনসারী
মহিলা ছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আল্লাহ্ তা’আলা সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি- কোন
মহিলার পুরুষের ন্যায় স্বপ্নদোষ হলে সে গোসল করবে কি না? আয়িশা
(রাঃ) বলেন, জবাবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ইরশাদ করেনঃ হ্যাঁ, তাকে গোসল করতে হবে, যদি সে বীর্যের চিহ্ন দেখতে পায়। . আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি উম্মে সুলাইম (রাঃ) -কে লক্ষ্য করে বলি, আপনার
জন্য দুঃখ হয়, - মহিলারা কি এরূপ দেখে থাকে (অর্থাৎ তাদের কি
স্বপ্নদোষ হয়)? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম আমার নিকট এসে বলেনঃ হে আয়িশা। তোমার ডান হাত ধূলায় ধূসরিত হোক।
স্ত্রীলোকদের বীর্য না থাকলে সন্তান কিরূপে মাতার আকৃতি প্রাপ্ত হয়? [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৩৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ কেউ ঘুম থেকে জোগে (তার শরীরে
বা কাপড়ে) বীর্যের আর্দ্রতা দেখতে পেল কিন্তু স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে তার মনে পড়ে না
তার সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি
বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে। এমনিভবে কারো যদি স্বপ্নদোষের কথা মনে পড়ে কিন্তু জেগে
কোনরূপ আর্দ্রতা দেখতে না পায় তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে না। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা
তখন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! মেয়েদের কেউ যদি এই ধরনের কিছু দেখে তবে তাদেরও কি গোসল
করতে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ
হ্যাঁ,মেয়েরা তো পুরুষেরই অংশ। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আমর ইবনু বুজদান থেকে আবূ যার (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি
বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গনীমতের মাল (বকরীর পাল) জমায়েত হয়। তিনি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আবূ যার! তুমি এগুলো মাঠে নিয়ে
যাও। তখন আমি সেগুলিকে রাবাযা নামক স্হানে নিয়ে যাই সেখানে আমি অপবিত্র হয়ে পড়ি।
এমতাবস্থায় সেখানে আমি ৫/৬ দিন (গোসল ব্যতীত) অবস্হান করি অতঃপর আমি নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে প্রত্যাবর্তন করি। তখন তিনি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ হে আবূ যার! এ সময় আমি (লজ্জায়)
নিশ্চুপ থাকি। তিনি পুনরায় বলেনঃ তোমার মাতা তোমার জন্য ক্রন্দন করুক এবং তোমার
মাতার জন্য আফসোস। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা নাম্নী দাসীকে ডেকে
পানি আনার নির্দেশ দেন। সে পানি ভর্তি একটি বড় পাত্র আমার সম্মুখে হাযির করে এবং
সে একটি কাপড়ের পর্দার দ্বারা একদিকে আমাকে আঁড়াল করে এবং অপর দিকে আমি উটের পিঠের
আসন রেখে পর্দা করি। অতঃপর আমি গোসল করি এ সময় আমার মনে হয় যেন আমার কাঁধ হতে একটি
পর্বত পরিমাণ বোঝা অপসারণ করলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
পবিত্র মাটি মুসলমানদের জন্য (পানির দুস্প্রাপ্যতার সময়) পানির সমতুল্য (পবিত্রতা
অর্জনের জন্যে)। যদি দশ বৎসরকালও পানি দুস্প্রাপ্য হয় তবে এ সময় পবিত্রতা অর্জনে
পাক মাটই যথেষ্ট। অতঃপর যখন পানি পাবে, তখন গোসল করবে। কেননা
এটাই উত্তম ব্যবস্হা। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৩২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আব্দুর রহমান ইবনুজ-জুবায়ের থেকে আমর ইবনুল আস্ (রাঃ)-র
সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাতু সানাসিলের যুদ্ধের
সময় একদা শীতের রাতে আমার সপ্নদোষ হয় আমার আশংকা হল যে, যদি
এই সময় আমি গোসল করি তবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমি তায়াম্মুম করে আমার সাথীদের সাথে
ফজরের নামায আদায় করি। প্রত্যাবর্তনের পর আমার সংগী সাথীরা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আমর! তুমি নাপাক অবস্হায় তোমার সথীদের সঙ্গে নামায আদায় করলে?
আমি তাকে আমার গোসল, করার অক্ষমতার কথা জ্ঞাপন
করলাম এং আরো বললাম, আমি আল্লাহ্ তা'আলাকে
বলতে শুনেছিঃ তোমরা নিজেদের হত্যা কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত
মেহেরবান-(সূরা নিসা ২৯)। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম কিছু না বলে মুচকি হাসি দেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মে
সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না, আমাকে বলুন, কোন নারী যদি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা পুরুষ দেখে থাকে, এতে কি তারও গোসল ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ,
যখন সে বীর্য দেখবে। এতে উম্মু সালামা হেসে দিলেন, তিনি বললেনঃ নারীরও কি স্বপ্নদোষ হয়? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা না হলে সন্তান
মায়ের সদৃশ হয় কিরূপে? [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৯৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষের বীর্য গাঢ় সা’দা বর্ণের এবং নারীর বীর্য পাতলা হলদে
বর্ণের। এতদুভয়ের যেটাই পূর্বে নির্গত হয় সন্তান তার সদৃশ হয়ে থাকে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২০০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
গোসল ফরয না হওয়াঃ
ইব্রাহীম ইবনু মূসা আবদুল্লাহ্ ইবনু সা’দ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গোসল ফরজ হওয়ার
কারণ জিজ্ঞাসা করি এবং পেশাবের পর মযী নির্গত হওয়ার ব্যাপারেও জিজ্ঞাসা করি তিনি
বলেন, এটা হল মযী এবং যখন পুরুষাঙ্গ থেকে মযী নির্গত হয়,
তখন তুমি তোমার লজ্জাস্থান ও অন্ডকোষদ্বয় ধৌত করবে, অতঃপর নামায আদায়ের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২১১,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ মযী
বের হলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে আর মনী বের হলে গোসল করতে হবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাহল ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মযীর কারণে আমি অত্যন্ত কষ্টে ছিলাম। এর জন্য
আমকে বহুবার গোসল করতে হত। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই কথা
বললাম এবং এই সম্পর্কে বিধান জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এই ক্ষেত্রে তোমার জন্য
উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই যথেষ্ট। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, যদি তা আমার কাপড়ে লাগে তবে কি হবে? তিনি বললেনঃ এক অঞ্জলী পানি নিবে আর যেখানে যেখানে লেগেছে
বলে দেখতে পাবে সেখানে ঐ পানি ছিটিয়ে দিবে। [সূনান তিরমিজী
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৫, হাদিসের মানঃ হাসান]
সহবাসের দোয়াঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ তাঁর স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে
যদি বলে, بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا (আল্লাহর
নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং যা আমাদেরকে দান
করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ)- তারপর (এ মিলনের দ্বারা) তাদের কিসমতে কোন
সন্তান থাকলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৪৩]
একবার স্ত্রী সঙ্গমের পর পুনরায় স্ত্রী সহবাসের পূর্বে উযু করাঃ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন
ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর সাথে একবার সহবাসের পর পুনরায় সংগম করতে চাইলে- সে যেন
মাঝখানে একবার উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২২০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন . উমার
ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে আরজ
করেন যে,তিনি রাতে স্ত্রী সঙ্গমে
অপবিত্র হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ - তোমার গুপ্তাংগ
ধৌত কর উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর, অতঃপর ঘুমাও। [সূনান
আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২২১,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমাদে
মধ্যে কেউ একবার স্ত্রীর সাথে মিলনের পর পুনরায় মিলিত হতে চাইলে সে যেন মাঝে উযূ
(ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
হায়য বিশিষ্ট মহিলার সাথে সঙ্গম
হারামঃ
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কেউ হায়য
বিশিষ্ট মহিলার সাথে সঙ্গম করলে বা স্ত্রীর পশ্চাৎদ্বার দিয়ে মিলিত হলে বা গণকের
কাছে গেলে সে যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি অবতীর্ণ
বিষয়সমূহের সাথে কুফরী করল। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৩৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সহবাসের পর অযূ করে ঘুমানোঃ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
-কে অপবিত্র ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, সে কি
ঘুমাতে বা পানাহার করতে পারে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, যদি সে তার সালাতের উযূ (ওজু/অজু/অযু)র ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস
নম্বরঃ ৫৯২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) একবার
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, তিনি
রাতে অপবিত্র হন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন,
তুমি (তখন) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং তোমার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে
তারপর ঘুমাবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৫৯৭]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুনুবী অর্থাৎ গোসল
ফরয অবস্থায় পানি স্পর্শ না করেও কোন কোন সময় ঘুমিয়ে পড়তেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া সম্পর্কে নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেছিলেন হ্যাঁ
পারে, যদি সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১২০, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত অবস্থায় নিদ্রার
ইচ্ছা করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আর যখন পানাহারের ইচ্ছা করতেন, তখন উভয় হাত ধুতেন, তারপর পানাহার করতেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৫৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
গোসল ফরজ/ওয়াজিব হওয়াঃ
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেছেন পরস্পরের খাতনার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, যখন কোন ব্যাক্তি তার কাম
স্পৃহা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর উপর -সমাগম হবে এবং পুরুষের গুপ্তস্থান
স্ত্রী-অংগে -প্রবেশ করাবে (সহবাস করবে)- তার উপর গোসল ওয়াজিব হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২১৬,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বীর্যপাত হলে গোসল ওয়াজিব হয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬০৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও
দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু বিপরীত লিঙ্গ
পরস্পর মিলিত হলে এবং পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ অদৃশ্য হয়ে গেলেই গোসল ওয়াজিব হয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস
নম্বরঃ ৬১১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
তায়াম্মুমঃ
সা'ঈদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু
আবযা তাঁর পিতা [আবদুর রহমান (রাঃ)] থেকে বর্ণিত, এক
ব্যাক্তি ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইলঃ একবার আমার গোসলের প্রয়োজন
হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব
(রাঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা স্মরণ আছে যে, এক সময়
আমরা দু'জন সফরে ছিলাম এবং দু'জনেরই
গোসলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। আপনি তো সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন না। আর আমি
মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ
তোমার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। এ বলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'হাত মাটিতে মারলেন এবং দু'হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা
ও উভয় হাত মাসেহ করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/তায়াম্মুম, হাদিস নম্বরঃ ৩৩১]
আবূ রাজা’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেনঃ ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন আল-খুযা’ঈ (রাঃ) বলেছেন যে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক
ব্যাক্তিকে জামা’আতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় না করে পৃথক
দাড়িয়ে থাকতে দেখলেন। তিনি লোকটিকে ডেকে বললেনঃ হে অমুক! তুমি জামা’আতে সালাত আদায় করলে না কেন? লোকটি বললোঃ ইয়া
রাসূলাল্লাহ! আমার গোসলের প্রয়োজন হয়েছিল, কিন্তু পানি নেই। তিনি বললেনঃ তুমি পবিত্র মাটির ব্যবহার (তায়াম্মুম)
করবে। তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৭/তায়াম্মুম, হাদিস নম্বরঃ ৩৪১]
জানাবাতের গোসলঃ
মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর জন্য গোসলের পানি রেখে দিলে তিনি অপবিত্রতার গোসল করেন। তিনি তাঁর
বাম হাত দিয়ে পানির পাত্রটি কাত করে তাঁর ডান হাতে পানি ঢালেন এবং দু হাতের তালু
কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন, অতঃপর নিজের লজ্জাস্থান ধৌত
করেন, অতঃপর হস্তদ্বয় মাটিতে ঘষেন, অতঃপর
কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। তিনি তাঁর মুখমন্ডল তিনবার এবং দু' হাত তিন বার ধুলেন, অতঃপর নিজের সমস্ত শরীরে পানি
ঢালেন, তারপর একটু সরে গিয়ে তাঁর দু পা ধৌত করেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস
নম্বরঃ ৫৭৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
জন্য গোসলের পনি রাখলাম। তিনি জানাবতের গোসল করলেন। প্রথমে বাম হাতে পানি রাখা
পাত্রটি কাত করে ডান হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত কবজা পর্যন্ত ধৌত করলেন।
পরে পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে লজ্জাস্থানে পানি ঢাললেন এবং দেয়ালে কিংবা মাটিতে
হাত দু‘টি ঘষে ধুইলেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা ও দুই হাত ধৌত করলেন। পরে
মাথায় তিনবার পানি ঢাললেন, তারপর সারা শরীরে পনি ঢেলে দিলেন।
এরপর কিছুটা সরে দুই পা ধুইলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসল করতে
ইচ্ছা করলে পাত্রে হাত ঢুকানোর আগে প্রথমে তা ধুয়ে নিতের। এরপর লজ্জাস্থান ধুইতেন
ও সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। পরে সবগুলি
লোম পনিতে ভিজাতেন ও মাথায় তিন অঞ্জলী পানি ঢেলে দিতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম কে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার
চুলের বেণী তো খুব শক্ত করে বাঁধি। জানাবতের গোসলের জন্য কি তা খুলে ফেলতে হবে?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, মাথায় তিন অঞ্জলী পনি
ঢেলে দিবে। পরে সারা শরীরে পানি প্রবহিত করবে। বাস এতেই তুমি পাক হয়ে যাবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একজন মুসলিম মহিলা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার
মাথার চুল অতি ঘন। কাজেই অপবিত্রতার গোসলের সময় আমি কি বেনী বা খোপা খুলে দেব?
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার জন্য তার
উপর তিনবার তিনকোশ পানি ঢালাই যখেষ্ট। রাবী যুহায়েরের বর্ণনায় আছে- তুমি তোমার
চুলের উপর তিনবার পানি ঢালবে। অতঃপর তোমার সর্বাঙ্গে পানি ঢালবে; তবেই তুমি পবিত্র হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৫১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
পানি পাওয়া না গেলেঃ
আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দশ বছর
ধরেও যদি পানি না পায় তা হলেও পাক মাটি একজন মুসলিমের জন্য পবিত্রতার উপকরণ বলে
বিবেচ্য হবে। অতঃপর যখন সে পানি পাবে তখন তা দিয়ে সে তার শরীর ধুয়ে নিবে। এ-ই তার
জন্য উত্তম। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১২৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]
নাপাক অবস্থায় স্থির পানিতে
গোসল করা নিষেধঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমাদের কেউ যেন নাপাক অবস্থায় স্থির পানিতে
গোসল না করে। রাবী বলল, হে আবূ হুরায়রা! তখন সে কিভাবে
(গোসল) করবে? তিনি বললেন, পানি তুলে
নিয়ে করবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৫১]
কাপড়ে বীর্য লেগে গেলেঃ
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কখনো
কখনো আমি নিজ হাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে
বীর্য খুঁটে তুলে ফেলতাম। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলো, কোন ব্যাক্তি যে কাপড়
পরে সহবাস করেছে সে কাপড় পরেই কি সে সালাত আদায় করতে পারে? তিনি
বলেনঃ হ্যাঁ, তবে তাতে নাপাকী দৃষ্টিগোচর হলে তা ধুয়ে নিতে
হবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ,
হাদিস নম্বরঃ ৫৪২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
সাহল ইবনু হুসাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার অত্যধিক মযী নির্গত হত তাই আমি অধিক
গোসল করতাম। অতঃপর আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে
জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, মযী বের হওয়ার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু)
করাই যথেষ্ট। তখন আমি বলি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার কাপড়ে মযী
লাগলে কি করব? তিনি বলেনঃ কাপড়ের যে যে স্থানে মযীর নিদর্শন
দেখবে, এক আজলা পানি নিয়ে উক্ত স্থান হালকাভাবে ধুয়ে নিবে,
যাতে তা দূরীভূত হয়। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২১০,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ আমার মনে আছে যে, আমি রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে জানাবাতের নাপাকী ঘষে ফেলার অতিরিক্ত
কিছু করতাম না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৯৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি তাঁর বোন এবং রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পত্নী . উম্মে হাবীবা (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করেন-
স্ত্রী সংগমকালে পরিহিত বস্ত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি নামায
পড়তেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ পরতেন- যদি
তাতে নাপাক কিছু না দেখতেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৬৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইব্রাহীম থেকে হাম্মামের সূত্রে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাঃ)
-র মেহমান ছিলেন। তাঁরি সপ্নদোষ হওয়ার পর তিনি কাপড় হতে বীর্য ধৌত করছিলেন। তা
আয়িশা - (রাঃ) -এর বাদী দেখে তাকে (আয়শাকে) অবহিত করেন। তখন আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাপড় হতে এটা খুঁচে তুলে ফেলে
দিতাম। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ),
অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৭১,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুসলমান কখনও অপবিত্র হয় নাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মদ্বীনার কোন এক রাস্তায় রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অপবিত্র অবস্হায় আমার সাক্ষাত হয়। আমি
একটু পিছনে হটে যাই। অতঃপর গোসল করে তাঁর খেদমতে আসি। তখন বলেনঃ আবূ হুরায়রা! তুমি
এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বলি! আমি অপবিত্র ছিলাম- এমতাবস্হায়
আপনার নিকট উপবেশন করা ভাল মনে করিনি। তিনি বলেনঃ সুবাহানাল্লাহ্! মুসলমান কখনও
অপবিত্র হয় না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৩১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার
সাক্ষাৎ হয়। তখন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থান।
তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে আমি চুপি চুপি সরে পড়লাম
এবং গোসল করে পরে তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেনঃ কোথায় ছিলে? কই গিয়েছিলে? আমি বললামঃ আমি অপবিত্র ছিলাম। নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু‘মিন কখনও (এমন) অপবিত্র হয় না, (যে, তাকে স্পর্শ করা যাবে না)। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১২১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
হায়েয ও ইসতিহাযা থেকে পবিত্রতাঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আসমা (রাঃ) একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হায়েযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন,
তোমাদের কেউ পানি এবং বরই-এর পাতা নিয়ে সুন্দরভাবে পবিত্র হবে।
তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভালভাবে রগড়ে ফেলবে যাতে সমস্ত চুলের গোড়া পর্যন্ত
পৌছে যায়। তারপর তার ওপর পানি ঢেলে দিবে। তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় নিয়ে তদ্বারা
পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বলল তা দিয়ে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন
করবে। অতঃপর আয়িশা (রাঃ) তাঁকে যেন চুপিচুপি বলেন দিলেন, রক্ত
বের হবার জায়গায় তা ঝুলিয়ে দিবে। অতঃপর তিনি জানবাতের গোসল সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা
করল। তিনি বললেন, পানিদ্বারা সুন্দরভাবে পবিত্র হবে। তারপর
মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভাল করে রগড়ে ফেলবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌছে যায়। তারপর
সর্বাঙ্গে পানি বইয়ে দিবে। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আনসারদের
মহিলারা কত ভাল! লজ্জা তাদেরকে দ্বীন-এর জ্ঞান থেকে ফিরিয়ে রাখে না। [সহীহ মুসলিম
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৩]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার ইসতিহাযা হয়েছে (সব সময়ই রক্ত ঝরে) কখনো আমি পবিত্র
হই না। আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দেব? তিনি বললেন,
না, ওটা শিরার (ধমনী) রক্ত, হায়িয নয়; যখন হায়িয আসবে তখন সালাত ছেড়ে দেবে আর
যখন তা চলে যাবে তখন তোমার শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং সালাত আদায় করবে। [সহীহ মুসলিম
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬]
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন হায়য আরম্ভ হয় তখন সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিবে আর যখন তা
বন্ধ হয়ে যায় (অর্থাৎ যখন তা অতিবাহিত হয়) তখন গোসল করবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২০২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
মুআযা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা আয়িশা (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করে যে, ঋতুবতী
স্ত্রীলোকেরা ঋতুকালীন সময়ে পরিত্যক্ত নামাযের কাযা আদায় করবে কি? তিনি বলেন, তুমি কি হারূরা গ্রামের অধিবাসিনী?
(জেনে রেখ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি - ওয়া সাল্লামের সময়ে
আমরা ঋতুগ্রস্ত হলে- ঐ সময়ের কাযা নামায আদায় করতাম না এবং উক্ত সময়ের কাযা নামায
আদায়ের জন্য আমরা আদিষ্টও হইনি। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৬২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কারো কাপড় ও পরিধেয় বস্ত্রে যদি হায়েযের রক্ত
লাগে তবে সে কি করবে? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেনঃ তোমাদের কারো পরিধেয় বস্ত্রে রক্ত হল লাগলে প্রথমে তা খুঁচে তুলে ফেলবে
অতঃপর পানি দিয়ে ধৌত করার পর তা পরিধান করেই নামায আদায় করবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ
১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৬১,
হাদিসের মানঃ সহিহ]
উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হলদে ও মেটে বর্ণের স্রাব দেখলে
তাকে কিছুই মনে করতাম না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও
তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]
রক্ত অপবিত্র এবং তা ধোয়ার
পদ্ধতিঃ
আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমাদের কারো কাপড়ে
হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কি করবে? তিনি বললেন, (প্রথমে) তা নখ দিয়ে আঁচড়ে ফেলবে। এরপর পানি দিযে রগড়িয়ে ফেলবে, তারপর ধুয়ে ফেলবে, তারপর তাতে সালাত (নামায/নামাজ)
আদায় করবে। [সহীহ মুসলিম
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৬৮]
আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক
মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ!
বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কি করবে?
তিনি বললেনঃ সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে
রগড়াবে এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলবে। এরপর সেই কাপড়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। [সহীহ
বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২২৭]
কুকুরের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে
বিধানঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুরে মুখ লাগিয়ে পান করবে, তখন সে পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি হলো, সাতবার ধুয়ে
ফেলা। প্রথমবার মাটি দ্বারা। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৪৫]
ইসলামে জানার ক্ষেত্রে লজ্জা না
করে শিখে নেয়া কল্যাণকর। আল্লাহ আমাদের ইসলামের বিধান অনুযায়ী পবিত্রতা রক্ষা করে
চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
No comments:
Post a Comment